খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে এক বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে অপর বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০২৫, ৭:৩৩ পিএম
ফরিদপুরে এক বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে অপর বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (স্থগিত কমিটি) নুরজামাল খসরুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির অপর এক নেতা।

সোমবার (৯ জুন) বিকালে উপজেলা সদর বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খোশবুর রহমান খোকন।

জানা যায়, ফরিদপুর-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত আলফাডাঙ্গা উপজেলা। এই উপজেলায় বিএনপি দুই মেরুকরণে বিভক্ত। বিএনপি’র কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। এই একই আসনে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্র নেতা ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এদের মধ্যে রেষারেষি চলে আসছিল। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।

বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে খন্দকার নাসির গ্রুপের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় নেতৃত্ব দেন নুরজামাল খসরু এবং শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের নেতৃত্ব দেন খোশবুর রহমান খোকন। এরই মধ্যে বিএনপি নেতা নুরজামাল খসরুর সঙ্গে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার আসামি খন্দকার আব্দুল্লাহ ওরফে তুষার নামে এক ব্যক্তির অডিও ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়। ফোনালাপে বিএনপি নেতা খোশবুর রহমান খোকন সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করেন নুরজামাল খসরু। এই ফোনালাপের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি নেতা খোশবুর রহমান খোকন।

সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে খোশবুর রহমান খোকন বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে আলফাডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র মিছিল করার কারণে থানায় একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। কিন্তু যারা প্রকৃত মিছিলে ছিল, তাদের নাম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এই মামলা করার সঙ্গে তিনি বা তার পক্ষের কোনো লোকজন জড়িত না বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসবের জন্য বিএনপি নেতা নুরজামাল খসরুকে দায়ী করেন তিনি।

খোশবুর রহমান খোকন বলেন, গত ১২ মে থানা থেকে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা পালিয়ে যায়। এই ঘটনা নিয়ে ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নুরজামাল খসরু আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী সাজিয়ে অপপ্রচার করেছেন। এছাড়াও ফোনালাপে বিভিন্ন মনগড়া মন্তব্য করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। এ সময় তিনি নুরজামাল খসরুর বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কথা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (স্থগিত কমিটি) নুরজামাল খসরুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে আধুনিক চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়কে ঘিরে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরীক্ষানিরীক্ষার ধরন বদলে যাওয়ায় ইনজেকশন, ইনহেলার, বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট, অপারেশন কিংবা ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হবে কি না—এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

ফিকহের কিতাব ও সমসাময়িক আলেমদের গবেষণায় দেখা যায়, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূলনীতি হলো, শরীরের স্বাভাবিক গ্রহণপথ দিয়ে কোনো বস্তু ভেতরে প্রবেশ করে পাকস্থলী বা অভ্যন্তরীণ খালি স্থানে পৌঁছানো। এ নীতির আলোকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলেমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং সেসব মাসআলার সমাধান দিয়েছেন।

নিচে রোজা সম্পর্কিত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক মাসআলা একনজরে তুলে ধরা হলো—

১. ইনজেকশন (Injection)

ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২. ইনহেলার (Inhaler)

শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরলজাতীয় একটি ওষুধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়। এভাবে ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে।

৩. এনজিও গ্রাম (Angio Gram)

হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়, তার নাম এনজিও গ্রাম। এ যন্ত্রটিতে কোনো ধরনের ওষুধ লাগানো থাকলেও রোজা ভঙ্গ হবে না।

৪. এন্ডোস কপি (Endos Copy)

চিকন একটি পাইপ ; যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্নয় করা হয়। এ নলে যদি কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি/ওষুধ ছিটানো হয়ে থাকে, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি কোনো ওষুধ লাগানো না থাকে তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৫. নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitro Glycerin)

এরোসলজাতীয় ওষুধ, যা হার্টের জন্য দুই-তিন ফোটা জিহ্বার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। ওষুধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়। এ ওষুধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। অতএব- এতে রোজা ভেঙে যাবে।

৬. লেপারোস কপি (Laparoscopy)

শিক্জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা পেট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোনো অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় রোজা ভঙ্গ হবে না।

৭.অক্সিজেন (Oxygen)

রোজা অবস্থায় ওষুধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৮. মস্তিস্ক অপারেশন (Brain Operation)

রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করলে (ওষুধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক) রোজা ভঙ্গ হবে না।

৯. রক্ত নেওয়া বা দেওয়া

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই দুর্বল লোকদের জন্য (বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া) রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত না দেওয়া উচিত। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না, সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

১০. সিস্টোসকপি (cystoscopy)

প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয়, এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১১. প্রক্টোসকপি (proctoscopy)

পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপি বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায়, সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরী ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ওই পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

১২. কপার-টি (Coper-T)

যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে কপার-টি বলা হয়। সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে যেন বীর্য জরায়ুতে পৌঁছতে না পারে এজন্য এটি লাগানো হয়। এ কপার-টি লাগিয়েও সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।

১৩.সিরোদকার অপারেশন (Shirodkar Operation)

সিরোদকার অপারেশন হলো, অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুর্পার্শ্বে সেলাই করে মুখকে খিচিয়ে রাখা। এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়। যেহেতু এতে কোনো ঔষধ বা বস্তু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে পৌঁছে না, তাই এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৪. ডি এন্ড সি (Dilatation and Curettage)

ডি এন্ড সি হলো, আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্য Dilator এর মাধ্যমে জীবত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। অযথা এমন করলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে।

১৫. এম.আর (M.R)

এম আর হলো, গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম আর সিরঞ্জ প্রবেশ করিয়ে জীবত কিংবা মৃত ব্রুণ নিয়ে আসা। যারপর ঋতুস্রাব পুনরায় হয়। অতএব ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

১৬. আলট্রাসনোগ্রাম (Ultrasongram)

আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সবই চামড়ার উপরে থাকে। তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৭. স্যালাইন (Saline)

স্যালাইন নেওয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেওয়া মাকরূহ।

১৮. টিকা নেওয়া (Vaccine)

টিকা নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে না।

১৯. ঢুস লাগানো (Douche)

ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙে যাবে।

২০. ইনসুলিন গ্রহণ করা (Insulin)

ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায়ও ( পাকস্থলি) প্রবেশ করে না।

২১. দাঁত তোলা

রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েজ আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। দাঁত তোলার সময় ওষুধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশি অথবা সমপরিমাণ রক্ত গলাধঃকরণ হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

২২. পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা

রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে।

২৩. মিসওয়াক করা

শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

২৪. মুখে ওষুধ ব্যবহার করা

মুখে ওষুধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ওষুধের অংশ বিশেষ গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২৫. রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া

রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেওয়া, যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, মাকরূহ।

২৬. ডায়াবেটিসের সুগার মাপা

ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেওয়া হয়, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

২৭. নাকে ওষুধ দেওয়া

নাকে পানি বা ওষুধ দিলে যদি তা খাদ্য নালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

২৮. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা

চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়।

২৯. কানে ওষুধ প্রদান করা

কানে ওষুধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে কারো কানের পর্দা ছিদ্র হলে ভিন্ন কথা।

৩০. নকল দাঁত মুখে রাখা

রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

বিস্তারিত জানতে দেখুন

الإسلام والطب الحديث لفقيه الإسلا الشيخ العلامة دلاور حسين ، ضابط المفطرات من الأدوية ونحوها في الصيام للفقيه العلامة رفيع العثماني ، جديد فقهي مسائل للفقيه العلامة خالد سيف الله الرحماني.

সমাধান জানিয়েছেন

মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী

উস্তাজুল ফিকহ, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা

রোজা রেখে রক্তদান: রোজা কি ভেঙে যায়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৬ এএম
রোজা রেখে রক্তদান: রোজা কি ভেঙে যায়?

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও মানবিক দায়িত্ব সম্পর্কিত নানা মাসআলা সামনে আসে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীর জন্য রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যায়?

কারণ, রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া, দুর্বলতা সৃষ্টি হওয়া কিংবা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা—এসব বিষয়ে শরিয়তের বিধান সম্পর্কে অনেকেই স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

হাদিস ও ফিকহের কিতাবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আলোচনা রয়েছে। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূল কারণ শরীরের ভেতরে কোনো কিছু প্রবেশ করা; শরীর থেকে কিছু বের হলে সাধারণত রোজা নষ্ট হয় না, তবে অতিরিক্ত রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সে বিষয়ে সতর্কতার নির্দেশনা রয়েছে।

তাই রোজা অবস্থায় রক্ত দেওয়া যাবে কি না, কার জন্য তা মাকরূহ হতে পারে এবং কোন অবস্থায় দেওয়া বৈধ—এসব বিষয় জানা রোজাদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মানবিক দায়িত্ব পালন ও ইবাদত—দুটিই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী করা যায়।

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যাবে?

ফুক্বাহায়ে কেরামরা বলছেন, রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ, যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। তাই দুর্বল লোকদের জন্য রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না, সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোন অসুবিধা নেই।

(বোখারি : ১৯৩৬-১৯৪০, আলবাহরুর রায়েক : ২/২৭৩, কিতাবুল আসল : ২/১৬৮, মাজমাউল আনহুর : ১/৩৬০)

সফল ব্যক্তিরা সকালে যা করেন—এই ৫ অভ্যাস আপনিও মানছেন তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ এএম
সফল ব্যক্তিরা সকালে যা করেন—এই ৫ অভ্যাস আপনিও মানছেন তো?

মানুষের জীবনে সাফল্য অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে—পরিশ্রম, লক্ষ্য, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং শৃঙ্খলা তার মধ্যে অন্যতম। তবে বিশ্বের বহু খ্যাতিমান ও সফল ব্যক্তির জীবনযাপন বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাদের দিনের শুরুটা অন্যদের চেয়ে আলাদা। সকালের কিছু নিয়মিত অভ্যাসই তাদের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেয়

জীবনযাত্রাবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের অনেক সফল মানুষ দিনের শুরু করেন কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস দিয়ে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলে। সেই অভ্যাসগুলো কী? একনজরে দেখে নেওয়া যাক—

ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা

বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকা অনেকেরই স্বভাব। তবে সারা বিশ্বের সফল ব্যক্তিরা ভোরবেলায় ঘুম থেকে ওঠেন। কারণ এতে কাজের সময় বেশি মেলে এবং দিনের শুরুটা হয় শান্ত ও পরিকল্পিতভাবে।

পানি দিয়ে দিন শুরু

চা বা কফি নয়, সাধারণ পানি দিয়েই দিন শুরু করেন তারা। মন ও শরীর ভালো রাখতে পানি খুব উপকারী। পাশাপাশি সাধারণ জীবনযাপনেও অভ্যস্ত সফল ব্যক্তিরা।

ব্যায়াম

সকাল সকাল ব্যায়াম শরীরের জন্য খুব ভালো। দীর্ঘদিন শরীর চাঙ্গা রাখতে ব্যায়ামেই ভরসা রাখেন বিশ্বের তাবড় তাবড় মানুষরা। কারণ এটি হাজারো রোগ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে।

সারাদিনের রুটিন তৈরি

সারাদিনের কাজকর্মের জন্য একটি রুটিন কষে নেন তারা। কখন কোন কাজ করবেন, কতক্ষণে শেষ করবেন—সেসব হিসাব আগে থেকেই ঠিক করে নেন। এতে অযথা সময় নষ্ট হয় না।

পড়াশোনার অভ্যাস

পড়াশোনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন বিশ্বের সফল ব্যক্তিরা। পড়াশোনাই যে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়, এই বিশ্বাস থেকেই তারা বেশি বয়সেও পড়ার অভ্যাস ধরে রাখেন।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস