ফরিদপুরের নগরকান্দা মডেল মসজিদের প্রাচীর নির্মাণ ঘিরে ক্ষোভ, জমি দখলের আশঙ্কা
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা মডেল মসজিদের সামনের অংশ বাদ দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গফুট সরকারি জমি সীমানার বাইরে রেখে এই প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে মূল্যবান এই সরকারি জমি বেদখল হয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নগরকান্দা উপজেলা মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদের সামনে মুসল্লিদের চলাচল, যানবাহন পার্কিং এবং প্রয়োজনে জানাজার নামাজের জন্য প্রায় ২ হাজার বর্গফুট খোলা জায়গা রাখা হয়। মসজিদের সৌন্দর্য বাড়াতে ও মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়গাটিতে টাইলস বসিয়ে দেন। সারা দেশের অন্যান্য মডেল মসজিদের সামনেও এমন পরিবেশ রাখা হয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন তৎকালীন সীমানা অনুযায়ী কাজ না করে মসজিদের সামনের আনুমানিক ১ হাজার ২০০ বর্গফুট জমি সীমানার বাইরে রেখে প্রাচীর নির্মাণ করছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের মূল দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও তাদের এমন পদক্ষেপে মূল্যবান খাস জমিটি দখলের ঝুঁকি বাড়ছে। সুযোগসন্ধানীরা পরবর্তীতে এই জায়গায় দোকানঘর বা অবৈধ স্থাপনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, জুমার দিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মুসল্লি এই মসজিদে আসেন। সামনের যেটুকু জায়গা ব্যবহারযোগ্য ছিল, তা সীমানার বাইরে চলে গেলে মুসল্লিদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
জমি বাইরে রাখার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নগরকান্দা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আগের ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ইঞ্জিনিয়াররা মসজিদের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। সুন্দর পরিবেশে মসজিদটি করা হয়েছিল। এখন কার স্বার্থে বা কাকে খুশি করতে উপজেলা প্রশাসন মসজিদের জায়গা বাইরে রেখে প্রাচীর দিচ্ছে, তা আমাদের মাথায় আসছে না। আমরা চাই, মসজিদের পুরোটাই সীমানার ভেতরে রেখে প্রাচীর দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরকান্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসান বলেন, “মসজিদের সামনের জায়গাটি সরকারি খাস জমি, এটি মসজিদের জায়গা নয়। তাই সীমানা প্রাচীর দিয়ে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তবে এভাবে জায়গাটি বাইরে রাখলে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।
একই বক্তব্য দেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। তিনি জানান, মসজিদের সামনের অংশ সরকারি খাস জমি হলেও মসজিদের নিজস্ব জমি না হওয়ায় ওই অংশটি বাদ দিয়েই সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন