খুঁজুন
, ,

দেশের রাজনীতিতে ঘটনাবহুল ৫ তারিখ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
দেশের রাজনীতিতে ঘটনাবহুল ৫ তারিখ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর গত ৫০ বছরে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো দেশের রাজনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদল এনে দিয়েছে। রাষ্ট্র গঠনের পর রাজনৈতিক হত্যা, সামরিক অভ্যুত্থান, ক্ষমতা দখল, নির্বাচনি সহিংসতাসহ ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে।

তবে ২০১৩ থেকে ২০২৫ সাল অবধি দেশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার মধ্যে একটা জায়গায় কাকতালীয় মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আর তা হলো ক্যালেন্ডারের ৫ তারিখ।

জেনে নেওয়া যাক এই সময়ের মধ্যে যেসব ঘটনা গভীর দাগ কেটেছে—

৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ : গণজাগরণ মঞ্চ

বাংলাদেশে যেসব আন্দোলন হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে শাহবাগের ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ আলোচিত, সমালোচিত এবং বিতর্কিত একটি নাম। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিছু অনলাইন অ্যাকিভিস্ট এ আন্দোলন শুরু করলেও খুব দ্রুত এটি রাজনৈতিক মাত্রা পায়।

২০১৩ সালের ৫ ফ্রেব্রুয়ারি সকালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সেদিন বিকেলে ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা শাহবাগে জড়ো হয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। যদিও সে আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সমর্থন দিলেও পরে তাদের সঙ্গেও মতবিরোধ তৈরি হয়।

৫ মে ২০১৩ : শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি

ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ এবং নারী নীতির বিরোধিতা করাসহ ১৩ দফা দাবি তুলে হেফাজতে ইসলাম ওই কর্মসূচি নিয়েছিল। ২০১৩ সালের ৫ মে দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়েছিল সংগঠনটির ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সেই রাতে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের শাপলা চত্বর ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক ভীতিকর পরিবেশ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ–র‍্যাব ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির অভিযানে খালি করা হয়েছিল শাপলা চত্বর।

২০১৩ সালের ৫ মে দিনের সহিংসতা এবং পরদিন ৬ মে দুই দিনে সারা দেশে সহিংসতায় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা ১৩ বলে জানানো হয়। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা সংঘটিত সেই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের একটি তথ্যানুসন্ধান মিশন পরিচালনা করে এবং ৬১ জন নিহত উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

৫ জানুয়ারি ২০১৪ : একতরফা সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশের ইতিহাসে একতরফা নির্বাচনের যেসব নজির রয়েছে তার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অন্যতম। সে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বিএনপি ও তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী সে নির্বাচন বয়কটের প্রেক্ষাপটে অর্ধেকের বেশি আসনে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৪৬টি আসনে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার যখন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন দেশের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দণ্ডিতদের ফাঁসি কার্যকর করা এবং অন্যদিকে বিরোধী দলের ডাকা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি।

নির্বাচনের ১০দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল ১৫ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছিল, ততই সহিংসতাও বাড়তে থাকে। নির্বাচনের আগে ৩৮টি জেলায় প্রায় দেড়শর মতো কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যালট পেপার ও নির্বাচন সরঞ্জাম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এবং অনেকে হতাহত হন।

৫ জুন ২০২৪ : কোটা নিয়ে আদালতের রায়

সর্বপ্রথম বড় ধরনের কোটা সংস্কার আন্দোলন হয় ২০১৩ সালে। এরপর ২০১৮ সালে আন্দোলনের পর আন্দোলনকারীদের পক্ষে পরিপত্র ঘোষণা করা হয়। কিন্তু হাইকোর্ট কর্তৃক এই পরিপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করায় ২০২৪ সালে পুনরায় আন্দোলন শুরু হয়। প্রতিবার আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।

এবার আন্দোলন শুরু হয় গত ৫ জুন। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, হাইকোর্ট সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। ঢাকায় শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন এবং শহীদ মিনারে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

২ থেকে ৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে সংগঠিত হয় এবং সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালের সরকারি বিজ্ঞপ্তি পুনর্বহালের দাবিতে টিএসসি এলাকায় একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

পরের কয়েক দিন দেশের অন্যান্য অংশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে মিছিল-সমাবেশ করে।

পরে ৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৫ জুন দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন ৬ জুলাই শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দেন।

৭ জুলাই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে ঢাকা শহর স্থবির হয়ে যায়। এদিন ছয়টির বেশি ব্যস্ত সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ বিক্ষোভকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। এরপর অবরোধ ও বিক্ষোভ জোরালো হতে থাকে।

১৪ জুলাই সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে গণপদযাত্রা করে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীরা। সেদিন সন্ধ্যায় একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বিতর্কিত মন্তব্য করেন, মন্তব্যে তিনি আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’র সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের পরই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার; কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’।

১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়। সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের হল খালি করতে বলা হয়েছে। সরকার ছয়টি জেলায় বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করে। সেদিন শিক্ষার্থীরা ঢাবি ও রাবির অধিকাংশ হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করে। এদিকে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত এই মৃত্যু এবং মুগ্ধসহ আরও কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনায় আন্দোলনের গতিপথ ভিন্ন দিকে মোড় নিলে সরকার বেকায়দায় পড়ে যায়। পরে ছাত্ররা ১ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড় থাকেন।

৫ আগস্ট ২০২৪ : শেখ হাসিনার পতন

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লং মার্চ টু ঢাকা ছিল সোমবার (৫ আগস্ট)। এদিন সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতা রাজধানী ঘিরে ফেললে এক দফা দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। পদত্যাগ করে বেলা আড়াইটার দিকে থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টার শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাত্রা করে। তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানা ছিলেন। হেলিকপ্টারটি ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের ক্ষমতার অবসান হয়। এদিন ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে উল্লাস করে।

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ : ধানমন্ডি ৩২

সম্প্রতি ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনার অনলাইন ভাষণের ঘোষণা দেন। এর পাল্টা জবাবে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর অভিমুখে ‘বুলডোজার মিছিলের’ ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ধানমন্ডি-৩২’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকেই শাহবাগ থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর অভিমুখে ছাত্র-জনতার জমায়েত শুরু হয়।

রাত ৮টার দিকে ৩২ নম্বর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করেন। ভাঙচুর চালানোর এক পর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হতে থাকেন। তারা মিছিল করেন এবং স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। রাত থেকে বুলডোজার দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের তিনতলা বাড়িটির সামনের অংশ অনেকটাই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ফরিদপুরে চুরির বেঞ্চ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা, যুবকের চুল-গোঁফ কেটে দিল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরির বেঞ্চ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা, যুবকের চুল-গোঁফ কেটে দিল জনতা

ফরিদপুর সদর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চুরি হওয়া বেঞ্চের লোহার ফ্রেম ও সাইনবোর্ড বিক্রি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন সাব্বির খান (২৫) নামের এক যুবক। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আটকে রেখে তাঁর মাথার চুল ও গোঁফ কেটে দিয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাব্বির ওই এলাকার আবুল খানের ছেলে এবং বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

​স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার স্কুল বন্ধ হওয়ার পর সুযোগ বুঝে বিদ্যালয়ের চারটি বেঞ্চের লোহার ফ্রেম, স্টিলের সাইনবোর্ড ও লোহার গ্রিল চুরি করে সাব্বির। বৃহস্পতিবার সকালে এসব মালামাল কানাইপুর বাজারের একটি ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করতে যান তিনি। সেখানে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের খবর দেন।

​পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা এসে মালামালসহ সাব্বিরকে হাতেনাতে আটক করেন। সেখান থেকে একটি নছিমন গাড়িতে করে তাঁকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাব্বিরকে বসিয়ে ব্লেড দিয়ে তাঁর চুল ও গোঁফ কেটে দেয়। এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

​খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আটক ঘর থেকে কৌশলে পালিয়ে যান ওই যুবক।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাসন্তী দত্ত বলেন, “বন্ধের সুযোগে মালামালগুলো চুরি হয়েছিল। আমরা সকালে চুরির বিষয়টি জানতে পারি। পরে স্থানীয়রা চোরকে আটক করলে তাঁকে এনে একটি কক্ষে আটকে রেখে ৯৯৯-এ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসার আগেই তিনি পালিয়ে যান। তবে এর মাঝে এলাকার কিছু লোক তাঁর চুল ও গোঁফ কেটে দেয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”

​ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যায়। লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার বায়েজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার বায়েজিদ

অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সিদ্ধান্তে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলটির সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

​জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপায়ে শিশুদের বেবি জেল এবং প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উত্তেজক আয়ুর্বেদিক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

​অভিযান পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ইনসানা তানজীন ইকো। ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডাদেশ ঘোষণার পরপরই তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি।

​এদিকে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে এনসিপি। কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে (স্মারক: এনসিপি/কেন্দ্র/শোকজ/২০২৫-২০২৬/৬৩) বায়েজিদ হোসেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বায়েজিদ হোসেনকে অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।

​এর আগে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সাইফ হাসান খাঁন জানিয়েছিলেন, অন্যায়ের সঙ্গে দলের কোনো আপস নেই এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তা কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।

​দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করছেন।

শিশু একাডেমির ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটিতে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত

শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
শিশু একাডেমির ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটিতে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত

ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ সাংস্কৃতিক সংগঠক নিরব ইমতিয়াজ শান্ত।

কিশোর বয়স থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নিরব ইমতিয়াজ শান্ত অভিনয়, আবৃত্তি, নাট্যচর্চা, নাট্যরচনা ও নির্দেশনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনায়ও যুক্ত রয়েছেন। শিশু-কিশোর ও তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করে আসছেন তিনি।

বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নাট্যকুঞ্জ, ফরিদপুরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠন দুটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন।

নাট্যচর্চার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয়। মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক লেখা ও নির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। তার নেতৃত্বে নাট্যকুঞ্জ শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়ে নাট্যচর্চা, সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত বলেন, তরুণ বয়সে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জেলা পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়াটা তার জন্য সম্মানের। এ দায়িত্বের জন্য তিনি ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, তার ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। শিশুদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নিজের অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিশোর বয়সে পথচলা শুরু করে ধীরে ধীরে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিরব ইমতিয়াজ শান্তর নতুন এই দায়িত্বকে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।