খুঁজুন
, ,

হঠাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে অস্থিরতা, নেপথ্যে কী?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে অস্থিরতা, নেপথ্যে কী?

গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষ ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শাহবাগ থানার ভেতরেও সংঘর্ষে জড়িয়েছে এই দুইটি ছাত্র সংগঠন।

এ সময় ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন শিবির সমর্থিত ডাকসুর কয়েকজন নেতাও। ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকও।

এর মাত্র দুইদিন আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে একটি কলেজে শিবিরকে ইঙ্গিত করে একটি গ্রাফিতিতে ছাত্রদলের ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে এই দুইটি দলের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে।

এর বাইরেও গত কয়েকদিনে দেশের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে নানা ইস্যুতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পরে আবার অস্থির হয়ে উঠছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

উভয় সংগঠনই একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং বিভিন্ন কৌশলে ক্যাম্পাস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করছে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, মূলত ছাত্র শিবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং নানা কৌশলে ক্যাম্পাসগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানোর কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

অবশ্যই এই অভিযোগ অস্বীকার করে শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর ছাত্রদল এখন ক্যাম্পাসগুলোরও নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। যে কারণে তারা শিবিরের সাথে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছে।

ক্যাম্পাসগুলোর এই পরিস্থিতি নিয়ে কথার লড়াই গড়িয়েছে জাতীয় সংসদেও। রোববার বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পাসগুলোতে আবারো গণরুম-গেষ্টরুম কালচার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, যে কারণে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে ক্যাম্পাসগুলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার আসার পর একদল আধিপত্য ধরে রাখতে চাইছে অন্যদল আধিপত্য ফিরে পেতে লড়াই করছে যে কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল ছাত্রলীগ। আবাসিক হলগুলোতে ‘গণরুম ও গেষ্টরুম কালচার’ প্রতিষ্ঠা করে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৌশলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও সামনে এসেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে এতদিন গোপনে থাকা কমিটিও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তখন জানা যায়, এতদিন ছাত্র শিবিরের অনেক নেতা-কর্মী ছাত্রলীগসহ অন্যান্য দলের ভেতরে গোপনে অবস্থান নিয়ে ছিলেন।

এর ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনুষ্ঠিত ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও শিবির সমর্থিত প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর ক্যাম্পাসগুলোতে অনেকটা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল ছাত্র শিবির।

গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পরও ক্যাম্পাসগুলোতে বড় কোন পরিবর্তন আসেনি ছাত্র রাজনীতির বলয়ে।

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে একটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুইটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচনের পর সরকারে আসছে বিএনপি। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান দল ছাত্র শিবির। এখন শিবিরের বদলে ছাত্রদল প্রভাব বিস্তার করতে চাচ্ছে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে কোথাও কোথাও”।

যদিও এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলছেন, “তাহলে এটা স্পষ্ট যে পাঁচই অগাস্টের পর শিবির ক্যাম্পাসগুলো দখল করেছে, হলগুলোও দখলে রেখেছে, অথচ শিবির বলে তাদের হলে কার্যক্রম নেই, কমিটি নেই। যদি নাই থাকে তাহলে ছয়ই আগস্ট থেকে ক্যাম্পাস আর হলগুলো কারা দখল করলো। তারা সব কিছু দখলে রাখার পরও তারা সেটি স্বীকার করছে না”।

এই প্রশ্নে শিবিরের সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের পর ক্যাম্পাস ও হলগুলো থেকে যে গণরুম গেস্টরুম কালচার বিদায় করেছিল ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা’ সেটি ফিরিয়ে আনতে চায় বলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

সাধারণ শিক্ষার্থী’র ধারণা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে এর আগে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ বা সহযোগী ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস ও হল দখল করার নানা অভিযোগ ছিল। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে থাকা সংগঠনেরও হল দখল করার উদাহরণ আছে।

তবে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সরকার গঠন হলেও ক্যাম্পাসগুলোতে একটি আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বিভিন্ন ক্যাম্পাসের আবাসিক হলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেনি।

ছাত্রদলসহ কোন কোন ছাত্র সংগঠন আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছিল যে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্র শিবির। যে বিষয়টি কখনো প্রকাশ্যে আসছে না।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “শুধু আবাসিক হল না, গত দেড় দুই বছরে আমরা দেখেছি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতেও তারা সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। যে কারণে সেই সংগঠনগুলোও নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসগুলোতে যেই ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ শব্দটা সামনে আসছে সেই সাধারণ শিক্ষার্থী নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন সময়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান বলেন, “চব্বিশের পাঁচই অগাস্টের পর ক্যাম্পাসগুলো এক ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সেখানে ছাত্ররা চেয়েছে যে ক্যাম্পাসের “সাধারণ শিক্ষার্থীরা” কোন দলের ব্যানারে থাকবে না। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে সাধারণ এর সংজ্ঞা নিয়ে একটা প্রশ্ন উঠছে”।

“কেননা আমরা দেখেছি “সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের” ব্যানারে একটা দল প্রভাব খাটাতে শুরু করলো। সেখানে স্বাভাবিকভাবে সরকার গঠনের পর সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন এই জায়গাটাকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলেছে। এই প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেওয়াকে কেন্দ্র করেই ক্যাম্পাসগুলোতে এক ধরনের অস্থিরতা বা কিছুটা টানাপোড়েন শুরু হয়েছে”, যোগ করেন তিনি।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রদলের এমন অনেকে আছে তাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে দশ বছর আগে, তাদের অনেকে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে হলগুলোতে থাকতে চায়। সেটাতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা’ বাধা দিলেই তারা ক্ষেপে যাচ্ছে। শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছে”।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘বাগযুদ্ধ’

গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শাহবাগে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও শিবিরের কয়েকজন নেতা আহত হন। এই সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।

মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করেই এই সংকট তৈরি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরের নেতাকর্মীদের মারাধর করে।

যদিও ফ্যাক্টচেকিংয়ে পরবর্তীতে সেই ফটোকার্ডটি ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পর দুইটি ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতারা আলোচনা করে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “চব্বিশের পাঁচই অগাস্টের পরও তারা গুপ্ত অবস্থায় থেকে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখছে। বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে বিএনপি ও ছাত্রদল নিয়ে নানা ধরণের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, এই বিষয়গুলো ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কোথাও কোথাও তারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইস্যু ছাড়াও সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন ইস্যুতে এই দুইটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে নানা নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়গুলো সামনে আসছে।

ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, “তারা যে মিথ্যা অভিযোগে হামলা করেছে সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইস্যুতে প্রমাণিত। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিকটিম হচ্ছি, আমরা সেটি নিয়ে মামলা করতে চাইলে অভিযোগ দিতে চাইলে থানা পুলিশও সরকারের ইশারায় সেটি গ্রহণ করছে না”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষাঙ্গন শান্ত রাখতে এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও সরকারের এ নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “ছাত্র সংগঠনগুলো যতদিন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে থাকবে ততদিন এগুলো হতে থাকবে”।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।

সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামে টয়লেট থেকে ফেরার পথে সাপের কামড়ে সরস্বতী মণ্ডল (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সরস্বতী মণ্ডল ওই গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের টয়লেট থেকে ফেরার সময় সরস্বতী মণ্ডল অসাবধানতাবশত একটি ইঁদুরের গর্তে পা দেন। এ সময় গর্তে থাকা একটি সাপ তাঁকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সকাল আটটার দিকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এ মৃত্যুর ঘটনায় পিসনাইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।