খুঁজুন
, ,

স্বামী-স্ত্রীর যেসব ভুল সংসারে অশান্তি ডেকে আনে? জেনে নিন এক পলকে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
স্বামী-স্ত্রীর যেসব ভুল সংসারে অশান্তি ডেকে আনে? জেনে নিন এক পলকে

একটি সুখী সংসার ভালোবাসা, বিশ্বাস, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। কিন্তু কখনো কখনো স্বামী-স্ত্রীর অতিরিক্ত সন্দেহ, অযথা রাগ-অভিমান, সকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ, একে-অপরের পরিবারকে অবজ্ঞা, অতিরিক্ত চাহিদা এবং স্বামীর প্রতি অসম্মানের কারণে ধীরে ধীরে দাম্পত্যের শান্তি নষ্ট হতে থাকে।

শুরুতে ছোট মনে হওয়া এসব আচরণ একসময় স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দূরত্ব তৈরি করে এবং এর প্রভাব পড়ে উভয়ের পুরো পরিবারের ওপরও। নিম্নে তার কারণগুলো বর্ণনা করা হল।

১.অতিরিক্ত সন্দেহ করা: স্বামীকে অকারণে সন্দেহ করা এবং তার প্রতিটি কাজে কৈফিয়ত চাওয়া, প্রত্যেকটা কাজে নেতিবাচক অর্থ খোঁজা দাম্পত্যজীবনে অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে। পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট হলে যত্নে গড়া সম্পর্কেও ধীরে ধীরে দূরত্ব হয়। দুজনের ভালোবাসাও ফিকে হয়ে যায়। ইসলামও অমূলক সন্দেহ থেকে সতর্ক করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা পাপ। (সুরা হুজুরাত: ১২)

২.সব বিষয়ে ঝগড়া করা: ছোটখাটো বিষয়েও অতিরিক্ত উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়লে সংসারের স্বাভাবিক শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিটি সমস্যার সমাধান ঝগড়ার মাধ্যমে করতে গেলে একসময় উভয়ের মধ্যেই বিরক্তি চলে আসে। এমনকি রাগের মাথায় মানুষ এমনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, যা পরবর্তীতে অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ রাসুল সা. রাগ সংবরণ করতে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে বলতেন, শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং সেই সবচেয়ে শক্তিশালী, যে রাগের সময়ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (বুখারি: ৬১১৪)

এক্ষেত্রে হযরত আবু দারদা রা. একটি চমৎকার কাজ করতেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বলেন, আমি রাগ করলে তুমি আমাকে শান্ত করবে, আর তুমি রাগ করলে আমি তোমাকে শান্ত করব।

৩.স্বামীর অনুপস্থিতিতে সংসারের দেখভাল না করা: সংসার একটি যৌথ দায়িত্ব। দুজনের যত্নেই গড়ে ওঠে একটি সুখময় দাম্পত্যজীবন। কিন্তু কখনো স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী যদি সংসারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে দায়িত্বশীল না হন, তাহলে সংসারে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। ইসলামও নারীর পারিবারিক দায়িত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। রাসুল সা. বলেন, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অর্থাৎ, স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল। সে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারি: ২৫৮৮)

৪.পরপুরুষ বা পরনারীর সাথে মেলামেশা: অপরিচিত মানুষের সঙ্গে প্রয়োজনে স্বাভাবিক কথাবার্তা আর অনুচিত ঘনিষ্ঠতা এক নয়। দাম্পত্যের সীমারেখা অতিক্রম করে স্ত্রী পরপুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠ হলে একদিকে যেমন আল্লাহ তায়ালার সাথে নাফরমানি, অন্যদিকে তেমনি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বিশ্বাস ও দাম্পত্যজীবনে দুজনেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। (সুরা আন নূর: ৩১) একই হুকুম পুরুষদের ক্ষেত্রেও।

৫.স্বামীর পরিবারকে অসম্মান করা: স্বামীর পরিবারের প্রতি অকারণে অসম্মানজনক আচরণ দাম্পত্যে চাপ তৈরি হতে পারে। আবার পরিবারের কারো সঙ্গে মতবিরোধ হলে তা সমাধানের পরিবর্তে স্বামীর কাছে কান ভারী করা দাম্পত্যে কলহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে তা শালীনতা ও ধৈর্যের সাথে সমাধান করা জরুরি। এর থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম উপায় হল, পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রেখে কথা বলা। আল্লাহ তায়ালা তাই বলেন, তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম কথা বল। (সুরা বাকারা: ৮৩)

৬.অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ: স্বামীর ব্যক্তিগত বিষয়, কাজ কিংবা প্রতিটি সিদ্ধান্তে অযাচিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা একসময় সম্পর্ককে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। এতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একে অপরের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সংসারে পরামর্শ ও মতামত থাকবেই; বরং দাম্পত্যজীবন সুন্দর করতে দুজনেরই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা উচিত। তবে সেই সঙ্গে একে-অপরের ব্যক্তিস্বাধীনতা, পছন্দ ও সম্মানের জায়গাটিও বজায় রাখা প্রয়োজন।

৭.অন্যের সঙ্গে তুলনা করা: অমুকের স্বামী এমন, অমুকের সংসার এতকিছু, অমুকের স্বামী তাকে এত ভালো রাখে—এভাবে অন্যের সঙ্গে নিজের স্বামী ও সংসারের তুলনা করলে স্বামীর মনে কষ্ট ও অপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এতে স্বামীর আত্মবিশ্বাস ও কর্মস্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কর্মের গতিও কমে যেতে পারে। সারাদিন বাইরে কাজকর্ম করে স্বামী যখন একটুখানি মানসিক শান্তির জন্য ঘরে ফেরে, তখন এসব কথায় ঘরেও তার মন বসে না। এর ফলে স্বামী একসময় অন্যদিকে ঝুঁকেও যেতে পারে। তাই প্রয়োজন, স্বামীর উপার্জন ও পরিশ্রমের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং তাকে গুরুত্ব দেওয়া। তাহলেই সংসার সুখের হয়ে উঠবে। রাসুল সা. বলেন, তোমাদের কারো যদি এমন লোকের উ

ওপর নজর পড়ে, যাকে মাল-ধন ও দৈহিক গঠনে অধিক মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তবে সে যেন এমন লোকের দিকে নজর দেওয়া, যে তার চেয়ে নিম্ন স্তরে রয়েছে। (বুখারি: ৬৪৯০)

৮.দাম্পত্যের ব্যক্তিগত বিষয় বাইরে প্রকাশ করা: স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পোশাকস্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তারা তোমাদের পোশাক, তোমরা তাদের পোশাক। (সুরা বাকারা: ১৮৭) অর্থাৎ উভয়ে উভয়ের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবে। কিন্তু দাম্পত্যের ব্যক্তিগত সমস্যা বা ঝগড়া বন্ধু, আত্মীয় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তিনটি ক্ষতি হয়। এক. গোপনীয়তা নষ্ট হয়। দুই. নিজেদের মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। তিন. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্পর্কে ফাটল ধরে। রাসুল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের দোষ গোপন রাখে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন, ( মুসলিম: ২৫৯০)। প্রয়োজন হলে সংসারের জটিল সমস্যা হলে বিশ্বস্ত ও বিচক্ষণ কোনো আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে নিজেদের গোপনীয় বিষয়গুলো সকলের আলোচ্য বিষয় বানানো কখনোই উচিত নয়।

৯.ক্ষমা না করা: সংসারে মনোমালিন্য হতেই পারে। দুজনের মাঝে অতীতের ভুল-ত্রুটি থাকাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ঝগড়া হলেই পেছনের গল্প টেনে আনা, এটা কোনো সচেতন ব্যক্তির কাজ নয়। পুরোনো ভুলগুলো সমাধানের পরও সেগুলো দিয়ে বারবার খোঁটা দিলে সম্পর্কের মধ্যে নীরব তিক্ততা তৈরি হয় এবং ক্ষতকে আরও গভীর করে তোলে। রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা সমুন্নত করে দেন। (মুসলিম: ২৫৮৮)

১০.দায়িত্বহীনতা: সংসার একটি আমানত। এই আমানতের অবহেলা করলে অশান্তি আসবেই। স্বামীর কষ্টে উপার্জিত টাকা হিসাব-নিকাশ ছাড়া খরচ করা, পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় ও পরিকল্পনার ব্যাপারে বেখেয়াল থাকা, সন্তান ও ঘরের কাজে উদাসীনতা— এসব দায়িত্বহীনতার কারণে দাম্পত্যে অসন্তোষ ও আর্থিক সমস্যা তৈরি হয়। পারিবারিক বিষয় স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রীরও পরামর্শ ও দায়িত্বশীল মনমানসিকতা থাকা জরুরি। রাসুল সা. বলেন, স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল। কিয়ামতের দিন তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। (বুখারি: ২৫৫৮)

১১.কথা না বলে অভিমান জমিয়ে রাখা: ঝগড়া হলে ভুলে বোঝাবুঝি ভুলে যাওয়া, সমস্যা হলে তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু অনেক সময় রাগ-অভিমান করে কথা না বলে নীরবতা অবলম্বন করা হয়। এই অভিমান দীর্ঘদিন মনের মধ্যে পুষে রাখলে তা পাহাড় সমান হয়। এতে সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব বাড়ে। ভালোবাসা কমে যায়। আর এভাবে কোনো সম্পর্কও টেকসই হয় না।

এজন্য শান্ত পরিবেশে নিজের সুবিধা-অসুবিধার কথা স্পষ্ট করে বললে অনেক ভুল বুঝাবুঝিই দূর হয়ে যায়। রাসুল সা. বলেন, কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের (অর্থাৎ, স্বামী-স্ত্রীসহ যেকোনো মুসলিম) সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বন্ধ রাখা বৈধ নয়। তাদের সাক্ষাৎ হয়, তখন সে এদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সে ওদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে প্রথমে সালাম দিয়ে কথা শুরু করে। (বুখারি: ৬০৭৭)

মনে রাখা জরুরি- একটি সুখী সংসার গড়তে স্ত্রীর পাশাপাশি স্বামীকেও দায়িত্বশীল, ক্ষমাশীল ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ভুল-ত্রুটি হলে তা নিয়ে ঝগড়া না করে বোঝাপড়া ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই উত্তম। আল্লাহ তায়ালা সকলের দাম্পত্যকে ভালোবাসা, শান্তি ও বরকতে ভরে দিন। আমিন।

সূত্র : এনপিবি নিউজ

প্রতিদিন টক দই খেলে মিলতে পারে যে ১০ উপকার?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
প্রতিদিন টক দই খেলে মিলতে পারে যে ১০ উপকার?

সুস্থ থাকতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখা জরুরি, যাতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পায়। এ ক্ষেত্রে টক দই হতে পারে একটি ভালো খাবার।

দুধ থেকে তৈরি হলেও টক দই অনেকের কাছে তুলনামূলক সহজপাচ্য। দুধে থাকা ল্যাকটোজ ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় আংশিকভাবে ভেঙে যায়। ফলে যাঁদের দুধ খেলে অস্বস্তি হয়, তাঁদের কেউ কেউ টক দই তুলনামূলক ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন। তবে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে সবার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া হবে, এমন নয়।

টক দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৬ ও বি১২সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক হতে পারে।

তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টক দই রাখার সম্ভাব্য উপকারগুলো কী?

১. দুধের বিকল্প হতে পারে

অনেকেরই দুধ খেলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হয়। বিশেষ করে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে দুধের পরিবর্তে টক দই অনেকের জন্য তুলনামূলক সহনীয় হতে পারে। কারণ দই তৈরির সময় ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় দুধের কিছু ল্যাকটোজ ভেঙে যায়।

তবে কারও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বেশি হলে দই খাওয়ার আগেও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

২. হজমে সহায়তা করতে পারে

টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুসমষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের হজমের সমস্যা, পেটের অস্বস্তি বা অনিয়মিত মলত্যাগের ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে।

তবে দই কোনো হজমের রোগের চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিনের গ্যাস, অম্বল বা পেটের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে

টক দইয়ে থাকা পুষ্টি উপাদান এবং প্রোবায়োটিক শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে। অন্ত্রের সুস্থতা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবে টক দই খেলেই সর্দি-জ্বর বা অন্য কোনো রোগ থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাওয়া যায়, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

৪. হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টক দইয়ে এই দুই ধরনের খনিজ পাওয়া যায়। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টক দই খেলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে টক দই একা কোনো ম্যাজিক খাবার নয়। তবে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া টক দই প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার হওয়ায় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য টক দইয়ের পাশাপাশি মোট ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে

টক দইয়ে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কম লবণযুক্ত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টক দই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে শুধু দই খেয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত চিকিৎসা মেনে চলতে হবে।

৭. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ

কম চর্বিযুক্ত টক দই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

তবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানো জরুরি।

৮. মানসিক চাপ কমাতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার যেমন টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হওয়ায় সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে টক দই সরাসরি স্ট্রেস বা উদ্বেগের চিকিৎসা করে, এমন বৈজ্ঞানিক দাবি করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৯. শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন জোগাতে পারে

টক দইয়ে ভালো মানের প্রোটিন থাকে। শরীরের পেশি, কোষ ও বিভিন্ন টিস্যুর স্বাভাবিক গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় টক দই প্রোটিনের একটি উৎস হিসেবে রাখা যেতে পারে।

১০. ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা হয়

টক দই ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে মুখে দই, লেবুর রস বা অন্য উপাদান মিশিয়ে লাগানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার। লেবুর রস বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

ত্বকের কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

কীভাবে খাবেন টক দই?

টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া দই। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবারের সঙ্গে কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে এটি খাওয়া যায়। ফল, ওটস বা বাদামের সঙ্গে টক দই মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

তবে বাজারের অনেক ফ্লেভারড বা মিষ্টি দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়ার জন্য দই কেনার সময় পুষ্টি উপাদানের লেবেল দেখে নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে টক দই পুষ্টিকর একটি দুগ্ধজাত খাবার। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিক শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারই সুস্থ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে খাদ্যতালিকায় পরিমিত টক দই রাখলেই মিলতে পারে সবচেয়ে ভালো ফল।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টা মানবিক সেবায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করলো “টীম ফরিদপুর”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টা মানবিক সেবায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করলো “টীম ফরিদপুর”

প্রবাসে কিংবা দূরে থাকা সন্তানদের বয়স্ক বাবা-মা, অসুস্থ এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম।

​রোববার (১৬ আগস্ট) ফরিদপুর থেকে মানবিক সেবার এই নতুন উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

​সংগঠকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দূর-দূরান্তে থাকা সন্তানদের পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও জরুরি প্রয়োজনে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই উদ্যোগটির প্রধান লক্ষ্য। ‘মানুষের প্রয়োজনে আমরা থাকব মানুষের পাশে’—এই অঙ্গীকার নিয়ে মানবিক সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন তারা।

​উদ্যোগটির টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খাইরুল ইসলাম রোমান। এতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন জাহিদুজ্জামান জাহিদ এবং সদস্য হিসেবে আছেন নীলয় চৌধুরীর রেজা।

​টিমের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যরা হলেন— মো. ইয়াসিন, মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ, সাইদুল ইসলাম সাঈদ, মো. মনির খান, মো. আবু সাঈম (অমি), তাসলিম হুসাইন নাহিদ, তরিকুল ইসলাম মাহফুজ, সাইফুল ইসলাম সাইফ, রবিউল ইসলাম, মো. আকিবুল ইসলাম, মোফাসসিল হোসাইন, সৌরভ বারুই, মো. লিমন তালুকদার, মো. আলামিন, সাঈদ আব্দুল বাপ্পি, সাব্বির মোল্লা, এস এম রাকিবুল ইসলাম, সিয়াম আহমেদ সালমান, বাহারুল ইসলাম রবিন, কামরুজ্জামান (জসিম), শাহরিয়ার রাব্বি, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ মিয়া, আশরাফুল ইসলাম রাজু, এস এম সালমান, রিফাত আহমেদ ও আবির বনিক।

​স্বেচ্ছাসেবী এই দলের প্রতিনিধিরা জানান, মানবতার সেবায় নিবেদিত এ উদ্যোগে তারা সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া প্রত্যাশা করছেন, যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে অসহায় মানুষের সেবা দিয়ে যেতে পারেন।

ভাদ্রের প্রথম সকাল : বর্ষার ভেজা পথ পেরিয়ে শরতের আগমন

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
ভাদ্রের প্রথম সকাল : বর্ষার ভেজা পথ পেরিয়ে শরতের আগমন

বর্ষার শেষ প্রহর পেরিয়ে আজ বাংলা পঞ্জিকার পাতায় উঠবে ভাদ্রের প্রথম দিন। ঋতুচক্রের নিয়মে শুরু হবে শরৎ। প্রকৃতির এই পরিবর্তন অবশ্য ক্যালেন্ডারের পাতায় একদিনে ঘটে না। বর্ষার মেঘ, বৃষ্টির জল, সিক্ত মাটি আর ঘন সবুজের বুক চিরেই শরৎ ধীরে ধীরে নিজের উপস্থিতির জানান দেয়। আকাশের নীল একটু একটু করে গাঢ় হয়, মেঘের ভাঁজে আসে শুভ্রতার আভাস, বাতাসের চলনে বদলে যায় ঋতুর ভাষা।

ভাদ্র তাই এক অর্থে দুই ঋতুর সীমানায় দাঁড়ানো একটি মাস। বর্ষার বিদায়ী সুর তখনও শোনা যায়, আবার শরতের আগমনী বাঁশিও বেজে ওঠে। কখনো কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়, কখনো রৌদ্রের ঝিলিক, আবার হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় পথঘাট। এই অনিশ্চয়তা ভাদ্রের স্বভাব; তার সৌন্দর্যও যেন এই বৈচিত্র‍্যরে মধ্যেই।

ভোরের ভাদ্র অন্যরকম কোমল। রাতের বৃষ্টির পর মাটির বুক থেকে উঠে আসে সোঁদা গন্ধ। পাতার ডগায় জমে থাকা জলকণা সকালের আলোয় ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝলমল করে। কোথাও কোথাও শিউলির শুভ্র পাপড়ি জানান দিতে শুরু করে শরতের আগমন। গ্রাম বাংলার উঠোনে ফুল কুড়ানোর ব্যস্ততা, দূরের পাখির ডাক আর হালকা বাতাস মিলে তৈরি করে এক শান্ত সকাল। শহরেও ভোরের আকাশে চোখ রাখলে বোঝা যায়Ñবর্ষার ভার কিছুটা হালকা হয়েছে।

সূর্য ওপরে উঠলে শরতের আরেক রূপ প্রকাশ পায়। ভাদ্রের দুপুরকে একেবারে কোমল বলা যাবে না; রোদের তেজ যথেষ্ট থাকে, বাতাসে আর্দ্রতাও কমে না। কখনো নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, আবার মুহূর্তেই মেঘের ঘনঘটা, প্রকৃতি যেন নিজের ক্যানভাসে বারবার ছবি বদলায়। নদী-নালা ও জলাভূমিতে বর্ষার সঞ্চিত জল তখনও প্রকৃতিকে সজীব রাখে। মাঠে আমন ধানের সবুজ, গাছপালার সতেজতা এবং জলভরা নিম্নভূমি বাংলার ভূ-দৃশ্যকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

এই সময় মানুষের জীবনযাপনেও প্রয়োজন কিছু সচেতনতা। গরম ও আর্দ্রতার কারণে হালকা, আরামদায়ক ও বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক স্বস্তি দেয়। সুতি পোশাক এ আবহাওয়ায় উপযোগী। বাইরে বের হলে ছাতা সঙ্গে রাখা ভালো, কারণ ভাদ্রের আকাশের মন বোঝা কঠিন। পর্যাপ্ত পানি পান, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো পোশাক পরা দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যাভ্যাসেও চাই ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্য। তাজা শাকসবজি, মৌসুমি ফল, দেশীয় মাছ, ডাল ও সহজপাচ্য খাবার শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে। ভাদ্রের আর্দ্র আবহাওয়ায় খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে বাসি বা দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় রাখা খাবার এড়ানো উচিত। নিরাপদ পানি পান এবং খাবার ঢেকে রাখার মতো সাধারণ সতর্কতাও এ সময় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

দুপুরের উত্তাপ পেরিয়ে বিকেল নামলেই ভাদ্র যেন তার সবচেয়ে চিত্রময় মুখটি খুলে বসে। খোলা মাঠে বাতাসের দোল, নদীর জলে সূর্যের শেষ আলো আর দূরের কাশবনের শুভ্রতা মিলে তৈরি হয় শরতের নিজস্ব দৃশ্যপট। কাশফুলের নরম দোলা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়; বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতেও এটি শরতের অন্যতম প্রতীক। নদীর পাড়ে দাঁড়ালে মনে হয়, জল আর আকাশের মাঝখানে প্রকৃতি নিজেই একটি সাদা স্বপ্ন এঁকে দিয়েছে।

বিকেলের শেষে আসে সন্ধ্যা। দিনের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়। কৃষক মাঠ থেকে ফেরেন, গৃহস্থের উঠোনে আলো জ্বলে, শহরের ব্যস্ত মানুষও কিছুক্ষণের জন্য আকাশের দিকে তাকানোর অবকাশ পান। বর্ষার দীর্ঘ অস্থিরতার পর এই সন্ধ্যায় প্রকৃতি যেন একটু শান্ত হতে শেখায়।

আর শরতের রাতে তার নিজস্ব এক মায়া আছে। মেঘ সরে গেলে জ্যোৎস্না নেমে আসে উঠোনে, ছাদে, নদীর জলে। চাঁদের আলোয় গাছের ছায়া দীর্ঘ হয়, দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়। গরমের অস্থিরতা আর শীতের কনকনে অনুভূতি; দুটির মাঝামাঝি এক আরামদায়ক আবহ তৈরি হয়। যদিও ভাদ্রের আর্দ্রতা ও বৃষ্টির প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রতিটি রাত সমান নির্মল হয় না।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভাদ্র কিছু বাস্তব সতর্কতাও মনে করিয়ে দেয়। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। প্রচন্ড রোদে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ছাতা বা অন্যান্য সুরক্ষা নেওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে না দেওয়াও দরকার।

ভাদ্রের সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনও ধীরে ধীরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শরতের আগমন মানেই সামনে শারদীয় উৎসবের প্রস্তুতি। এখনো দূরে কোথাও ঢাকের আওয়াজ শোনা না গেলেও মন্ডপ তৈরির ব্যস্ততা, বাজারে নতুন পোশাকের আনাগোনা কিংবা ঘর গোছানোর আয়োজন জানান দেয় উৎসব আসছে। প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মনও তখন নতুন আনন্দের অপেক্ষায় থাকে।

তবু ভাদ্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য কোনো একক দৃশ্যে নয়; তার সৌন্দর্য পরিবর্তনের ভেতর। বর্ষার ঘন সবুজকে সঙ্গে নিয়ে সে এগিয়ে যায় শরতের নীল আকাশের দিকে। কখনো মেঘলা, কখনো রৌদ্রোজ্জ্বল, কখনো বৃষ্টিস্নাত প্রতিটি মুহূর্তে তার আলাদা রূপ।

ভাদ্র আমাদের তাই শুধু একটি নতুন মাস উপহার দেয় না; দেয় একটু থামার উপলক্ষ। ব্যস্ততার বাইরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখার, নদীর স্রোত শোনার, কাশফুলের দোলায় চোখ রাখার এবং বুঝে নেওয়ার সুযোগ দেয় প্রকৃতি কখনো একই থাকে না, অথচ তার প্রতিটি পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সৌন্দর্য।
কাল ভাদ্রের প্রথম সকাল। হয়তো আকাশে মেঘ থাকবে, হয়তো রোদ উঠবে, হয়তো হঠাৎ বৃষ্টিও নামবে। তবু সেই পরিবর্তনশীল আকাশের নিচেই শরৎ তার প্রথম পদচিহ্ন রাখবে।

শরৎ কোনো ঘোষণা দিয়ে আসে না, সে আসে বাতাসের স্বরে, আকাশের নীলে, কাশফুলের শুভ্রতায় এবং মানুষের মনে নতুন ঋতুর অদৃশ্য আনন্দ হয়ে। স্বাগতম ভাদ্র। স্বাগতম শরৎ।

লেখক: সহ-সম্পাদক,সমাজকল্যাণ বিভাগ, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।