খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে তদন্ত কমিটি

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল অপারেশন ও চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই ১৭ বছর বয়সী কলেজছাত্রী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নিহত আয়েশা আফরিন সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করে রাত ৯টার দিকে ভর্তি করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরিবারের দাবি, অপারেশনের পর থেকেই আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। রাত ৩টার দিকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা আলেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকের ভুলের কারণেই আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনটি করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান। ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, আয়েশার মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তবে তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

​ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।

​পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

​গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।

​ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট সকালে কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে তিনি প্রথমবার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানালেও তারা কোনো সুরাহা না করায় বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ভুক্তভোগী।

​পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন আসামি হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই সাজা দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।