খুঁজুন
, ,

ঋণমুক্ত জীবনের জন্য ইসলামের ১০ শিক্ষা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ
ঋণমুক্ত জীবনের জন্য ইসলামের ১০ শিক্ষা

বর্তমান ভোগবাদী সমাজে আমাদের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের ঝোঁক অনেক বেশি। ক্রেডিট কার্ড, ইএমআই আর প্রদর্শনপ্রীতির যুগে মানুষ নিজের অজান্তেই ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে।

এই আর্থিক অস্থিরতা শুধু মানসিক চাপই বাড়াচ্ছে না, বরং পারিবারিক শান্তিও কেড়ে নিচ্ছে। ইসলাম অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আর্থিক সচ্ছলতা ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির ১০টি কার্যকর সূত্র তুলে ধরা হলো:

১. মিতব্যয়িতা অভ্যাসে পরিণত করা

উপার্জনের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ। মিতব্যয়িতা মানুষকে কখনো অভাবী হতে দেয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিতব্যয়ী হয়, সে কখনো নিঃস্ব হয় না।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৪২৬৯)

২. অপচয় ও বিলাসিতা বর্জন

প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করা বা স্রেফ সামাজিক মর্যাদা দেখানোর জন্য খরচ করাকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৭)

৩. মধ্যপন্থা অবলম্বন

ইসলাম কৃপণ হতেও নিষেধ করেছে, আবার সব বিলিয়ে দিয়ে নিঃস্ব হতেও বারণ করেছে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্যতা বজায় রাখাই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা।

আল্লাহ বলেছেন, “আর তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তাদের পদ্ধতি হয় এই দুইয়ের মধ্যবর্তী।”  (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৬৭)

৪. ঋণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা

অপ্রয়োজনে বা বিলাসিতার জন্য ঋণ নেওয়া বিপজ্জনক। ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যু হওয়াকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে দেখা হয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “শহীদের প্রতিটি পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তবে ঋণ ব্যতীত।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৮৬)

৫. ঋণ পরিশোধের দৃঢ় সংকল্প

যদি ঋণ নিতেই হয়, তবে তা দ্রুত পরিশোধের সদিচ্ছা থাকতে হবে। সদিচ্ছা থাকলে আল্লাহ নিজেই তার পথ সহজ করে দেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি পরিশোধের নিয়তে মানুষের সম্পদ (ঋণ) নেয়, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩৮৭)

৬. সুদের মরণফাঁদ থেকে দূরে থাকা

বর্তমান ঋণের সমস্যার বড় কারণ হলো চড়া সুদের কিস্তি। সুদ শুধু অর্থনীতিকে ধ্বংস করে না, বরং এটি আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের শামিল। আল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)

৭. অল্পে তুষ্টি বা ‘কানাআত’

অন্যের উচ্চবিলাসী জীবন দেখে ঈর্ষান্বিত না হয়ে নিজের যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকাই হলো সুখী হওয়ার গোপন মন্ত্র। রাসুল (সা.) বলেছেন, “প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো অন্তরের সচ্ছলতা।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৪৬)

৮. দান-সদকার মাধ্যমে বরকত লাভ

সম্পদ শুধু নিজের জন্য জমিয়ে না রেখে অভাবীদের সাহায্য করলে সম্পদে বরকত আসে এবং বিপদ দূর হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, “সদকা (দান) করলে সম্পদ কমে না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)

৯. ঋণমুক্তির জন্য নিয়মিত প্রার্থনা

ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে নবীজি (সা.) নিয়মিত নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন। এটি মানসিক সাহস ও পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। তিনি বলতেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি পাপ এবং ঋণগ্রস্ততা থেকে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৩৩)

১০. হিসাবরক্ষণ ও স্বচ্ছতা

লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিত হিসাব রাখা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি বা আর্থিক জটিলতা তৈরি না হয়।

আল্লাহ বলেছেন, “হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮২)

আর্থিক স্বাধীনতা মানে অঢেল সম্পদ নয়, বরং তা হলো ঋণমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন জীবন। ইসলামের এই নীতিমালাগুলো অনুসরণ করলে আমরা শুধু ঋণের বোঝা থেকেই মুক্ত হবো না, বরং আমাদের জীবন হবে বরকতময় ও শান্তিময়।

সূত্র : প্রথম আলো

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমার নদে ফিরলো হারিয়ে যাওয়া এ লোকজ উৎসব।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমার নদের চরকান্দা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়।

​সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

​প্রতিযোগিতা চলাকালে কুমার নদের দুই কূলে বসে হাজার হাজার উৎসবমুখর মানুষের মিলনমেলা। আশেপাশের ভবনের ছাদ, নদের দুই ধার এবং ব্রিজের ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে নদে নেমে বাইচ উপভোগ করেন। উৎসবকে ঘিরে নদের দুই তীরে মিষ্টি ও গৃহস্থালি পণ্যের নানা ধরনের ভাসমান দোকানও বসে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচসহ জারি ও সার গানের মতো সব ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।”

​পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী বড় বাইচের নৌকাগুলোকে ফ্রিজ এবং ছোট নৌকাগুলোকে রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।

​ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজালুর রহমান খান পলাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া চিরায়ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে স্থানীয় মধুমতি নদীর বাঁওড় পাড়ে বসেছিল প্রাণবন্ত গ্রাম্য মেলা।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

​স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রামীণ বিনোদন পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ। দুপুর থেকেই শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সের হাজারো দর্শকের ঢল নামে বাঁওড় পাড়ে। নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলো ঝলমলে চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

​বাইচ ও টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গোপালপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোনায়েম খান বলেন, “আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এবং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত এমন ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।