খুঁজুন
, ,

সাংবাদিক আনিচের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক আনিচের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

দেশ টিভি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ফরিদপুর প্রতিনিধি মো. আনিচুর রহমান আনিচের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (০৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংবাদকর্মীরা এ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক আনিচুর রহমান হামলার শিকার হয়েছেন। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হামলার শিকার সাংবাদিক আনিচুর রহমান বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ ও সত্য তুলে ধরা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে আমি বিভিন্ন সময় হুমকি পেয়েছি। পরে হাসপাতালের ভেতরেও আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক এ ধরনের হামলার শিকার না হন।”

মধুখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হোসেন পলাশ বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যারা সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা মূলত সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হোক।”

ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি ও আরটিভির সাংবাদিক আল ইমরান বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা এ ঘটনার দ্রুত বিচার চাই।”

বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি ফরিদপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

উল্লেখ্য, এলজিইডির একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জেরে গত ২০ মে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে সাংবাদিক আনিচুর রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ঠিকাদারসহ ৮-৯ জনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআন ডান হাতে ধরা কি সুন্নত?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র কোরআন ডান হাতে ধরা কি সুন্নত?

পবিত্র কোরআন মুসলমানদের কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার গ্রন্থ। এটি আল্লাহ তায়ালার কালাম।

তাই কোরআনের প্রতি যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও আদব প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
কোরআন শরিফ ডান হাতে ধরা সম্মান ও শিষ্টাচারের দিক থেকে উত্তম।ইসলামে সম্মানজনক ও ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বাম হাতে কোরআন ধরা বা বহন করাকে সর্বাবস্থায় হারাম বলার পক্ষে স্পষ্ট দলিল উল্লেখ করা জরুরি।
বিশেষ কোনো প্রয়োজন বা অপারগতার কারণে কেউ বাম হাতে কোরআন ধরলে, শুধু এ কারণে তাকে গুনাহগার বলা যায় না। তবে কোরআনের প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন এবং অন্যান্য ভালো কাজে ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬৭)

অন্য একটি হাদিসে হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পবিত্রতা অর্জন, আহার গ্রহণ এবং সম্মানজনক কাজে ডান হাত ব্যবহার করতেন। আর শৌচকার্য ও অপবিত্রতা দূর করার কাজে বাম হাত ব্যবহার করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৩)এসব হাদিসের আলোকে ইসলামী ফকিহরা সম্মানজনক ও ভালো কাজের ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে এসব হাদিসে সরাসরি কোরআন শরিফ ডান হাতে ধরার নির্দেশ নেই; বরং সাধারণ শিষ্টাচারের নীতি তুলে ধরা হয়েছে।

ইমাম নববী (রহ.) সম্মানজনক কাজে ডান দিক থেকে শুরু করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। এর উদাহরণ হিসেবে অজু, গোসল, পোশাক পরিধান, মসজিদে প্রবেশ, মিসওয়াক করা ও সুরমা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং পবিত্র কোরআন ডান হাতে ধরা উত্তম আদব ও সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে কোরআন স্পর্শ ও বহনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অবমাননা থেকে বিরত থাকা এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ফরিদপুরে ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

ফরিদপুর পৌর এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাশয় রক্ষাসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানে ১০ দফা দাবিতে পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম।

​রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভা কার্যালয়ে পৌর প্রশাসক ইলিয়াছুর রহমানের কাছে এ স্মারকলিপি দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

​স্মারকলিপিতে পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ, অম্বিকা ময়দানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, পুকুর-জলাশয় দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ, সড়ক ও ফুটপাতের উন্নয়ন, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ু ও ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজায়ন কর্মসূচি জোরদার করার দাবি জানানো হয়।

​স্মারকলিপি পাওয়ার পরপরই পৌর প্রশাসক ইলিয়াছুর রহমান অম্বিকা ময়দান এলাকায় সাউন্ডবক্স বা উচ্চশব্দ সৃষ্টি হয়—এমন কোনো অনুষ্ঠানের অনুমোদন না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। মূলত আশপাশের হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ শান্ত ও শব্দদূষণ মুক্ত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

​এছাড়া পৌর প্রশাসক জানান, কাঠপট্টি ও চকবাজার এলাকার দুটি পুকুর পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নেরও আশ্বাস দেন তিনি।

​স্মারকলিপি প্রদানকালে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র, পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সহ-সভাপতি রেহেনা পিয়া ও মনোয়ারা রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ১০ দফা দাবি বাস্তবায়িত হলে ফরিদপুর পৌরসভার পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি নাগরিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বরখাস্ত

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বরখাস্ত

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

​আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা পুরো ভাঙ্গা উপজেলায় ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়।

​এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে এ অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

​ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার নিজস্ব পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে ওই ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

​স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কর্মকাণ্ড বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “নজরুল ইসলাম আমাদের বিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তার একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পর বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

​তিনি আরও জানান, “ঘটনাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটেনি, ঘটেছে তার নিজস্ব কোচিং সেন্টারে। তবে যেহেতু তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই প্রতিষ্ঠানের নীতি ও নৈতিকতা বজায় রাখতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”