খুঁজুন
, ,

সোনালি আঁশের গৌরব ফেরাতে ফরিদপুরে বিএডিসির মাঠ দিবস

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
সোনালি আঁশের গৌরব ফেরাতে ফরিদপুরে বিএডিসির মাঠ দিবস

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং দেশীয় পাট বীজের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আয়োজিত পাট ফসলের মাঠ দিবস ও বীজ ডিলার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে পাট চাষ, উন্নতমানের দেশীয় বীজের ব্যবহার এবং বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির যুগ্ম সচিব ও বীজ ও উদ্যান উইংয়ের সদস্য পরিচালক মো. মজিবুর রহমান।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক মোসাব্বের হোসেন, পাট বীজ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদাস সাহা, বীজ উৎপাদন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. হুমায়ুন কবির, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।

এছাড়া কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলার পাটচাষি, পাট বীজ ডিলার এবং স্থানীয় কৃষকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফরিদপুর বিএডিসি বীজ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. কামরুল হক।

বক্তারা বলেন, পাট বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি, পরিবেশ এবং রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটের সম্ভাবনাও দিন দিন বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উন্নতমানের দেশীয় পাট বীজ ব্যবহারের বিকল্প নেই।

তারা কৃষকদের বিএডিসি উৎপাদিত জেআরও-৫২৪ (JRO-524) জাতের পাট বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। বক্তাদের মতে, সরকারিভাবে ভর্তুকি মূল্যে প্রতি কেজি বীজ মাত্র ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ৯০ শতাংশের বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত পাট বীজের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে উন্নতমানের পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএডিসি ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বক্তারা জানান, ‘মাদার সিড’ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে দেশে পাট বীজ উৎপাদনে শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং কৃষকরা সহজে মানসম্পন্ন বীজ পেতে সক্ষম হবেন।

আলোচনা শেষে বিএডিসির কর্মকর্তা, কৃষক ও বীজ ডিলাররা জেআরও-৫২৪ জাতের পাটের প্রদর্শনী ক্ষেত পরিদর্শন করেন। মাঠ পর্যায়ে বীজের গুণগত মান, গাছের বৃদ্ধি এবং ফলনের সম্ভাবনা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, উন্নতমানের দেশীয় বীজের ব্যবহার বাড়লে পাট উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং একসময় ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট আবারও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আলফাডাঙ্গায় মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ইছাপাশা এলাকায় অবস্থিত ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

​মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সেক্রেটারি ও পাশের কাশিয়ানী উপজেলার জয়নগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মুর্তজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সুমন রায়।

​সমাবেশে ডা. সুমন রায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

​ডা. সুমন রায় বলেন, “শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানায় অভ্যস্ত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

​অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার সহসভাপতি ও সমাজসেবক মুন্সী বেলাল হুসাইন বলেন, “শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নির্ভর করে শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর। মেধাবীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতিও বিশেষ যত্ন নিতে হবে, যাতে তাদের মাঝে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়।”

​মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় সমাবেশের শেষ অংশে বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত সাড়ে ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত সাড়ে ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৫৯২ জন সন্দেহজনক হামের রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার দুটি প্রধান হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৯৮ জন।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৪ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৮ জন। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি কিংবা কেউ ছাড়পত্র পাননি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ হাসপাতালে ১ হাজার ৯৮৬ জন সন্দেহজনক হামের রোগী নথিভুক্ত হয়েছেন।

​অন্যদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৮০ জন রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন এবং আগে থেকেই ভর্তি ছিলেন ৬৬ জন। একই ২৪ ঘণ্টায় এখান থেকে ২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৪ হাজার ৪৭৪ জন হামের রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাওয়ারি ও উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৪ জন রোগীর মধ্যে ১০ জন ফরিদপুর জেলার স্থানীয় এবং বাকি চারজন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

​কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আসিফ উল আলম, উপাধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান মোহাম্মদ আরিফ এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মৃধা মো. শাহিনুজ্জামান। এতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক রোগ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করা জরুরি। একইসঙ্গে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

​চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। প্রয়োজনে শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া মানসিক রোগীদের প্রতি যেকোনো ধরনের বৈষম্য পরিহার করে, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।