খুঁজুন
, ,

ভাঙ্গায় মহাসড়কে পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটি, পিস্তল বের করে যুবকের প্রকাশ্যে গুলি

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় মহাসড়কে পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটি, পিস্তল বের করে যুবকের প্রকাশ্যে গুলি

ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে প্রাইভেটকার পার্কিংকে কেন্দ্র করে এক যুবকের জনসমক্ষে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাড়াহুড়ো করে সরতে গিয়ে ২ জন আহত হয়েছেন।

​ঘটনার একটি ২৬ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আমিন জানান, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী একটি প্রাইভেটকার হাইওয়ে থানার সামনে থামিয়ে এক যুবক ও যুবতী চা খেতে নামেন। গাড়িটি সড়কের ওপর রাখা দেখে স্থানীয়রা চালককে কিছুটা সাইড করে পার্কিং করার জন্য অনুরোধ জানান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই যুবক গাড়ি থেকে পিস্তল বের করে জনসমক্ষে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আকস্মিক বিকট শব্দে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যায়।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু জানান, বিষয়টি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে খবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতারা।

​রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহিন মোল্লা।

​লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলারশিপ বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের নতুন করে ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

​তারা বলেন, ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকলে সাধারণ কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

​সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—

১. অভিযোগ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করা।

২. সরকারি বিধি অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ডিলার নিয়োগ দেওয়া।

৩. অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।

৪. কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

​সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিকার না পেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

​এ সময় পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি কাইয়ুম সিকদার ও সাবেক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন যোগ্য আবেদনকারীর তালিকা জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে চূড়ান্ত নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

​অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি বিধি-বিধান মেনেই সারের ডিলারদের তালিকা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।”

ফরিদপুরের লোকালয়ে দলছুট হনুমান, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের লোকালয়ে দলছুট হনুমান, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে দলছুট একটি কালামুখো হনুমান। খাবারের সন্ধানে এসে গত কয়েক দিন ধরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বিচরণ করছে প্রাণীটি।

​কখনও গাছের ডালে, কখনও ঘরের চালে, আবার কখনও বাড়ির সীমানা প্রাচীরে বসে থাকছে মুখপোড়া এ বন্য প্রাণী। তাকে একনজর দেখতে আর খাবার খাওয়াতে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী কৌতূহলী মানুষ।

​রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভার কালিবাবু রোড এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হনুমানটিকে ঘিরে উৎসুক জনতার দারুণ কৌতূহল। বিশেষ করে শিশুরা প্রাণীটির চলাফেরা বেশ উপভোগ করছে। অনেকে দূর থেকে দেখছেন, আবার কেউ কেউ হাতে কলা ও অন্যান্য খাবার নিয়ে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবে ধীরে ধীরে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রাণীটির এক ধরনের সখ্য গড়ে উঠেছে।

​আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী মিহির হোসেন বলে, “বিকেলে হনুমানটিকে দেখতে এসেছি এবং তাকে নিজ হাতে কলা খেতে দিয়েছি।”

​রাজ কুমার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের আলফাডাঙ্গায় সচরাচর হনুমান দেখা যায় না। মূলত খাবারের খোঁজেই প্রাণীটি লোকালয়ে চলে এসেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে একে একনজর দেখতে।”

​তবে পরিবেশপ্রেমী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা বন্য প্রাণীটিকে বিরক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৌতূহলের বশে প্রাণীটিকে ধাওয়া করা, ঢিল মারা বা খুব কাছে গিয়ে আতঙ্কিত করা উচিত নয়। এতে প্রাণীটি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

​এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন জানান, “দলছুট হয়ে হনুমানটি লোকালয়ে চলে এসেছে। তাকে কেউ উত্যক্ত বা আঘাত না করলে খাবার খেয়ে সে নিজে থেকেই নিরাপদ সময়ে তার প্রাকৃতিক আবাসে ফিরে যাবে।”

​স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, বন্য প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাই যেন দায়িত্বশীল আচরণ করেন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই তাকে বিচরণ করতে দেন।

দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ইতিহাস গড়লেন হাসান

খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ইতিহাস গড়লেন হাসান

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর স্পেলের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান একমাত্র টেস্ট ম্যাচে আগুন ঝরানো বোলিংয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ।

টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে দুই জন স্পিনার হ্যাটট্রিক করলেও, কোনো লাল-সবুজের পেসারের এই কীর্তি ছিল প্রথম।
হাসান মাহমুদের এই অবিশ্বাস্য কীর্তিটি আসে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে আফগান ইনিংসের ৮২তম ওভারে।

ওভারের তৃতীয় বলে ইসমত আলমকে (১) বোল্ড করে ধ্বংসযজ্ঞের শুরু করেন তিনি। ঠিক তার পরের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জিয়া-উর-রেহমানকে (০)।
এরপরের বলটি ছিল দেখার মতো; ব্যাক অব আ লেন্থ থেকে সুইং করা ডেলিভারিতে পরাস্ত হন কাইস আহমেদ। বলটি তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে গেলে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক অসাধারণ ক্যাচ তালুবন্দী করেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।
আর তাতেই পূর্ণ হয় হাসানের স্বপ্নের হ্যাটট্রিক এবং মাঠে মেতে ওঠে পুরো বাংলাদেশ দল।
হাসান মাহমুদের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিকধারীর সংখ্যা এখন তিন। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের পেশোয়ার টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন লেগ-স্পিনার অলক কাপালি। তার ঠিক ১০ বছর পর, ২০১৩ সালে ঢাকার মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি একই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী। আর এবার দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২৬ সালে এসে তৃতীয় বাংলাদেশি এবং প্রথম দ্রুতগতির বোলার হিসেবে সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ।

হাসানের তাণ্ডবে পরপর তিন বলে তিন উইকেট হারিয়ে ২২০ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয় আফগানিস্তান। দিনের শুরুতে হাসানের এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ে ম্যাচে চালকের আসনে বসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

প্রথম ইনিংসে ওপেনার তানজিদ হাসানের ৮৩, সাদমান ইসলামের ৬৭ এবং লিটন দাসের ৫৩ রানের ওপর ভর করে ৩৪৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আবদুল মালিকের ৬২ ও রহমত শাহর লড়াকু ৮৮ রানের ওপর ভর করে আফগানিস্তান এক পর্যায়ে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল। তবে শেষ বিকেলে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক ও ইবাদত হোসেনের ৩ উইকেটের ধাক্কায় খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তান ১২৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে। হাসান মাহমুদ ৪টি এবং ইবাদত হোসেন ৩টি উইকেট শিকার করেছেন।