খুঁজুন
, ,

সালথায় বাঁশের সাঁকো দেওয়া নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
সালথায় বাঁশের সাঁকো দেওয়া নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার ও বাঁশের সাঁকো দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

​শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া বলতলা ব্রিজ এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ময়েনদিয়া বাজারের আধিপত্য নিয়ে যদুনন্দী ইউনিয়নের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এবং পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার খারদিয়া-ময়েনদিয়া কুমার নদীতে বাঁশের সাঁকো তৈরিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোক জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেলজুড়ে চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ১০ জন।

​আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

​ঘটনার পর সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেওয়া দুই পক্ষের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ফরিদপুরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভাকক্ষে প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে ফাতেমা ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ফরিদপুর জেলা পুলিশ শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি দায়িত্বে সততা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সদস্যদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

​প্রথম ব্যাচে জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, আইন প্রয়োগে মানবিক হওয়া, জনগণের আস্থা অর্জন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা, আসামি ৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা, আসামি ৪৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চা দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ রবি (৫৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

​এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রবিউলের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

​থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়বাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা (হুকুমের আসামি) করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য আসামিরাও একই এলাকার বাসিন্দা।

​মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চা বিক্রি করতেন। ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে নিজ গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয় এবং সঙ্গে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন।

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার জানান, নিহতের ভাতিজার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

​উল্লেখ্য, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে গত ২৬ জুন সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবক খুন হন। নিহত রবিউল ছিলেন সুমনের চাচা। ওই সুমন হত্যা মামলারও প্রধান হুকুমের আসামি ছিলেন হোসাইন শেখ। পূর্বের মামলায় আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় আসার পরই এ নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অবশেষে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন পদে মঞ্জুর এ এলাহীর পদায়ন বাতিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন পদে মঞ্জুর এ এলাহীর পদায়ন বাতিল

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীর বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অংশ বাতিল করা হয়।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখার যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা স্মারকমূলে ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীকে ওএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা থেকে সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব), ফরিদপুর হিসেবে বদলি/পদায়নের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য প্রযোজ্য অংশ নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর ফরিদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন বাতিলের দাবিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন ছাত্র সমাজ। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ তুলে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁকে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে না রাখার দাবি করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় নবনিযুক্ত সিভিল সার্জনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। পরে আপাতত অবরোধ স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সতর্ক করেন।

এর দুই দিন পরই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি/পদায়নের আদেশ বাতিলের কথা জানানো হলো।

প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ফরিদপুরের সিভিল সার্জন/সহকারী পরিচালক এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।