খুঁজুন
, ,

‘পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
‘পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, কৃষিকাজে সবচেয়ে বেশি ডিজেল ব্যবহার হয়। তাই কৃষিখাতে তেলের সরবরাহ করার ক্ষেত্রে আমরা সচেষ্ট আছি। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে বিক্রি করছে। অপরদিকে যারা দিনে একবার তেল নিতেন, এখন তারাই তেলের পাম্পে গিয়ে ৫ বার তেল নিচ্ছে। কারণ তারা ভাবছেন তেলের সংকট চলছে। কিন্তু তেলের কোনো সংকট নেই।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিশ্বে একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, এটা আমাদের সকলকে বুঝতে হবে। যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের চারপাশে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার, যে জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায় নাই। কৃষকসহ জনগণ যাতে বিপদের মুখে না পড়ে সেজন্য সরকার সচেষ্ট আছে। তবে আমাদেরও সাশ্রয়ী হতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে তেল নিয়ে সমস্যায় পড়তে না হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। যে কারণে আমি ঘনঘন আমার নির্বাচনী এলাকায় আসছি। আজকে আমি সালথা ও নগরকান্দায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস পরিদর্শন করেছি। আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিয়েছি। বিশেষ করে কারিগারি শিক্ষা নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। এটা কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সেজন্য আমি এসেছি। গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের সময় স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে কোন কাজ হয়নি। সেটা আমি দেখতে এসেছি।

এর আগে নগরকান্দা উপজেলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নগরকান্দা উপজেলা ভূমি অফিস, সালথা সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সালথা উপজেলা ভুমি অফিস ও সালথা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাটের গোডাউন পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দীন, সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আতাউর রহমান, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, এনায়েত হোসেন, হাসান আশরাফ প্রমুখ।

বন্যার পানিতে যে ১০ ভুল কখনো করবেন না?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
বন্যার পানিতে যে ১০ ভুল কখনো করবেন না?

টানা বর্ষণ, উজানের ঢল কিংবা আকস্মিক বন্যা যেকোনো সময় স্বাভাবিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। অনেক সময় বন্যার চেয়ে মানুষের অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিবাহিত রোগ, সাপের কামড় কিংবা দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান বা আহত হন। তাই বন্যার সময় কিছু ভুল এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, বন্যার পানিতে নিচের ১০টি ভুল কখনোই করা উচিত নয়।

১. অপ্রয়োজনে বন্যার পানিতে নামবেন না

বন্যার পানি দেখতে শান্ত মনে হলেও এর নিচে থাকতে পারে খোলা ম্যানহোল, গর্ত, ভাঙা রাস্তা, ধারালো বস্তু কিংবা বৈদ্যুতিক তার। তাই প্রয়োজন ছাড়া পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। যদি নামতেই হয়, তাহলে লাঠি দিয়ে সামনে পরীক্ষা করে ধীরে ধীরে এগোন এবং সম্ভব হলে শক্ত জুতা বা বুট ব্যবহার করুন।

২. পানিতে দাঁড়িয়ে বৈদ্যুতিক সুইচ বা যন্ত্র স্পর্শ করবেন না

বন্যার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। পানিতে দাঁড়িয়ে কখনো সুইচ অন বা অফ করবেন না। ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রও ধরবেন না। সন্দেহ হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে প্রবেশ থেকে বিরত থাকুন।

৩. বন্যার পানি পান বা রান্নায় ব্যবহার করবেন না

বন্যার পানিতে নর্দমার বর্জ্য, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, রাসায়নিক পদার্থ ও বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু মিশে থাকতে পারে। শুধু ফুটানো, বিশুদ্ধ বা বোতলজাত পানি পান করুন। প্রয়োজনে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করুন।

৪. খালি পায়ে পানিতে হাঁটবেন না

অনেকেই খালি পায়ে পানি মাড়িয়ে চলাফেরা করেন। এতে পায়ে কাটা, সংক্রমণ, এমনকি সাপ বা বিষাক্ত প্রাণীর আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। রাবারের বুট বা শক্ত স্যান্ডেল ব্যবহার করাই নিরাপদ।

৫. বন্যার পানির সংস্পর্শে আসা খাবার খাবেন না

পানিতে ভিজে যাওয়া বা দূষিত খাবার খেলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকা খাবারও খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৬. শিশুদের একা পানির কাছে যেতে দেবেন না

বন্যার সময় শিশুরা পানিতে খেলতে আগ্রহী হয়। কিন্তু অল্প গভীর পানিতেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুদের সবসময় বড়দের নজরদারিতে রাখুন এবং তাদের বন্যার পানিতে খেলতে নিরুৎসাহিত করুন।

৭. সাপ বা অচেনা প্রাণী দেখলে ধরার চেষ্টা করবেন না

বন্যার সময় সাপ, গুইসাপসহ বিভিন্ন প্রাণী আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের বসতবাড়িতে চলে আসে। সাপ দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। নিজে ধরতে না গিয়ে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী বা বন বিভাগের সহায়তা নিন।

৮. বন্যার পানিতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর ঝুঁকি নেবেন না

অনেক সময় পানির গভীরতা বোঝা যায় না। এতে গাড়ি আটকে যেতে পারে বা স্রোতে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাস্তার অবস্থা নিশ্চিত না হলে পানির মধ্যে দিয়ে যানবাহন চালানো উচিত নয়।

৯. প্রশাসনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করবেন না

অনেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাড়ি ছাড়তে চান না। এতে বিপদের মাত্রা বেড়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

১০. পানি নেমে গেলেই ঘরে ঢুকে পড়বেন না

বন্যার পানি সরে গেলেও ঝুঁকি শেষ হয় না। ভেজা বৈদ্যুতিক সংযোগ, দুর্বল দেয়াল, গ্যাস লিক বা বিষাক্ত প্রাণীর উপস্থিতি থাকতে পারে। তাই ঘরে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ পরীক্ষা করিয়ে নিন।

সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

বন্যা পুরোপুরি ঠেকানো না গেলেও এর ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একটু সতর্কতা, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে নিজের পাশাপাশি পরিবারকেও নিরাপদ রাখা যায়।

মনে রাখবেন, বন্যার সময় সাহস দেখানোর চেয়ে সচেতন থাকা বেশি জরুরি। কারণ একটি ছোট ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: সিডিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ফরিদপুরে নিজস্ব তিনতলা বাড়িতে নিঃসঙ্গ মৃত্যু, শেষ বিদায়ে এলেন না কোনো স্বজন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নিজস্ব তিনতলা বাড়িতে নিঃসঙ্গ মৃত্যু, শেষ বিদায়ে এলেন না কোনো স্বজন

তিনতলা নিজের বাড়ি। নিচতলায় ভাড়াটিয়া, ওপরে একটি ফ্ল্যাটে একা থাকতেন তিনি। একসময় যে ঘরে বাবা-মায়ের স্নেহ, ভাই-বোনের হাসি আর সংসারের কোলাহল ছিল, সেই ঘরই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছিল নিঃসঙ্গতার ঠিকানায়। শেষ পর্যন্ত সেই ঘর থেকেই অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলো কোয়েল চৌধুরীকে (৫৪)। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানালেন, তিনি আর নেই।

আরও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, মৃত্যুর খবর বিদেশে থাকা একমাত্র বোন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানো হলেও কেউ শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আসেননি। শেষ বিদায়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন প্রতিবেশী আর স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের উদ্যোগেই বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন কোয়েল চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার ‘চৌধুরী ভিলা’য় প্রতিদিনের মতো একজন ভাড়াটিয়া তাঁর জন্য খাবার নিয়ে যান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

পুলিশ দরজা ভেঙে কোয়েল চৌধুরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০০০ সালের দিকে সরকারি চাকরিজীবী দম্পতি হাশমত আলী চৌধুরী ও আছিয়া খানম এই বাড়িটি কিনে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র মেয়ে পরবর্তীতে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দুই ছেলে—বাবু চৌধুরী ও কোয়েল চৌধুরী—দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

তবে তাঁদের নিয়ে মানুষের স্মৃতিতে ভয় বা বিরক্তি নয়, বরং রয়েছে মমতার গল্প।

শহরের অনেকেই এখনও মনে করতে পারেন, দুই ভাইকে প্রায় সব সময় একসঙ্গেই দেখা যেত। কখনো পাশাপাশি হাঁটছেন, কখনো একজন আরেকজনের হাত ধরে ধীর পায়ে শহরের রাস্তা পেরিয়ে যাচ্ছেন। যেন বাইরের পৃথিবীতে তাঁদের আর কেউ নেই—দুজনই ছিলেন একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ।

প্রায় দেড় বছর আগে বড় ভাই বাবু চৌধুরীর মৃত্যু হলে কোয়েল চৌধুরীর জীবন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। বিশাল বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে একাই কাটত তাঁর দিন-রাত। নিজের দেখাশোনার মতো ঘনিষ্ঠ কেউ ছিলেন না। ভবনের ভাড়াটিয়ারাই নিয়মিত খাবার দিতেন, প্রতিবেশীরা খোঁজ নিতেন, প্রয়োজন হলে পাশে দাঁড়াতেন।

প্রতিবেশী আশিকুর রহমান খান বলেন, “সকালে ভাড়াটিয়া খাবার দিতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা ৯৯৯-এ ফোন করি। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

তিনি জানান, “কানাডায় থাকা তাঁর একমাত্র বোনকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হলে তিনি দাফন করে দিতে বলেন। অন্য আত্মীয়দেরও জানানো হয়েছিল, কিন্তু কেউ আসেননি। পরে এলাকার মানুষ মিলে আলীপুর কবরস্থানে তাঁর বাবা-মায়ের কবরের পাশেই দাফনের ব্যবস্থা করেন। দাফনের পর দূরসম্পর্কের কয়েকজন আত্মীয় এসেছিলেন।”

এলাকায় একটি প্রচলিত কথা রয়েছে, ছোটবেলায় বাবা-মা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে দুই সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন, যা তাঁদের মানসিক অবস্থার অবনতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা চিকিৎসাগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।”

কোয়েল চৌধুরীর জীবনের শেষ অধ্যায় যেন নীরবে একটি প্রশ্ন রেখে গেল—রক্তের সম্পর্ক সবসময় কি সবচেয়ে কাছের সম্পর্ক? নাকি মানুষের সবচেয়ে কঠিন সময়ে প্রতিবেশী, ভাড়াটিয়া আর আশপাশের মানুষই হয়ে ওঠেন প্রকৃত আপনজন?

একটি তিনতলা বাড়ি ছিল তাঁর। ছিল স্মৃতিভরা একটি পরিবার। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে ছিল শুধু নিঃসঙ্গতা। আর শেষ বিদায়ে, স্বজনের বদলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিলেন প্রতিবেশীরাই।

ফরিদপুরে কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলার খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামে বৃষ্টির সময় কাঁঠাল গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে সাব্বির মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাব্বির মোল্লা খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে সাব্বির তার দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি কাঁঠাল গাছের নিচে বসে ছিল। এ সময় হঠাৎ গাছের পাশেই বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনজনই ছিটকে পড়ে। এতে সাব্বির গুরুতর আহত হলেও তার দুই বন্ধু প্রাণে বেঁচে যায় এবং তারা সুস্থ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত সাব্বিরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “বজ্রপাতে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”