খুঁজুন
, ,

বরযাত্রী আসার আগেই প্রশাসনের অভিযান, মধুখালীতে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
বরযাত্রী আসার আগেই প্রশাসনের অভিযান, মধুখালীতে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা খাবার জব্দ করে একটি এতিমখানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের টাকদিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের আয়োজন চলছিল। বাড়িতে বিয়ের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল এবং বরযাত্রী আসার অপেক্ষা চলছিল। এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত জানান, খবর পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে কনের বয়স বিয়ের জন্য নির্ধারিত আইনগত বয়সের নিচে হওয়ায় বাল্যবিবাহের সত্যতা পাওয়া যায়। এ কারণে বাল্যবিবাহের আয়োজন করায় কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রশাসনের অভিযানের খবর পেয়ে বরপক্ষ আর ঘটনাস্থলে আসার সাহস করেনি। পরে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য রান্না করা খাবার জব্দ করে স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কনের পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, আইনি জটিলতা এবং মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

প্রতিক দত্ত বলেন, “বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক ব্যাধিই নয়, এটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কোনো এলাকায় এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। এর কম বয়সে বিয়ের আয়োজন বা সহযোগিতা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

ভাঙ্গায় নবাগত ইউএইচএফপিওর সঙ্গে পল্লী চিকিৎসকদের মতবিনিময়, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের আশ্বাস

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নবাগত ইউএইচএফপিওর সঙ্গে পল্লী চিকিৎসকদের মতবিনিময়, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের আশ্বাস

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবযোগদানকৃত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সোহাগ শাফির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতারা। এ সময় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, পল্লী চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নবাগত ইউএইচএফপিও ডা. সোহাগ শাফি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পল্লী চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই পল্লী চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পল্লী চিকিৎসকদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এ সময় পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতারা নবাগত কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ও তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুমন মোল্লা, সহ-সভাপতি লিয়াকত শিকদার ও ওবাইদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন লস্কর ও মনিরুজ্জামান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাঁকা এবং কোষাধ্যক্ষ মো. বশির আহমেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সেবা ডেন্টাল অ্যান্ড হোমিও হল (বালিয়াচরা বাজার শাখা-৩)-এর পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, খোকন শেখ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল: ফরিদপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল: ফরিদপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওবায়দুর রহমানের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ফরিদপুর জেলা বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা এবং সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কারাদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরে বিষয়টি দলীয় সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে ওবায়দুর রহমানের প্রায় ৫ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. ওবায়দুর রহমানকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা দলীয় সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে দলীয়ভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে জেলা বিএনপির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের অনৈতিক বা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এর উৎস বা কীভাবে এটি প্রকাশ্যে এলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওবায়দুর রহমানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে জেলা বিএনপির এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের মা-ছেলে-মেয়েসহ নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের মা-ছেলে-মেয়েসহ নিহত ৩

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের সালথার এক পরিবারের মা, ছেলে ও মেয়েসহ তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের কর্তা ও অপর এক ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)। আহত হয়েছেন তানিয়ার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ছেলে নাবিল।

তানিয়া তাহমিনা রিনা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার সেজো মেয়ে। তবে তার স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি সৌদি আরবে বসবাস করছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের পাঁচ সদস্য একটি প্রাইভেটকারে করে রিয়াদ থেকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওনা হন। যাত্রাপথে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর তাদের গাড়িটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তানিয়া, তার ছেলে তাসবিক ও মেয়ে জারা মারা যান। আহত দুইজনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিহতের ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ বলেন, “রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারের পেছনে একটি বড় যানবাহন সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমার বোন, ছোট ভাগ্নে ও ভাগ্নির মৃত্যু হয়। আমার ভগ্নিপতি ও বড় ভাগ্নে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ চলছে।”

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা হবে নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হবে—এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে সালথার আটঘর ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।