খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের দক্ষতা বাড়াতে ফরিদপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের দক্ষতা বাড়াতে ফরিদপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ফরিদপুরে নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদনে কৃষকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ সম্পর্কে গ্রামীণ কৃষকদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতেই এ আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরে সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি) এর শাখা কার্যালয়ে “নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে এসডিসি।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষকদের আরও সচেতন হতে হবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে গ্রামীণ এলাকার ২৫ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ সবজি উৎপাদনের আধুনিক কৌশল, সঠিক সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ, বীজ নির্বাচন, মাটি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং ফসল সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টওয়েস্ট সিড নলেজ ট্রান্সফার ফাউন্ডেশনের টেকনিক্যাল ম্যানেজার ইমাদ মোস্তফা প্রশিক্ষণে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা, সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে সার প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিরাপদ সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন, তেমনি ভোক্তারাও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পাবেন।

এছাড়া এসডিসির কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া হাসান, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজিদ আহমেদ এবং কানাইপুর শাখার ব্যবস্থাপক উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মাঠপর্যায়ে নিরাপদ ফসল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের কৃষিকাজে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। নিরাপদ ও লাভজনক চাষাবাদ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিতভাবে কৃষিকাজ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসডিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, পিকেএসএফের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ভাঙ্গায় এসএসসি ‘ফরম ফ্লাপ’ কাণ্ড: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় এসএসসি ‘ফরম ফ্লাপ’ কাণ্ড: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমির প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার মাত্র তিন দিন আগে বহিরাগতসহ অযোগ্য ২১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ভাঙ্গা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এক অভিভাবক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়টির নিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৩৯ জন। পরে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে দুই থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য আরও ২৮ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়। এর পর পরীক্ষার মাত্র তিন দিন আগে আরও ২১ জন অযোগ্য ও বহিরাগত শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও এর একটি অংশ মাত্র বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হয়েছে।

এ অনিয়মের কারণে পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রতিদিন ২১টি করে প্রশ্নপত্র কম পড়ে যায়। এতে পরীক্ষাকেন্দ্র ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হলে তিনি অনলাইনে যাচাই করে প্রশ্নপত্র সংকটের সত্যতা পান। এরপর ট্রেজারির মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রশ্নপত্র পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গায় পাঠানো হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ভাঙ্গা গার্লস স্কুলের হল সুপার অরুণ দত্ত বলেন,
“প্রশ্নপত্র কম পড়ার বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। পরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অতিরিক্ত প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়।”

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির, সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির, কয়েকজন সহকারী শিক্ষক, কম্পিউটার শিক্ষক মো. শাহআলম এবং অভিভাবক সদস্য সাজিব তালুকদার সজল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির বলেন, “দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারিনি। আমি ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ করেছি। বাকি ২১ জনের ফরম কীভাবে পূরণ হয়েছে, তা আমি জানি না। আমার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কয়েকজন শিক্ষক এসব কাজ করেছেন। এ নিয়ে আমি বাধাও দিয়েছি। এমনকি আমাকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির বলেন, “প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই ২১ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে। ফরম পূরণের কিছু টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা হয়েছে। কোচিং ফি বাবদ চার হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে, যা কয়েকজন শিক্ষক ভাগ করে নিয়েছেন।”

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য সাজিব তালুকদার সজল জানান, “অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখার স্বার্থে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে সুপারিশ করেছি। এক নেতার সুপারিশে একজন বহিরাগত পরীক্ষার্থীও নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কে কত টাকা নিয়েছে, তা আমি নিশ্চিত নই।”

এদিকে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, ফরম পূরণের নামে প্রায় ৮ লাখ টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হলেও বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

তাদের অভিযোগ, অযোগ্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি লেখাপড়ার মান ও পাসের হারও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি বিষয়টি এখনই বিস্তারিত জানলাম। যদি কেউ অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মধু খাওয়ার আগে ৫ বিষয় জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
মধু খাওয়ার আগে ৫ বিষয় জেনে নিন

মধু প্রকৃতির অসাধারণ উপহার, যা স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কার্বোহাইড্রেট আর প্রাকৃতিক চিনির সমৃদ্ধ এক উৎস মধু নিরাপদ এবং কার্যকর। তবে খাঁটি মধু ব্যবহার এবং সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধু খাওয়ারে আগে জেনে নিন যে ৫টি বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত—

১. মধুতে প্রাকৃতিক চিনির মাত্রা বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত মধু খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিশেষ ক্ষতিকর হতে পারে।

২. অনেকে মধু গরম পানিতে মিশিয়ে খেয়ে থাকেন, কিন্তু এটি সঠিক নয়। গরম পানির সঙ্গে মধু মেশালে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং কিছু ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

৩. যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের খালি পেটে মধু খাওয়া উচিত নয়। মধু এসিড উৎপাদন বাড়াতে পারে, যা বুক জ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে।

৪. কিছু মানুষ ফুলের পরাগে অ্যালার্জিক হতে পারেন, যেহেতু মধুতে ফুলের পরাগ উপস্থিত থাকতে পারে। যদি অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে, তাহলে মধু খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

৫. বাজারে অনেক নিম্নমানের ও ভেজাল মধু পাওয়া যায়। খালি পেটে মধু খাওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, মধুটি খাঁটি এবং ভেজালমুক্ত। ভেজাল মধু স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পাঁচ বিষয় মাথায় রেখে খাঁটি মধু সঠিকভাবে খেলে আপনি এর সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে পারেন।

 

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব