খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশুর পাকস্থলীতে আটকে ছিল ৫ টাকার কয়েন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশুর পাকস্থলীতে আটকে ছিল ৫ টাকার কয়েন

ফরিদপুরে অসাবধানতাবশত গিলে ফেলা পাঁচ টাকার একটি কয়েন ৭ বছর বয়সী এক শিশুর পাকস্থলী থেকে সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার ছাড়াই আধুনিক এন্ডোস্কোপি পদ্ধতির মাধ্যমে কয়েনটি বের করে আনায় স্বস্তি ফিরেছে শিশুটির পরিবারে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ফরিদপুরের বেসরকারি হ্যাপি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো লিভার সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নিমাই দাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এন্ডোস্কোপি মেশিনের সাহায্যে শিশুটির পাকস্থলী থেকে পাঁচ টাকার কয়েনটি সফলভাবে বের করা হয়।

শিশুটির নাম অলিপ (৭)। সে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা সুজন শেখের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের সদস্যরা জানান, খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পাঁচ টাকার কয়েনটি গিলে ফেলে। পরে পেটে অস্বস্তি অনুভব করলে তাকে দ্রুত হ্যাপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটির পাকস্থলীতে কয়েনটি আটকে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

পরবর্তীতে গ্যাস্ট্রো লিভার সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নিমাই দাসের নেতৃত্বে একটি দক্ষ মেডিকেল টিম এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে কয়েনটি সফলভাবে অপসারণ করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি এবং শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

ডা. নিমাই দাস বলেন, আধুনিক এন্ডোস্কোপি প্রযুক্তির কারণে বর্তমানে পাকস্থলী বা খাদ্যনালিতে আটকে থাকা বিভিন্ন বিদেশি বস্তু নিরাপদ ও তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। ছোট শিশুদের নাগালের মধ্যে কয়েন, ব্যাটারি, পিন বা অন্যান্য ছোট বস্তু রাখা উচিত নয়।

তিনি আরও জানান, হ্যাপি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো লিভার সেন্টারে নিয়মিত ব্যথামুক্ত এন্ডোস্কোপি, কোলোনোস্কোপি, এন্ডোস্কোপিক পলিপেকটমি, কোলোনোস্কোপিক পলিপেকটমি এবং লিভার সিরোসিস রোগীদের জন্য এন্ডোস্কোপিক ব্যান্ড লাইগেশনের মতো আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাকস্থলী বা পরিপাকতন্ত্রে আটকে থাকা বিভিন্ন বস্তু এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সফলভাবে অপসারণ করা হচ্ছে।

শিশুটির বাবা সুজন শেখ বলেন, “আমার ছেলে কয়েন গিলে ফেলায় আমরা খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কোনো অপারেশন ছাড়াই কয়েনটি বের করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

হাসপাতালটির কর্ণধার ডা. সৈয়দ হাসানুল কবীর মিশু ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “রোগীদের নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। দক্ষ চিকিৎসক, আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ টিমের সমন্বয়ে আমরা জটিল এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসাও সফলভাবে সম্পন্ন করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নত সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাব।”

ফরিদপুরে মহাসড়কে বাস থামিয়ে চাঁদা আদায়, পুলিশের অভিযানে আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে বাস থামিয়ে চাঁদা আদায়, পুলিশের অভিযানে আটক ৪

ফরিদপুর সদর উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তারা রশিদ দিয়ে বিভিন্ন পরিবহন থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করছিলেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আজমীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে তাদের কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. ফরহাদ, মো. দিলু, মো. জুলফিকার ও মো. মতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে রশিদ প্রদান করে টাকা আদায় করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের একাধিক অভিযোগের পর পুলিশ নজরদারি বাড়ায়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছিল। তবে এই অর্থ আদায়ের বৈধতা ছিল কি না এবং এর সঙ্গে কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, “পরিবহন থেকে টাকা উত্তোলনের সময় চারজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তারা কী কারণে টাকা উত্তোলন করছিল, সে বিষয়ে জানতে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের ডাকা হয়েছে। তদন্তে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অর্থ আদায়ের পেছনে কোনো চক্র কাজ করছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কাঁঠালের বিচি খাচ্ছেন? জানুন, এটি ক্ষতিকর নাকি উপকারী

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
কাঁঠালের বিচি খাচ্ছেন? জানুন, এটি ক্ষতিকর নাকি উপকারী

গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা সবখানেই। তবে সাধারণত আমরা কাঁঠালের কোষ খাওয়ার পর এর বিচিগুলো ফেলে দিই। অথচ জানলে অবাক হবেন, একটি কাঁঠালে ১০০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত ভোজ্য এবং পুষ্টিকর বিচি থাকতে পারে।

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই বিচিগুলো কেবল সুস্বাদুই নয়; বরং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি।

পুষ্টির পাওয়ার হাউস

কাঁঠালের বিচি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের চমৎকার উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রায় ২৫.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১.৫ মিলিগ্রাম আয়রন। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অন্তর্গত থায়ামিন এবং রিবোফ্লাভিন এতে প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদনে এবং পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।

কেন খাবেন কাঁঠালের বিচি?

হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: কাঁঠালের বিচিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন—ফ্ল্যাভোনয়েড ও স্যাপোনিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতি মেরামত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ‘জ্যাকালিন’ নামক উপাদানটি ক্যানসার বিরোধী হিসেবে পরিচিত।

জীবাণুনাশক গুণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ই-কোলাই এবং সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

কখন এটি ক্ষতিকর হতে পারে?

উপকারী হলেও সবার জন্য বা সব অবস্থায় কাঁঠালের বিচি নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন: অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিপ্লেটলেট বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য কাঁঠালের বিচি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধার গতি কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া কাঁচা কাঁঠালের বিচিতে ট্যানিন এবং ট্রিপসিন ইনহিবিটর থাকে, যা শরীরকে সঠিক পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়।

সঠিক প্রস্তুতিই সুস্থতার চাবিকাঠি

কাঁঠালের বিচি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে এবং ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে এটি কখনোই কাঁচা খাওয়া উচিত নয়। তাপ প্রয়োগ করলে এর মধ্যকার ক্ষতিকর উপাদানগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

কীভাবে প্রস্তুত করবেন?

সিদ্ধ করা: ২০-৩০ মিনিট পানিতে সিদ্ধ করে নিয়ে সালাদ বা তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন।

রোস্ট করা: ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ২০ মিনিট বেক করে বা খোলায় ভেজে মচমচে স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়।

অন্যান্য ব্যবহার: এটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে আটা হিসেবে বেকিংয়ে ব্যবহার করা যায়, এমনকি স্মুদি বা হুমাসেও যোগ করা সম্ভব।

সুতরাং, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে কাঁঠালের বিচি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি চমৎকার পুষ্টিকর যোগ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

কোয়ার্টারে যে প্রতিপক্ষ পেল আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
কোয়ার্টারে যে প্রতিপক্ষ পেল আর্জেন্টিনা

চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। সেখানে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা।

এদিকে, মিসরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ দিকে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর তিনি বলেছেন, ‘পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এ দল কখনো হাল ছাড়ে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমরা ভাগ্যবান যে, গোলগুলো করেছি এবং ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি।’

লিওনেল মেসি বলেন, ‘আমরা আবারও ফিরে এসেছি। শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পেরে স্বস্তি লাগছে।’

নকআউট পর্বে দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এই নকআউট পর্বে দল যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমাদের উদযাপন মানুষ উপভোগ করতে পারছে, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিচ্ছে।’

কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল। বিশেষ করে আমরা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিলাম। এরপর আবারও ফিরে আসা, আবারও কষ্ট সহ্য করে জয় তুলে নেওয়া ছিল রোমাঞ্চকর। এটাই বিশ্বকাপ। এখানে প্রায় সব ম্যাচই একই রকম কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব দলই প্রায় সমান শক্তিশালী। তাই এ জয় এবং পরের পর্বে উঠতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি।’