খুঁজুন
, ,

ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়েছিল ইংল্যান্ডের। ফ্রান্সও শেষ চারে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হতাশা ঝেড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল থ্রি লায়ন্সরা। বুকায়ো সাকার হ্যাট্রিকে গতবারের রানারআপ ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩ টায় অনুষ্ঠিত খেলায় মিয়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডেকলান রাইস। ফ্রান্সের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল পেয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।

এরপর ১৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। ডেকলান রাইসের নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান তিনি।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আরও চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স। সেই সুযোগে ৩৭তম মিনিটে তৃতীয় গোল পায় ইংল্যান্ড। মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোল করেন বুকায়ো সাকা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন সাকা। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের জালে চারবার বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা।

এদিন প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত। সাকার গতি ও দক্ষতা ফ্রান্সের রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছে। অন্যদিকে ফরাসি প্রথমার্ধে দলকে দেখা গেছে ছন্নছাড়া। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তার সতীর্থরা আক্রমণে তেমন কোনো ধার তৈরি করতে পারেননি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত আধিপত্য দেখিয়ে ইংল্যান্ড ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তন ম্যাচটিকে রোমাঞ্চকর করে তোলে। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে ফ্রান্স। সেই চাপ থেকেই ব্যবধান কমাতে শুরু করে তারা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে ফ্রান্সের হয়ে গোল করে ব্যবধান কমান। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন বারকোলা। এরপর ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আরও একটি গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন ফরাসি অধিনায়ক।

শেষ মুহূর্তে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টির সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টিতে ফ্রান্সে জালে আবারও বল জড়ান সাকা। এতে হ্যাট্রিকের দেখা পান ইংলিশ এই তারকা। এছাড়া অতিরিক্ত সময়ের ৮ মিনিটে ইংল্যন্ডের হয়ে ৬ নম্বর গোলটি করেন বেলিংহাম।

এদিকে সমতায় ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে থাকে ফরাসিরা। এর ফল হিসেবে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ৬ মিনিটের সময় আবারও ইংলেন্ডের জালে বল জড়ান ফ্রান্সের ডেম্বেলে।

তবে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও পরাজয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে ফ্রান্স।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছিল ইংল্যান্ডের। অন্যদিকে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে হতাশ হয়েছিল ফ্রান্স। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ছিল বিশ্বকাপ শেষ করার শেষ সুযোগ। ম্যাচের আগে এই লড়াই নিয়ে দুই দলেই কিছুটা অনাগ্রহ থাকলেও মাঠে তার কোনো ছাপ দেখা যায়নি ইংল্যান্ডের খেলায়।

এই জয়ে সেমিফাইনালের হতাশা কিছুটা হলেও ভুলতে পারল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারলেও তৃতীয় স্থান নিয়ে দেশে ফিরছে তারা। অন্যদিকে ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি হয়ে উঠল হতাশার আরেকটি অধ্যায়।

এর আগে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতালির কাছে ২-১ গোলে হেরে চতুর্থ হয়েছিল ইংল্যান্ড। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার তৃতীয় স্থান অর্জন। একই সঙ্গে এটি ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ইংল্যান্ডের সেরা ফলও।

ফরিদপুরে জেলা পুলিশের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সাদা দলের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা পুলিশের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সাদা দলের জয়

ফরিদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-২০২৬’।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইনস মাঠে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

প্রতিযোগিতায় সাদা দল ও নীল দল মুখোমুখি হয়। শুরু থেকেই উভয় দলের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক ও নান্দনিক ফুটবল উপহার দেন। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের ব্যবধানে নীল দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সাদা দল। খেলা শেষে পুলিশ সুপার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের পেশাগত দায়িত্ব পালনে শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার পাশাপাশি মানসিক চাপ ও অবসাদ দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, মাঠের খেলাধুলা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত চেতনা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। এসব গুণ একটি দক্ষ, মানবিক ও আদর্শ পুলিশ বাহিনী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলা মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে এবং বাস্তব কর্মজীবনে কঠোর পরিশ্রম ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মানসিকতা তৈরি করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা মাঠে উপস্থিত থেকে খেলাটি উপভোগ করেন।

আয়োজকরা জানান, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সুস্থ বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দলগত মনোভাব আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে এমপিকে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ নারী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এমপিকে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ নারী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী এলাকার নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

পরিদর্শনের সময় নদীভাঙনে চাষের জমি হারানো রিনা বেগম (৪০) নামের এক নারী সংসদ সদস্যকে সামনে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি নদীভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

রিনা বেগম বলেন, গত কয়েক বছরে নদীভাঙনে আমার ৬ থেকে ৭ বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটাও হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তিনি সদরপুরের ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী এলাকায় নদীভাঙন পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

রিনা বেগমের মত নদীপাড়ের আরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা তাদের দুর্ভোগ, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কার কথা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন। তারা দ্রুত কার্যকর ও টেকসই নদীশাসনের দাবি জানান।

সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, নদীভাঙন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য , বর্তমানে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা ও আকোট গ্রামে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ভাঙন ঝুকিতে রয়েছে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার ও আকোট গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ১০ টি গ্রাম।

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে তদন্ত কমিটি

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল অপারেশন ও চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই ১৭ বছর বয়সী কলেজছাত্রী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নিহত আয়েশা আফরিন সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করে রাত ৯টার দিকে ভর্তি করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরিবারের দাবি, অপারেশনের পর থেকেই আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। রাত ৩টার দিকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা আলেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকের ভুলের কারণেই আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনটি করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান। ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, আয়েশার মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তবে তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”