খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে দিনমজুরের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে দিনমজুরের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে!
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জায়গা খালি করতে সামেলা বেগম (৪৫) নামে এক হতদরিদ্রের ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম সুভাষ সাহা। তিনি উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর বাজার সংলগ্ন বড়নগর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য।
এ বিষয়ে রবিবার (০৬ এপ্রিল) দুপুরে হতদরিদ্র সামেলা বেগম বাদি হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুভাষ সাহা (৬৮) ও তার ম্যানেজার গোবিন্দ্রের (৫৫) নাম উল্লেখ করে আরো ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।
ভুক্তভোগী সামেলা বেগম (৪৫) উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাহাটি গ্রামে রেলের জায়গায় বসবাস করেন এবং সাতৈর বাজারের একটি বেসরকারি ব্যাংকে রান্নার কাজ করেন বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামেলা বেগম স্বামী সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর শেলাহাটি গ্রামের রেলওয়ের একটি জমিতে টিনের একটি ছাপড়া ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন। পাশেই আওয়ামী লীগ নেতা সুভাষ সাহার জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, হতদরিদ্র সামেলা বেগম যেখানে বসত করেন সেই জমিটি পাওয়ার জন্য সুভাষ সাহা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বেশ কিছুদিন ধরে সুভাষ সাহা ও তার লোকজন বিভিন্ন সময় বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে তার বসতঘরটি  আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের শেলাহাটি গ্রামে ঘোষপুর মৌজায় আওয়ামী লীগ নেতা সুবাষ সাহার নিজস্ব ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লীজ নেওয়া জমি রয়েছে। সেই জমির দক্ষিণ পাশের্^ চন্দনা-বারাশিয়া নদের পাড়ে সুবাষ সাহার কাছ থেকে কিনে ৬-৭টি পরিবার ঘর তুলে বসবাস করছে। আর উত্তরে রেলওয়ের জায়গায় সামেলা বেগমসহ তিনটি পরিবার বসবাস করেন। সবমিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রেলওয়ের জমিতে ভূমিহীনসহ ২৯-৩৫টি পরিবার বসবাস করছে ওই এলাকায়।
ভুক্তভোগী সামেলা বেগম বলেন, আমি তো বাড়ি দুইদিন যাবত রান্না করি না, তাহলে আগুন লাগবে কিভাবে? তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সুবাষ সাহার জায়গার সামনে আমরা রেলের জায়গা থাকি। আমি একটি ব্যাংকে পাহারা দেওয়ার কাজ করার জন্য বাড়ি থেকে চলে আসি। রাতে মানুষের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাড়ি আগুন লেগেছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের সময় মানুষের কাছ থেকে আনা যাকাতের টাকা, মানুষের কাছ থেকে চেয়ে আনা চাল সব পুড়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা যাবতীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এখন আমি সর্ব হারিয়ে পথে বসে গেলাম।
রেলের জায়গায় বসবাসকারী সামেলা বেগমের মেয়ে সেলিনা বেগম বলেন, সুভাষ সাহার লোকজন বিভিন্ন সময় এসে বসত বাড়ি ভেঙে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। তারা জায়গা খালি করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। হঠাৎ আগুনে আমাদের ঘর পুড়ে গেছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় বসবাসকারী হাবিল বিশ্বাস বলেন, সুভাষ সাহার লোকজন বিভিন্ন সময় তার ঘর বাড়ি ভেঙে নেওয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুভাষ সাহা বলেন, আমার ব্যক্তিগত জায়গার সামনে আমার লীজ নেওয়া রেলের জায়গায় ওই মহিলা থাকে। তিনি স্থানীয় জিয়া মেম্বারের ভাইয়ের স্ত্রী। ওই মেম্বারের মাধ্যমে কিছু টাকা দিয়ে আমি তাকে (সামেলা বেগম) ঘর করার জন্য সহযোগিতা করেছি। তিনি সেখানে ঘর উঠিয়ে বসবাস করেন। দিনমুজুর সামেলা বেগমের বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সুবাষ সাহা বলেন, আমি টাকা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করলাম, তাহলে আমি ঘর পুড়াবো কেন?। কিছু লোকজন ঘর পুড়িয়ে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আমার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য। আমি ওসি সাহেব বলেছি, আসল ঘটনা বের করার জন্য।
ঘোষপুর ইউনিয়নের শেলাহাটি সাবেক ইউপি সদস্য খরিলুর রহমান বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত লোকজন নিয়ে ঘটসনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে সহায়তা করি। সামেলা বেগম কারো ব্যক্তিগত জায়গায় নয়, রেলের মালিকানাধীন জায়গায় বসবাস করে আসছিলেন।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, বাড়ি পুড়ানোর বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে লোডশেডিং-দ্রব্যমূল্যে অতিষ্ঠ জনজীবন, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে লোডশেডিং-দ্রব্যমূল্যে অতিষ্ঠ জনজীবন, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, অভিযোগকৃত অতিরিক্ত বা ভুয়া বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ফরিদপুরে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, চলমান গ্যাস সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের শিল্প-কারখানা, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গৃহস্থালির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিযোগকৃত অতিরিক্ত বা ভুয়া বিল আদায়ের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

স্মারকলিপিতে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য পুনর্বিবেচনা, অভিযোগকৃত অতিরিক্ত বা ভুয়া বিল তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি জোরদার, মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনভোগান্তি নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।

স্মারকলিপিতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ বদর উদ্দিন, সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি কামরুল ইসলাম, মাওলানা নাজমুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব, নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, পৌর শাখার সভাপতি ড. এহসানুল মোহাম্মদ রুবেলসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

‘জুলাইয়ের বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের বিজয়’ —পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
‘জুলাইয়ের বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের বিজয়’ —পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, “জুলাইয়ের যোদ্ধারা শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামেননি। তারা দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন, সন্ত্রাস, নির্যাতন ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই আন্দোলন করেছিলেন। এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, এটি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়।”

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শহীদ আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। তাই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস এবং গণতন্ত্রের প্রতি অটল অঙ্গীকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। শহীদদের এই আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করবে।”

তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহিনুজ্জামান শাহিন, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদ, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করলে কী হয়, কীভাবে এগুলো এড়ানো যায়?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করলে কী হয়, কীভাবে এগুলো এড়ানো যায়?

সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাদের পানীয় জল, সামুদ্রিক খাবার, ফলমূল, শাকসবজি, লবণ, মধু, চা, চাল, এমনকি শ্বাস নেওয়ার বাতাসেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা খুঁজে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস, হৃদযন্ত্রের ধমনী এবং গর্ভফুলের মধ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন।

যদিও এই কণাগুলো আমাদের শরীরে ঠিক কতটা ক্ষতিকর তা নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে প্রাথমিক ফলাফলগুলো যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক আসলে কী?

৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিকের কণাগুলোকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। বড় প্লাস্টিক পণ্য যেমন বোতল, প্যাকেট বা সিন্থেটিক কাপড় সময়ের সাথে সাথে ভেঙে এই ক্ষুদ্র কণা তৈরি করে। এর চেয়েও ক্ষুদ্র কণা হলো ন্যানোপ্লাস্টিক, যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং এগুলো মানবদেহের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।

কীভাবে এগুলো আমাদের খাদ্যে প্রবেশ করে?

খাদ্যশৃঙ্খলের প্রায় প্রতিটি স্তরেই মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করতে পারে:

দূষিত মাটি ও পানির মাধ্যমে উদ্ভিদ ও মাছের শরীরে।

প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়।

রান্না বা খাবার সংরক্ষণের সময় বাতাসের মাধ্যমে ধুলোবালি হিসেবে খাবারের ওপর জমে।

মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বড় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়, কিন্তু ক্ষুদ্রতম কণা বা ন্যানোপ্লাস্টিকগুলো রক্ত ও টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে। এর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলো হলো:

প্রদাহ ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ: মাইক্রোপ্লাস্টিক কোষকে উত্তেজিত করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস: এটি শরীরের কোষ, প্রোটিন এবং ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারে।

পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট: গবেষণা বলছে, এটি আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

রাসায়নিক ঝুঁকি: প্লাস্টিকে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর অ্যাডিটিভ বা পরিবেশ থেকে শোষিত ভারী ধাতু আমাদের শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি এড়ানোর উপায়

পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সবখানে বিদ্যমান থাকায় একে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা অসম্ভব, তবে কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে এর সংস্পর্শ কমিয়ে আনা সম্ভব:

১. প্লাস্টিকে গরম করা বন্ধ করুন: প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রেখে মাইক্রোওয়েভে গরম করবেন না; পরিবর্তে কাঁচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন।

২. কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার: পানির বোতল, টিফিন বক্স বা খাবার সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের বদলে কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা নিরাপদ।

৩. অতিরিক্ত গরম খাবার থেকে সাবধান: খুব গরম চা বা কফি প্লাস্টিকের কাপে পান করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ তা প্লাস্টিক কণা নিঃসরণ বাড়ায়।

৪. ফল ও সবজি ভালো করে ধোয়া: খাওয়ার আগে ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিলে উপরিভাগে জমে থাকা প্লাস্টিক কণা বা ধুলো পরিষ্কার হয়।

৫. ফিল্টার করা পানি পান: বোতলজাত পানির তুলনায় ফিল্টার করা কলের পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক কম থাকার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সচেতন থাকা এবং প্লাস্টিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড