খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুর-২ : ইশতেহার প্রকাশ করল বিএনপির শামা ওবায়েদ, অগ্রাধিকার পেল যে ১৯ ইস্যু?

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-২ : ইশতেহার প্রকাশ করল বিএনপির শামা ওবায়েদ, অগ্রাধিকার পেল যে ১৯ ইস্যু?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেছেন ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি করা ইশতেহারে ১৯টি বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের লস্কারদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন শামা ওবায়েদ।

লিখিত ইশতেহার ঘোষণা করে শামা ওবায়েদ বলেন, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার জন্য সম্পূর্ণ পরিকল্পনাভিত্তিক দুটি পৃথক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। উভয় উপজেলার প্রতিটি গ্রামকে ধাপে ধাপে আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গ্রামগুলোতে পরিকল্পিত বসতি, নিরাপদ সড়ক, ড্রেনেজ, সবুজায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি বাজার এলাকায় পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে ৫০ ভাগের বেশি বেকার মহিলা ও যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান অপরিকল্পিত ৪০ টি বাজারকে পুনঃনকশা করে একটি টেকসই ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তোলা হবে। পাটনির্ভর কুটির শিল্প সম্প্রসারণের ভিত্তিতে গ্রামীণ নারী ও যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পারিবারিক কুটির শিল্পকে প্রণোদনার মাধ্যমে উৎসাহিত করে ঘরে ঘরে কুটির শিল্প স্থাপন করা হবে। মসজিদ-মাদ্রাসা, সকল মন্দিরের ও সংস্থার আধুনিকায়নে কাজ করা হবে। ইলেকট্রনিক ভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। তরুণ সমাজের জন্য সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে ২০ হাজার কম্পিউটার বিতরণ করা হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি নির্ভর ও রপ্তানি ভিত্তিক কলকারখানা স্থাপন করা হবে এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় কৃষকদের বিনামূল্যে সমযোপযোগী আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহায়তা এবং গবেষণালব্ধ সর্বাধুনিক জ্ঞানের প্রযোগের মাধ্যমে উৎকর্ষ সাধনের লক্ষে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। খামারিদের জন্য আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষন ও বিপনন সু-ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, সালথার ৩৫০ কিমি ও নগরকান্দার ৫৩৮ কিমি সড়ক পুনঃসংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি সালথার ৫৪ কিলোমিটার এবং নগরকান্দার ৩৩৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণ করা হবে। এছাড়াও নতুনভাবে দুই উপজেলায় মোট ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ভরাট হয়ে যাওয়া কুমার নদী সংলগ্ন সকল উপনদী, খাল, বিল, তথা প্রাকৃতিক জলাশয় পুনরুদ্ধার করে পুনঃখননের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। পারিবারিক বাগান, সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ এবং প্রকল্পভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাকৃতিক বনায়ন গড়ে তুলে পরিবেশের তাপমাত্রা হ্রাস করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন নিশ্চিত করা হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, গ্রাম, শহর ও নগর এলাকায় সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা হবে। বাজার ভিত্তিক পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। দুই উপজেলায় বিদ্যমান ৩১০ টি স্কুল, ১ টি কলেজ ও ২৪ টি মাদ্রাসা আধুনিকায়ন করা হবে এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা হবে। যার মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে সুশিক্ষিত পরিবার নিশ্চিত করা হবে। পর্যাপ্ত সুবিধাদি ও স্বাস্থ্যসেবা সহ শিশু বান্ধব বিদ্যালয়, যুগোপযোগী আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক শক্তিশালী করন, বর্ধিত জনসংখ্যার অনুপাতে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রযোজনীয় নার্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আনুপাতিক হারে নার্স প্র্যাকটিশনার নিযোগ করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ক্লিনিক স্থাপন ও বিদ্যমান ক্লিনিকের সক্ষমতা বৃদ্ধি পূর্বক মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির জন্য বিশেষ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করা হবে। যুব সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে খেলার মাঠ, ক্রীড়া সুবিধা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে। ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজের জন্য এলাকার বিভিন্ন উপযুক্ত জায়গায় খেলার মাঠ তৈরী করা হবে।

শামা ওবায়েদ আরো বলেন, নারী সমাজের শিক্ষা, নিরাপত্তা, এবং তাদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরশনে প্রয়াশে দুই উপজেলায় দুটি সেল গঠন করা হবে। সেলটি নারী আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মীদের দ্বারা গঠিত হবে। নগরকান্দা ও সালথায় প্রবাসীদের সমস্যা গুলো সার্বিক ভাবে দেখার প্রতিশ্রুতি। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ছেলে-মেয়েদের জন্য লাইব্রেরী ব্যবস্থা করা হবে। শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ ও সোলার বিদ্যুৎ সংযোগ। উপজেলা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।