খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০ চৈত্র, ১৪৩২

বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শেখ হাসিনার বাবুর্চি সালথার মোশারফ : দখল করেছেন জমি!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫, ৩:৫১ পিএম
বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শেখ হাসিনার বাবুর্চি সালথার মোশারফ : দখল করেছেন জমি!
দিনমুজুর বাবার ছেলে মো. মোশারফ শেখ (৪৭)। পড়ালেখা না করায় নিজের নামটা পর্যন্ত লিখতে পারেন না। বাবার সম্পত্তির ভাগ পেছেন মাত্র ৫ শতাংশ জমি। ৩০ বছর আগে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন একটি হোটেলে তিনি। তবে হোটেলে চাকরির মাত্র দুই বছর পর তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চির চাকরি পান। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মোশারফ এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। গ্রাম থেকে শহরে সব জায়গায় রয়েছে তার বাড়ি-গাড়ি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ আছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজ গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী কৃষকের জমি দখলসহ সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করার।
মোশারফ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক রহমান শেখের ছেলে। তিনি ২৭ বছর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চি ছিলেন। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গা ঢাকা দেন মোশারফ। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছেন বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক মো. চাঁনমিয়া ফকিরের ছেলে মো. সাগর মিয়া। এরপর থেকে বেরিয়ে আসছে মোশারফের নানা অপকর্ম, নিরহ মানুষের ওপর অত্যাচার-জুলুম ও সম্পদের তথ্য।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফ হোসেন বড় কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের বড় কামদিয়া ৮১ নম্বর মৌজার ৬১৮ নম্বর দাগের ৪৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে বাড়ি নির্মাণ করে তিনি। বিভিন্ন সময় ওই জমি ছেড়ে দিতে বললে মোশারফ হুকমি-ধামকি ও মারপিট করে কৃষক চাঁনমিয়া ফকির ও তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করে রাখেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত ১ জুন কৃষক চাঁনমিয়ার পরিবারের দখল করা জমি উদ্ধার করতে গেলে মোশারফ তার লোকজন নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের ভাতিজা সেন্টু ফকির বলেন, আমার চাচা একজন গরীব কৃষক। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফ হোসেন তার ৪২ শতাংশ জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করে। এবং ওই ঘরের চালের ওপর একটি নৌকা তৈরি করে টানিয়ে রাখেন। তখন আমরা পুলিশ-প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। বরং জমি দখল নিয়ে মুখ খুললেই আমাদেরকে মারধর করে ও মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে রাখতেন মোশারফ। শুধু আমাদের পরিবার নয়, মোশারফ শেখ হাসিনার বাবুর্চি হওয়ায় পুরো বড় কামদিয়া গ্রামের সাধারন মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন।
মোশারফের প্রতিবেশী মো. জামাল শেখ বলেন, মোশারফের বাবা অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসার হওয়ায় মোশারফ পড়ালেখাও করতে পারেনি। ছোট সময় থেকেই তিনি পাবনা শহরের একটি হোটেলের বাবুর্চির কাজ করতেন। তখন তিনি বাবার সম্পত্তির ভাগ পান মাত্র ৫ শতাংশ জমি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তিনি শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চির চাকরি পাওয়ার পর থেকে যেন আলাউদ্দীনের চেরাগ পেয়েছেন। বর্তমানে কামদিয়া গ্রামে ২ বিঘা জমির ওপর করেছেন বাড়ি। মাঠেও ৩ বিঘা জমি রয়েছে তার।
তিনি আরো বলেন, ফরিদপুরের শহরের হাড়োকান্দী এলাকায় ১২ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি ও রাজবাড়ি রাস্তামোড় এলাকায় ৮ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি রয়েছে তার। এ ছাড়া ঢাকা ও ফরিদপুর শহরে একাধিক ফ্লাট-প্লট ও গাড়ি রয়েছে বলে আমাদের কাছে মোশারফ নিজেই বলেছেন। বর্তমান সরকারেরর গোয়েন্দা সংস্থা যদি অনুসন্ধান করে তাহলে মোশারফের অনেক অজানা তথ্য ও সম্পদের হিসেব বেরিয়ে আসবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বাবুর্চি হওয়ার সুবাদে সম্পদ গড়ার পাশাপাশি  মোশারফ তার নিজ গ্রামের ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করতে চেয়েছিলেন। সাধারন মানুষের ওপর হামলা-মামলা ও তাদেরকে জিম্বি করে জমি দখল ও সালিশ বাণিজ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ওই গ্রামের যুবলীগ নেতা নুর ইসলাম তার প্রতিপক্ষ হওয়ায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি তিনি। ২০১৫ সালে যুবলীগ নেতা নুর ইসলামের সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দিয়ে এলাকা ছাড়া করে দেন। এরপর তিনি নুর ইসলামের সাথে মিলে ফের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেন।
বড় কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার বলে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন মোশারফ। শুধু গ্রামবাসীর ওপর অত্যাচার করে ক্ষ্যন্ত হননি তিনি, নিজের পরিবারও রেহাই পায়নি তার কাছ থেকে। গত চার বছর আগে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে আটকিয়ে রেখে নিজের স্ত্রীকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন মোশারফ। এখনও তার বাড়িতে স্ত্রী আসার আর সুযোগ পায়নি।
এসব বিষয় বক্তব্য নেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায। এমনকি তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বাসার একজন বাবুর্চি কত টাকা বেতন পেয়েছেন? বেতন অনুযায়ী তার তো এত সম্পদের মালিক হবার কথা না। নিশ্চিয় তিনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এখন তার সম্পদের বিষয়টি যেহুত সামনে এসেছে, তাই তার সম্পদের বিষয়টি অবশ্যই সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, জমি দখলের বিষয় নিয়ে মোশারফের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসা চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের একাধিক হোটেলে বাইরে থেকে নারী এনে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যদিও প্রশাসন এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত কিছু আবাসিক হোটেলে প্রতিদিনই এই ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া পুরো রাতের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে শহরের হেলিপোর্ট বাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেল, ব্রেইলি ব্রিজ সংলগ্ন কয়েকটি হোটেল এবং হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকার কয়েকটি হোটেলসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব হোটেলের আশপাশে কিছু নারীকে প্রকাশ্যে ক্রেতা ডাকতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। তাদের দাবি, অনেক সময় অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ফলে অভিযান পরিচালনার সময় কাউকে পাওয়া যায় না, এবং অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে, প্রশাসন সেটা অস্বীকার করেছে।

এদিকে, অনুসন্ধানে কিছু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। গোয়ালচামট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে একজন ম্যানেজার নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন এবং একটি ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শামছুল আজম বলেন, “দেহব্যবসার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব। কোনো অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন অভিযোগ সত্য নয়। বরং কিছু অসাধু চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যেই হোক না কেন। মাদক ও নারী আর হোটেলে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।”

সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

ঈদের সাত দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ঈদের সাত দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে সোমবার (২৩ মার্চ)। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এ থেকে ছুটি শুরু হয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।

ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ বাস, ট্রেন, লঞ্চে এবং ব্যক্তিগত বাহনে বাড়ি থেকে ফিরেছেন।

গত ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের পাঁচ দিন ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। পূর্ব ঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও ছুটির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে ঈদের ছুটি ছিল মোট সাত দিন।

গত ৫ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শবে কদরের একদিনের ছুটির পর ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করা হয়।

রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ায় ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল।

আর গণমাধ্যমকর্মীরা ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি পেয়েছিলেন পাঁচ দিন।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তেলের দাম কমে যাবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৭ এএম
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তেলের দাম কমে যাবে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ইতি টানার মতো কোনো চুক্তি হলে তেলের দাম হুড়মুড় করে পড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা এবং এরপর ইরানের প্রতিশোধমূলক আঘাতে যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখার কারণে সে পথে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলছেন, আমাদের একটি চুক্তি হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে।

অবশ্য তিনি এ-ও যোগ করেন, কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই; আমি কোনো কিছুর নিশ্চয়তা দিচ্ছি না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য দুই দেশ ১৫টি দফা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন ‘এক, দুই ও তিন নম্বর’ দফা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলছেন, তিনি ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার বড় পরিবর্তন’ দেখতে চান।

এর আগে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ‘ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

সোমবার (২৩ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৈরিতা পুরোপুরি নিরসনের বিষয়ে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলমান বৈঠক ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রতিরক্ষা বিভাগকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২২ মার্চ) ট্রাম্প তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হরমুজ প্রণালি সব জাহাজের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর জবাবে ইরান জানায়, প্রতিশোধ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার হুমকি দেয় তেহরান।

সোমবার ইসলামির রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সব অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

এ ছাড়া যেখানে আমেরিকার অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেসব অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হবে।

এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল সতর্ক করে বলেছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূল বা দ্বীপগুলোতে কোনো হামলা হলে উপসাগরীয় নৌপথ বিচ্ছিন্ন করতে সমুদ্রে মাইন পেতে দেওয়া হবে।