খুঁজুন
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩

আপনার সিভি খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিয়োগকর্তারা যে ৮ বিষয় লক্ষ্য করেন?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
আপনার সিভি খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিয়োগকর্তারা যে ৮ বিষয় লক্ষ্য করেন?

বর্তমান সময়ের চাকরির বাজার আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক। আপনার হাতে হয়তো দারুণ একটি ডিগ্রি আছে অথবা এক দশকের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবুও অনেক সময় মনে হয় যেন আপনি শূন্যে চিৎকার করছেন; কোথাও কোনো সাড়া মিলছে না। আমরা সাধারণত সিভি তৈরি করার সময় কি-ওয়ার্ড বা এআই অ্যালগরিদমের দিকে বেশি নজর দিই, কিন্তু যখন একজন রক্ত-মাংসের মানুষ আপনার ফাইলটি ওপেন করেন, তখন আসলে কী ঘটে?

সম্প্রতি একজন সাবেক রিক্রুটারের একটি ভাইরাল পোস্ট থেকে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেছে, একজন নিয়োগকর্তা আপনার সিভি খোলার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে আপনি পরবর্তী ধাপের জন্য যোগ্য কি না। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই আপনার সিভির কিছু নির্দিষ্ট দিক তাদের নজর কাড়ে, যা হয়তো আপনি নিজেও কখনো খেয়াল করেননি। আপনার স্বপ্নের চাকরিতে ডাক পেতে হলে সিভির সেই ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

১. পদমর্যাদার তাৎক্ষণিক স্পষ্টতা

নিয়োগকর্তাদের হাতে গোয়েন্দাগিরি করার মতো সময় নেই। আপনার সিভি খোলার সাথে সাথেই যেন বোঝা যায় আপনি ঠিক কোন লেভেলের (জুনিয়র, মিড-লেভেল নাকি সিনিয়র) পদের জন্য যোগ্য। আপনার কাজের শিরোনাম এবং দায়িত্বগুলো যেন প্রথম লাইন থেকেই আপনার ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। যদি আপনি মিড-লেভেল পদের জন্য আবেদন করেন কিন্তু আপনার বর্ণনা ইন্টার্নদের মতো হয়, তবে আপনার সিভিটি শুরুতেই বাদ পড়ে যেতে পারে।

২. অহেতুক সংখ্যার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

সিভিতে সংখ্যা বা ম্যাট্রিক্স যোগ করা ভালো, কিন্তু তা যেন অর্থহীন না হয়। ‘১৫% দক্ষতা বৃদ্ধি করেছি’—এমন ভাসা ভাসা তথ্যের চেয়ে সুনির্দিষ্ট ফলাফল দেখান যা কেবল আপনিই অর্জন করেছেন। আপনি ঠিক কীভাবে অর্থ সাশ্রয় করেছেন বা সময় বাঁচিয়েছেন, তার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করুন। প্রেক্ষাপটহীন সংখ্যা কেবল শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়।

৩. সম্ভাবনার চেয়ে প্রমাণের গুরুত্ব বেশি

বাজার যখন কঠিন, তখন কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে চায় না। আপনি ভবিষ্যতে কী করতে পারবেন, তার চেয়ে অতীতে কী করেছেন তার প্রমাণ দিন। কোনো কাজের ক্ষেত্রে ‘আমি হয়তো এটি পারব’ বলার চেয়ে ‘আমি অতীতে এটি সফলভাবে করেছি’—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা উদাহরণ নিয়োগকর্তাকে অনেক বেশি আশ্বস্ত করে।

৪. পুরোনো অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে লিখুন

সিভি কোনো আত্মজীবনী নয়। নিয়োগকর্তারা জানতে চান বর্তমানে আপনার অবস্থান কী, ১০ বছর আগে আপনি কী ছিলেন তা নয়। আপনার সাম্প্রতিক দুই বা তিনটি পদের কাজের বিবরণ বিস্তারিত লিখুন। ১০ বছর আগের কোনো এন্ট্রি-লেভেল চাকরির জন্য কেবল পদবী এবং কোম্পানির নাম দিলেই যথেষ্ট। সিভিটি এমনভাবে সাজান যেন বর্তমান থেকে অতীতের দিকে যাওয়ার সময় অভিজ্ঞতার বর্ণনা ক্রমশ ছোট হয়ে আসে।

৫. কাজের বর্ণনায় সামঞ্জস্য বজায় রাখুন: আপনার পদের নাম, কাজের ধরন এবং আপনার দাবিকৃত প্রভাবের মধ্যে মিল থাকতে হবে। একে বলা হয় সিভির ‘স্মেল টেস্ট’। যদি আপনার পদবী হয় ‘ডিরেক্টর’ কিন্তু কাজের বিবরণে কেবল সাধারণ ডাটা এন্ট্রির কথা থাকে, তবে নিয়োগকর্তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সবকিছুর মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলে আপনার পেশাদারিত্বের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

৬. ‘তাতে কী?’

প্রশ্নের উত্তর দিন একই পদের জন্য হয়তো আরও ৫০ জন আবেদন করেছেন যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড আপনার মতোই। নিয়োগকর্তা কেন অন্য সবার বদলে আপনাকেই বেছে নেবেন? আপনার সেই বিশেষ ‘সুপারপাওয়ার’ বা অনন্য দক্ষতাটি সিভিতে হাইলাইট করুন যা আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তোলে। নিজের অনন্য বৈশিষ্ট্য বা অর্জনগুলো এমনভাবে তুলে ধরুন যা দেখে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারেন আপনিই এই পদের জন্য সেরা।

৭. পড়ার সময় বাধা বা ‘ফ্রিকশন’ দূর করুন

পড়ার সময় নিয়োগকর্তাকে যদি কোনো বাক্য বুঝতে থেমে যেতে হয় বা কোনো অস্পষ্টতা খুঁজে পান, তবে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। একে বলা হয় ‘ফ্রিকশন’ বা পড়ার গতিতে বাধা। অস্পষ্ট শব্দগুচ্ছ, কর্মজীবনের ব্যাখ্যাহীন দীর্ঘ বিরতি বা জটিল টেকনিক্যাল শব্দ আপনার সিভিতে এই বাধা তৈরি করে। সিভিটি এমন সহজবোধ্য ও মসৃণ করুন যেন একবার চোখ বোলালেই আপনার যোগ্যতা বোঝা যায়।

৮. এআই-এর কৃত্রিম ভাষা বর্জন করুন

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে লেখা সিভিতে নিয়োগকর্তাদের ইনবক্স ভর্তি থাকে, যা অনেক সময় যান্ত্রিক ও প্রাণহীন মনে হয়। তাই নিজের অর্জনগুলো বর্ণনা করার সময় যান্ত্রিক ভাষার বদলে নিজের স্বাভাবিক ভাষা ব্যবহার করুন। একজন রক্ত-মাংসের মানুষের মতো করে নিজের সফলতার গল্প বলুন, যা নিয়োগকর্তার সাথে আপনার একটি মানবিক সংযোগ তৈরি করবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরে ময়লারস্তুপে কুকুরে টানছিল নবজাতকের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ময়লারস্তুপে কুকুরে টানছিল নবজাতকের লাশ

ফরিদপুরে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নবজাতকটির গর্ভকালীন বয়স আনুমানিক বয়স ৫ থেকে ৬ মাস হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (১৪ জুন) বিকালে জেলা সদরের কানাইপুর বাজারের কানাইপুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন ময়লার স্তুপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ময়লার স্তুপে একদল কুকুর নবজাতকের রক্তমাখা মরদেহটি নিয়ে টানাটানি করছিল৷ এছাড়া মাঝে মাঝে কামড়িয়ে খাচ্ছিল। বিষয়টি দেখে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি এগিয়ে যায় এবং নিশ্চিত হয়ে ৯৯৯- এ কল দিয়ে পুলিশকে অবগত করেন। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়৷

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা যাচ্ছে, কেউ গর্ভপাত করে রাতের আঁধারে ফেলে রেখে গিয়েছে৷ ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা 

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা 

ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে সার্ভিকাল (জরায়ু) ক্যানসার প্রতিরোধ, HPV ভ্যাকসিন এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৪ ও ১৫ জুন দিনব্যাপী ফরিদপুর শহরের রবিদাসপল্লী এবং বিন্দুপাড়ায় এ কার্যক্রমের আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা নন্দিতা সুরক্ষা। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর সূচনা প্রকল্পের আওতায়
সভাগুলোতে সার্ভিকাল ক্যানসারের কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, প্রতিরোধের উপায়, HPV ভ্যাকসিনের গুরুত্ব এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সচেতনতামূলক সভায় রবিদাস পল্লিতে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক  ডা. সুলতানা বেগম। বিন্দুপাড়ার সভায় উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের গাইনী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়জুন্নাহার হেমা।

তারা দুটি এলাকার ৬০ জন নারীর মাঝে সার্ভিকাল ক্যানসারের ঝুঁকির কারণ, লক্ষণ, HPV সংক্রমণ, HPV ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, বাংলাদেশে সার্ভিকাল ক্যানসার নারীদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার হলেও সময়মতো সচেতনতা, HPV টিকা গ্রহণ এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এ রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে তথ্যের অভাব, সামাজিক সংকোচ এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে এখনও অনেক নারী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি জানান, নন্দিতা সুরক্ষা মোট পাঁচটি সেশনে  ১৫০ জন নারী ও তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নারীর স্বাস্থ্য অধিকার, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (SRHR) এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমঅধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে নন্দিতা সুরক্ষা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সার্ভিকাল ক্যানসার সম্পর্কে সঠিক ধারণা বৃদ্ধি পাবে, ভুল ধারণা ও সামাজিক সংকোচ কমবে এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠবে।

 

ফরিদপুরে ২০ বছরের কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে ১০ গ্রামবাসী

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২০ বছরের কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে ১০ গ্রামবাসী

ফরিদপুরে প্রায় ২০ বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাঁচা রাস্তা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অন্তত ১০ টি গ্রামের বাসিন্দাদের।  তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে গত ২০ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে রাস্তাটি পাকা করণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তাটি মেরামত করে পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে ফরিদপুর জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কছিমউদ্দিন বেপারীর ডাঙ্গী গ্রামে বিধ্বস্ত সড়কের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন তারা। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, সড়কটি দিয়ে কছিমউদ্দিনের ডাঙ্গীর পাশাপাশি মিনাজউদ্দিন মোল্যার ডাঙ্গী, আনছার মাতুব্বরের ডাঙ্গী, মগরম মাতুব্বরের ডাঙ্গী, নিমাই শেখের পাড়া, দেলোনমল্লিকের ডাঙ্গী ও বাজু মোল্যার ডাঙ্গী সহ প্রায় ১০ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এছাড়াও সড়কটি দিয়ে চরমাধবদিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর।

বর্তমানে সড়কটি বেহালদশায় পরিণত হয়ে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের৷ স্থানীয় বাসিন্দারা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করতে না পারায় কখনও ভ্যানে ঠেলে; কখনও কাঠের তৈরি চৌকি কাঁধে ঝুলিয়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মূল সড়কে আসতে হয় তাঁদের। মাঠ থেকে ফসল বাড়িতে আনতেও কষ্ট হয় তাঁদের৷ কখনও কখনও ভ্যান উল্টে দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় বর্ষা মৌসুমে। এ সময়ে সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়; আবার সামান্য বৃষ্টিতে কাঁদায় পরিণত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মমিনখার হাট-গোয়ালন্দ আঞ্চলিক সড়কের সংযোগ সড়ক এটি। আঞ্চলিক সড়কটির ইয়াছিন ব্রিজ থেকে দেলোন মল্লিকের ডাঙ্গী জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে সড়কটির দৈর্ঘ্য। সড়কটির শুরুতে প্রায় ২’শ মিটার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইট বিছিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় এক সৌদিপ্রবাসী৷ সেটিও বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকে কাঁচা রাস্তাটির অধিকাংশ অংশজুড়ে দুই পাশ ভেঙে রয়েছে। বর্তমানে যা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারমধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলছে ছোট যানবাহনগুলো।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা জলিল শেখ বলেন- ‘রাস্তাডার এমন অবস্থা হইছে যে কওয়ার (বলার) মতো জায়গ্যাই নাই! এই জায়গাডা যে এম্বায় (এভাবে) নইলো (রইলো)- কেউ দেখলো না। কেউ কয় না যে- রাস্তাডা সাইরা (মেরামত) দেই। এহন এই রাস্তাডা জানি পাকা হইয়্যা যায়- সেজন্য এমপির কাছে আবেদন জানাই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন- ” দীর্ঘদিন সরকার আসছে-গেছে কিন্তু আমাদের রাস্তার কোনো উন্নয়ন করেনি। অনেকবার কাজও এসেছে কিন্তু অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে। কারন, আমরা আওয়ামীলীগরে কখনও ভোট না দেওয়ায় কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে।’

তবে সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ অর্থায়নে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করে আসছেন স্থানীয় সৌদ প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক শেখ। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কালভার্ট ও একটি নান্দনিক মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রবাসী বলেন- “গত ১৭ বছর আমাদের বলা হয়েছে- এই এলাকার মানুষ আওয়ামালীগকে ভোট দেয় না, কিছুই করা যাবে না। যার কারনে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাস্তা মনে হয় এটিই।’

এ সময় তিনিসহ এলাকাবাসী ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের কাছে সড়কটি অতিদ্রুত মেরামতসহ পাকাকরণের দাবি জানান। এছাড়া মানববন্ধনে ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন জাহিদ ব্যাপারী, মোতালেব শেখ, মো. বাদশা মন্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।