ফরিদপুরের সালথায় এবার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এরই মধ্যে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের সংশোধিত প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় সালথায় এ মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সংশোধিত অধিগ্রহণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংশোধিত প্রস্তাবে প্রস্তাবিত জমির মৌজা ম্যাপ, ভূমির বাজারমূল্য, রেকর্ডীয় মালিকানার তথ্য, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে কি না—সে সংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রস্তাবিত জমি এক ফসলি, দুই ফসলি না তিন ফসলি, জমিটি নদী-খাল-পাহাড় বা টিলা শ্রেণির কি না এবং খাস বা অর্পিত সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব তথ্যও যাচাই করা হয়েছে।
চিঠিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ সালের স্মারকের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার ৭ এপ্রিল ২০২৫ সালের সংশ্লিষ্ট স্মারকের উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালথায় দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক ও পর্যাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ থাকলেও সেগুলো নিয়মিত খেলাধুলা, বড় টুর্নামেন্ট কিংবা প্রশিক্ষণের জন্য সবসময় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। মিনি স্টেডিয়াম নির্মিত হলে সেই সংকট অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন তারা।
তবে তারা অভিযোগ করে বলেন, আশেপাশের অধিকাংশ উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শেষ হলেও অদৃশ্য কারণে এ উপজেলাটিতে এখনও স্টেডিয়াম নির্মাণ শুরু হয়নি। তাইতো ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনার দাবি তাদের।।
সালথার স্কুলছাত্র রুমান শেখ বলেন, ‘আমরা মাঠে খেলতে চাই। কিন্তু ভালো ও নির্দিষ্ট মাঠের অভাব রয়েছে। মিনি স্টেডিয়াম হলে নিয়মিত ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সুযোগ পাব। আমাদের জন্য এটি অনেক আনন্দের খবর।’
স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। খেলাধুলা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিনি স্টেডিয়াম হলে সালথার শিক্ষার্থীরা আরও বেশি খেলাধুলায় যুক্ত হবে।’
কৃষক জমির খাঁ বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য ভালো একটা খেলার জায়গা দরকার। মাঠ থাকলে তরুণরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকবে। এতে তারা নানা ধরনের খারাপ অভ্যাস থেকেও দূরে থাকবে।’
সালথা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মিনি স্টেডিয়াম হলে সালথার তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে পারবেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হবে। দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা দরকার।’
সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, ‘সালথায় অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। কিন্তু উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাবে তাদের অনেকেই সামনে এগোতে পারে না। মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে।’
সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামান ওহিদ বলেন, ‘মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ সালথার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু খেলাধুলা নয়, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় ক্রীড়া আয়োজনের সুযোগও তৈরি হবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।’
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘সালথায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যাদি সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরবর্তী সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তাদের মতে, একটি আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠলে সালথার মাঠে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরি হবে, বাড়বে ক্রীড়া চর্চা এবং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ।
আপনার মতামত লিখুন
Array