খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

পরবর্তী সরকারপ্রধানরা যা শিখতে পারেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ মার্চ, ২০২৫, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
পরবর্তী সরকারপ্রধানরা যা শিখতে পারেন

বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সরকারে যারাই থাক, এক ব্যক্তির হাতেই ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকে।

গত ৫৩ বছর যারা সরকারপ্রধান হয়েছেন, তারা অপরিসীম এবং অপূরণীয় ক্ষমতা উপভোগ করেছেন। তারা যা বলেছেন, সেটাই আইন। তারা যা ইচ্ছা করেছেন সেভাবেই দেশ পরিচালিত হয়েছে। ভুল-শুদ্ধ যা-ই হোক না কেন, তাদের কথাই শেষ কথা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

 

মন্ত্রী, সচিবসহ  সরকারের সবাই সরকারপ্রধানের দিকে তাকিয়ে থাকতেন যে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য। প্রতিদিন সরকারপ্রধানের ব্যস্ততা থাকত চোখে পড়ার মতো। বেশি দূরে যেতে চাই না। গত ১৫ বছর বাংলাদেশের সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে যে ক্ষমতা ছিল, সেই ক্ষমতা রাজতন্ত্রে রাজার হাতেও ছিল না।

বাংলাদেশ ছিল আসলে সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শাসিত একনায়কতান্ত্রিক সরকার। যদিও বলা হয়েছিল যে, আমাদের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে এমন ক্ষমতা দিয়েছে যে, এই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি ছাড়া আর কারও কোনো বাস্তবে তেমন ক্ষমতা নেই।

ড. আকবর আলী খান তার লেখায় উল্লেখ করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রীকে দেশ শাসনে একক কর্তৃত্ব দিয়ে মূলত সংবিধানেই গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সংবিধানে যাই থাকুক না কেন, একজন ব্যক্তির যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করার আকাক্সক্ষা থাকে, তিনি যদি সবার মতামতের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে চান, তিনি যদি দায়িত্ব বণ্টন করে সব দায়িত্বকে সমন্বিত করতে চান তাহলে সংবিধান বাধা নয়। গত সাত মাসে আমরা তার প্রমাণ পেলাম।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাত মাসে দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, কীভাবে সরকারপ্রধানকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কীভাবে সম্মিলিতভাবে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করা যায়। বাংলাদেশের দীর্ঘদিন ধরে যে সংস্কৃতি চালু, তা হলো সরকারপ্রধান সারাক্ষণ টেলিভিশনের পর্দায় থাকবেন। তিনি একাধিক অনুষ্ঠান করবেন। তার কর্মব্যস্ততা দেখানোই হলো সবগুলো সরকারি, বেসরকারি টেলিভিশনের প্রধান লক্ষ্য। একদিন তিনি দৃশ্যপটের আড়ালে থাকলেই হুলুস্থল হয়ে যেত।

কিন্তু আমরা যদি গত সাত মাসে দেখি যে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতি কম। তিনি যখন উপস্থিত হন তখন যৌক্তিকভাবে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতি হয় নীতি-নির্ধারণী এবং গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তার কথা মানুষ শোনে। তিনি অযাচিতভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ছোট-বড় নানারকম কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে একই রকম বক্তৃতা চর্বিতচর্বণ করেন না। যার ফলে তার প্রতিটি কথার মধ্যে এক ধরনের চিন্তা-দর্শন থাকে। মানুষ সেই কথাগুলোকে গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং ধারণ করার চেষ্টা করে।

আমরা অতীতে দেখেছি যে, তামিম ইকবালের অবসর গ্রহণ থেকে শুরু করে সাবিনাদের বেতন না পাওয়া কিংবা চুড়িহাট্টায় আগুন লাগার পর দুস্থদের কী হবে সবকিছুই যেন প্রধানমন্ত্রীকে করতে হয়। এসব ছোটখাটো বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আসে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া যেন কিছুই হয় না। একজন পিয়নের বদলি থেকে শুরু করে একটি শবদেহ দাফনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকে সবাই তাকিয়ে থাকে। মন্ত্রীরা কোনো কাজ করেন না। তারা প্রধানমন্ত্রী কী ভাবছেন, প্রধানমন্ত্রী কী নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকেন।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দেখা যেত, ফাইল পড়ে আছে। কারণ হলো এ ব্যাপারে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। তার পর দেখা যাবে। ছোটখাটো সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল দৃষ্টিকটু পর্যায়ে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী একজন মানুষ। ১৮ কোটি মানুষের একটা দেশ এককভাবে তার পরিচালনা করা অসম্ভব ব্যাপার। সব বিষয়ে মনোযোগ দিতে গিয়ে আসল কাজটিই ঠিকঠাকমতো হতো না। এই প্রথা ভেঙে দিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেখা যাচ্ছে কোনো বিষয়েই তিনি হস্তক্ষেপ করেন না।

গত সাত মাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় স্বাধীন এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই সরকারের অনেক ব্যর্থতা আছে, অনেক ভুল-ত্রুটি আছে এ কথা সত্যি। কিন্তু কোনো উপদেষ্টা কোনো সিদ্ধান্তের জন্য প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে থাকছেন না বা প্রধান উপদেষ্টার মতামতের জন্য তারা অপেক্ষা করছেন না।

ধরা যাক, বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের কথা, সেখানে যে নাটক হলো অতীত যদি এমনটি হতো তাহলে নির্ঘাত এনিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দেখা যেত। হয়তো নারী ফুটবলাররা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছে যেতেন। কিন্তু বিষয়টা বাফুফের। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টা তো নয়ই, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও এনিয়ে কোনোরকম হস্তক্ষেপ করেনি। সব বিষয়ে যে সরকারপ্রধানকে কথা বলতে হয় না, এটা প্রধান উপদেষ্টা শেখালেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এনিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রতিদিনই সংবাদ সম্মেলন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন তার প্রেস সচিব। শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান এবং মনোভাব প্রকাশ করছেন তার প্রেস সচিব। এটি আসলে গণতান্ত্রিক রীতি এবং শিষ্টাচার।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে এটি চালু করলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভুল-শুদ্ধ যেভাবে করুক, নিজ উদ্যোগে কাজ করে যাচ্ছেন। সব মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারাও তাদের মতো করে কাজ করছেন। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় সবচেয়ে ইতিবাচক যে অর্জনটি হয়েছে তা হলো প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় স্বকীয়, স্বাধীন ও সৃজনশীলতার সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে তাদের একটা স্বতঃস্ফূর্ততা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে সচিব পর্যন্ত তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে পারছেন এবং শেষ পর্যন্ত একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন নতুন সচিব নিয়োগ করা হয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি যে, এসব নিয়োগ হতো পুরোপুরিভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্ষমতাবান আমলারা তাদের খেয়াল-খুশি মতো বন্ধুবান্ধব, কাছের লোকজনকে যোগ্যতা থাকুক না থাকুক সচিব বানিয়ে দিতেন।

কিন্তু এবার ড. ইউনূসের নেতৃত্বে এই সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। এ ব্যাপারে একটি বোর্ড গঠিত হয়েছে। বোর্ড বিভিন্ন ব্যক্তিদের সচিব পদে আসার আসার যোগ্যতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে পর্যালোচনা করছেন এবং সবকিছু বলে দেখে-শুনে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশাসনের এই বিকেন্দ্রিককরণ এবং প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার যে সুযোগ এটি অতীতে আমরা কখনো দেখিনি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এটি করছেন এবং এর ফলে কাজে স্বচ্ছতা এসেছে। প্রধান উপদেষ্টা পুরো রাষ্ট্র এবং দেশ নিয়ে ভাবনার সময় পাচ্ছেন। নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তিনি মনোযোগ দিতে পারছেন।

এর ফলে বাংলাদেশ নীরবে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন করছে। প্রধানমন্ত্রী যদি পিয়ন, দারোয়ান নিয়োগ, ক্রিকেট আর ফুটবলের দলে থাকা না থাকা ইত্যাদি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে? আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, প্রধান উপদেষ্টা সবসময় বিভিন্ন উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে। অতীতে আমরা দেখেছি যে, মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন না।

তাদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা বাসভবনের পিয়ন, চাকরদের ধরতে হতো। এখন পরিস্থিতিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে কোনো উপদেষ্টা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। প্রধান উপদেষ্টার কাছে তারা যেতে পারেন এবং যে কোনো সংকট নিয়ে তারা আলোচনা করতে পারেন। অর্থাৎ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেভাবে চলতে পারে সেভাবে চলার একটি রূপকল্প গত সাত মাসে উপস্থাপন করেছেন ড. ইউনূস।

সরকার কোনো ব্যক্তির নয়। সরকার হলো একটি সমষ্টি গ্রুপ, যেটি ড. ইউনূস প্রায়ই বলেন যে, এটি হলো খেলার টিমের মতো। এখানে সবাই যদি সমানভাবে পারফরমেন্স না করে তাহলে যেমন একটা দল ভালো করতে পারে না, ঠিক তেমনিভাবে সরকারের সবাই যদি সম্মিলিতভাবে যার যার দায়িত্ব সে পালন না করে তাহলে সরকারও কার্যকর হয় না। আর সেই সুব্যবস্থাপনার একটি প্রয়োগ আমরা গত সাত মাসে দেখছি। একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজগুলো হচ্ছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই সরকার একটি অন্তর্বর্তী সরকার। কাজেই আগামীতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবেন, সরকার গঠন করবেন তারা এই সমন্বিতভাবে দেশ পরিচালনার শিক্ষাটা নিতে পারেন। এককভাবে সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চাইলে কেউ কোনো কাজ করে না। সবাই প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকে এবং রাষ্ট্র ভুল পথে পরিচালিত হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেখালেন সম্মিলিত শক্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায়। আইন বা সংবিধান সেখানে বাধা না। নিজের ইচ্ছাটাই যথেষ্ট।

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।