খুঁজুন
, ,

সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে যে কারণে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে যে কারণে?
প্রেমে পড়া যেমন স্বাভাবিক, তেমনি কোনো একসময় প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে যেমন দুজনের সমান অংশগ্রহণ থাকে, ভাঙনের ক্ষেত্রে সবসময় তা হয় না।

কখনো একজনের সিদ্ধান্তেই সম্পর্কের ইতি ঘটে, আবার কখনো দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলাদা হয়ে যান।একটি সম্পর্ক ভবিষ্যতে টিকবে কি না, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

সম্পর্কের কিছু পরিবর্তন ও আচরণ দেখে বোঝা যায়, সেটি ধীরে ধীরে কোন দিকে এগোচ্ছে। জেনে নিন, কোন লক্ষণগুলো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে:প্রেমের শুরুতে যত্ন ও ভালোবাসার কোনো কমতি থাকে না।

কিন্তু সম্পর্ক পুরোনো হতে শুরু করলে অনেক সময় এসব ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়। আপনার প্রতি সঙ্গীর যত্ন কমে গেলে, পর্যাপ্ত সময় থাকার পরও যোগাযোগ কমতে থাকলে কিংবা আপনার প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দিলে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
 

একটি সুস্থ সম্পর্কে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুর মতো খুনসুটি বা মজা থাকতেই পারে, কিন্তু দিনের শেষে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। কিন্তু কটু কথা, অপমান কিংবা অসম্মান যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রেমের অন্যতম ভিত্তি হলো বিশ্বাস। তাই সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস, অতিরিক্ত সন্দেহ কিংবা প্রতারণা ঢুকে পড়লে সম্পর্ককে স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে যায়।

বিশ্বাস একবার নষ্ট হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। তাই সম্পর্কের মধ্যে বারবার অবিশ্বাস তৈরি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

কারও কারও আবেগ ও অনুভূতি অন্যদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। তাই সঙ্গীর আবেগ ও সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

কেউ যদি বারবার নিজের অনুভূতিতে আঘাত পান এবং তার সঙ্গী বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে তা সম্পর্কের জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। বরং সঙ্গীর আবেগকে বিরক্তিকর মনে হতে শুরু করলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

একটি সুন্দর প্রেমের সম্পর্কের ভেতর বন্ধুত্ব থাকাও প্রয়োজন। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক নয়, একে অপরের ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে পারাও সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে।

বন্ধুর মতো অনেক কথা বলা, মনের কথা ভাগ করে নেওয়া এবং একে অপরের কাছে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা, এসব সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সম্পর্ক থেকে বন্ধুত্ব হারিয়ে গেলে সেটি সম্পর্কের জন্য সতর্কসংকেত হতে পারে।

প্রায় সব সম্পর্কেই কোনো না কোনো সময় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেটি আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা।

কথা না বলে বিষয়গুলো জমতে থাকলে ভুল বোঝাবুঝি ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে। একসময় একে অপরকে বারবার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেও বিরক্তি তৈরি হতে পারে। তাই ভুল বোঝাবুঝি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা জরুরি। কারণ ছোট ছোট অভিমান ও ভুল বোঝাবুঝি জমতে জমতে একসময় সম্পর্কের মধ্যে বড় দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, চার মাস পর নার্স বীথির মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, চার মাস পর নার্স বীথির মৃত্যু

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার দীর্ঘ ছয় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বিথী আক্তার (২৫) নামের এক ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

​নিহত বিথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দ। অপারেশনের মাধ্যমে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলায় বিথীর পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই দিয়ে দেওয়া হয়।

​অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটে ব্যথা ও শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় জন্ম দেওয়া নবজাতক সন্তানকেও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি তিনি। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর, গত ১৫ জুলাই আবারও তার পেটে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

​পরবর্তীতে অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। একপর্যায়ে গত ৪ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

​নিহতের স্বামী রাকিবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এখন এই দুধের শিশুকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? আর যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয় বা কেউ এমন অবহেলার শিকার না হন, তাই দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”

​ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কিছুদিন আগে আমি নিজে এবং গত বুধবার জেলা প্রশাসক মহোদয় বিথীর সন্তানকে দেখতে গিয়েছিলাম। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

ফরিদপুরে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অপরাধে দু’জনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অপরাধে দু’জনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মাদক (ইয়াবা) সেবন ও বিক্রির অপরাধে দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের বিন্দুডাঙ্গী গ্রামের শেখ মোকলেসের মেয়ে রিমা আক্তার (২০) এবং একই ইউনিয়নের ব্যাপারিডাঙ্গী গ্রামের আবুল মৃধার ছেলে রাশেদ মৃধা (২৮)।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমাকে ৬ মাসের ও রাশেদকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উভয়কে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা ও সাজা ঘোষণা করা হয়।

​অভিযান পরিচালনকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রিমা ও রাশেদের বাড়িতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাতেনাতে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। এ সময় রিমার কাছ থেকে ৪টি এবং রাশেদের কাছ থেকে ২টি ইয়াবাসহ সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

​তিনি আরও জানান, আটক দুইজনের মধ্যে রিমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত।

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং পরবর্তীতে বিষাক্ত ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জিল্লুর মোল্যাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি জিল্লুর মোল্যা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

​দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লুর মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে।

​মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পরিবারিকভাবে জিল্লুর মোল্যার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিহতের স্বজনেরা জানতে পারেন যে, পারিবারিক কলহের জেরে দুপুর ১টার দিকে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

​সংবাদ পেয়ে নিহতের স্বজনেরা আসামির বাড়িতে গিয়ে উঠানে চৌকির ওপর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই ইমরান মোল্লা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন।

​মামলার তদন্ত এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে যে, ঘটনাটি আত্মহত্যা ছিল না। নিহতের শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার নিকোটিনজাত বিষক্রিয়া পাওয়া যায় এবং চিকিৎসকের মতামতে এটিকে হত্যাজনিত মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন তদন্ত শেষে জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বিচারক দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। আদালতের এই কঠোর রায় সমাজে অপরাধ দমনে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।