খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে থানা-উপজেলার দাবি

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে থানা-উপজেলার দাবি

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক থানা ও উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিকে ধারণ করে “রউফনগর থানা” ও “রউফনগর উপজেলা” বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মসূচিতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

শনিবার (১৬ মে) সকালে কামারখালী বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বাগাট, কামারখালী, ডুমাইন, আড়পাড়া ও ওমেক্স ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রউফনগর থানা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আড়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মোল্লা। বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মতিউল মুরাদ, কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান, আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজের সাবেক সদস্য দাউদ হোসেন, প্রফেসর এহেতশাম, সদস্য সচিব প্রফেসর কাজী কামাল, অ্যাডভোকেট খসরুল আলম, বিএনপি নেতা ফরিদুল ইসলাম ফরহাদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুখসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, দক্ষিণ মধুখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নানা সেবা থেকে বঞ্চিত। সাধারণ মানুষকে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের সেবা নিতে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়, ফলে সময় ও অর্থ—দুইই অপচয় হচ্ছে। তারা জানান, এ অঞ্চলে সরকারি কলেজ, শতবর্ষী ডাকবাংলো, বৃহৎ রেল জংশন, নদীবন্দর, মিল-কারখানা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত দিক থেকেও এলাকাটি একটি স্বতন্ত্র থানা ও উপজেলা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে “রউফনগর” নামকরণ করা হলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে থাকবে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারকে রউফনগর থানা ও উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করেন এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

নগরকান্দায় মন্দিরে চুরি হওয়া ২২ কেজি পিতলের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় মন্দিরে চুরি হওয়া ২২ কেজি পিতলের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কেন্দ্রীয় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া দুটি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সাথে এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির ওজন প্রায় ২২ কেজি।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

​গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— জুঙ্গুরদী গ্রামের শিয়াব মুন্সি (২০), শশা গ্রামের রুমান তালুকদার (১৯), ছাগলদী গ্রামের মহাসিন শেখ (২১) এবং জুঙ্গুরদী গ্রামের আবির আহমেদ (১৮)।

​পুলিশ জানায়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী মূর্তি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার রাতে মন্দিরে তালা দিয়ে তিনি বাসায় যান। পরদিন ভোরে এসে দেখেন মন্দিরের তালা ভাঙা এবং ভেতরের পিতলের মূর্তি দুটি নেই। পরবর্তীতে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

​অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে জুঙ্গুরদী গ্রাম থেকে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

​মূর্তি উদ্ধারের সময় নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুহম্মদ আল ফাহাদ, নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ ও ওসি (তদন্ত) রাজ্জাকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুহম্মদ আল ফাহাদ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, চুরি হওয়া মূল্যবান মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা মূর্তি দুটি মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

ভাঙ্গায় বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারীসহ নিহত ২

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারীসহ নিহত ২

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক পথচারী ও মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকার রেল স্টেশন সড়কে হাসানের চায়ের দোকানের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহতরা হলেন— পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলা সদরের এনায়েত শেখের ছেলে মোটরসাইকেল চালক শাকিব শেখ (২২) এবং ভাঙ্গা উপজেলার ছেলাধরচর সদরদী গ্রামের ইলিয়াস শেখের ছেলে পথচারী হৃদয় শেখ (২৩)।

​হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে শাকিব তার মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল ৫৬-১৮-৯৮) নিয়ে ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে বেপরোয়া গতিতে রেল স্টেশন সড়কের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হাসানের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে রাস্তা পার হতে যাওয়া পথচারী হৃদয়কে সজোরে ধাক্কা দেয় মোটরসাইকেলটি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুজনেই সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই পথচারী হৃদয়ের মৃত্যু হয়।

​পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল চালক শাকিবকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট আজাদুর রহমান আজাদ জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পথচারী ও চালক নিহত হয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরে ভোজ্যতেলে অনিরাপদ ড্রাম বন্ধের তাগিদ, কম বয়সে বাড়ছে হৃদ্‌রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভোজ্যতেলে অনিরাপদ ড্রাম বন্ধের তাগিদ, কম বয়সে বাড়ছে হৃদ্‌রোগ

ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে এক এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং অনিরাপদ উপায়ে ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কারণে জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয় সভায়।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ফরিদপুর পৌরসভার সভাকক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক সচিব এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান।

​বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

​সভায় শিক্ষাবিদদের মধ্যে বক্তব্য ও উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ হালিম, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল্লাহ্ আল মাতিন, সরকারি ইয়াসিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস এবং ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

​এছাড়া ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাই জকি, দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, আইনজীবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

​সভায় বক্তারা বলেন, ভোজ্যতেল পরিবহন ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। একদিনে এ ড্রামের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

​বক্তারা আরও জানান, নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্য, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পোড়া তেলে তৈরি খাবার হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে তুলনামূলক কম বয়সেও মানুষ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি রোধে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

​মুক্ত আলোচনায় চিকিৎসক, আইনজীবী, বিএসটিআই কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাজার তদারকি বৃদ্ধি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।

​সভায় ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খাঁন, সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল ও এস এম মনিরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ রবিউল হাসান রাজীবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মো. ইলিয়াছুর রহমান নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ করেন।