খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

ইরানে হামলায় কেন প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাম্পের নীতি?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ইরানে হামলায় কেন প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাম্পের নীতি?

গত শুক্রবার সকালবেলা ইরানের ওপর ইসরায়েল যেই আক্রমণ চালিয়েছে, সেই আক্রমণে ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির অনেক বেসামরিক ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ। এ কারণে ইসরায়েলের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালাতে বাধ্য হয়েছে ইরান সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা এরই মধ্যে যথেষ্ট অস্থিতিশীল ছিল, বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল পরিচালিত নিরবচ্ছিন্ন গণহত্যার কারণে। এখন ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের এ সংঘর্ষ নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক অস্থিরতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করল।

অশান্তিকর পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং গণহত্যা চলমান রাখার মাধ্যমে ইসরায়েল তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হলো, যাদের সঙ্গে এ রাষ্ট্রটি আক্রমণাত্মক আচরণ করে, তাদের আগে গোটা বিশ্বের কাছে আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং নিজেদের অসহায় পক্ষ হিসেবে উপস্থাপনের কৌশল অবলম্বন করে। এই একই কৌশল তারা প্রয়োগ করেছে ইরানের ক্ষেত্রেও। ইরানের ওপর আক্রমণ চালানোর আগে বহুকাল ধরেই তারা ইরানকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। ইরানের কাছে আদতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে কি না, তা প্রমাণ না করেই তারা দাবি করেছে যে ইরানের এই পারমাণবিক অস্ত্র সরাসরি ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ইসরায়েলের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো ধরনের হুমকি ইরান দেয়নি। তার পরও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ ঘোষণা করেছেন।

দুশ্চিন্তার একটা কারণ হলো এই যে, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলেও ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে। আর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে সমর্থন দেয়, তাতে এটা মনে করা দোষের কিছু নয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশের চরম আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ না থাকলেও ইসরায়েলের সেই সুযোগ আছে। দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগের ঘূর্ণিপাকে কোণঠাসা নেতানিয়াহু পরিত্রাণের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বকে। প্রতিরক্ষার নামে ইসরায়েলকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘর্ষে জড়িয়ে রাখলে দেশের ভেতরে জনগণ তার ওপর গদি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এ হামলায় কোনো সক্রিয় ভূমিকা পালন করার কথা অস্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অথচ আক্রমণের ঠিক এক দিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ওপর যে কোনো সময় ইসরায়েলের হামলা চালানোটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘গাজায় ইসরায়েলের কাজ সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করছেন’ বলে বড়াই করে বক্তৃতা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি নেতানিয়াহুর অসন্তোষের কারণ হয়ে ওঠেন যখন ট্রাম্প ইসরায়েলকে যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করে ইরানের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।

ইরানের ওপর তথাকথিত ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ চালিয়ে ইসরায়েল কার্যত যে কোনো ধরনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ইরানকে বেসামরিক পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ কর্মসূচি চালানোর অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে যে বহুপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই সুযোগও নষ্ট করে দিয়েছে তারা। এরই মধ্যে বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘এটি বিপজ্জনক এলাকা হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’ এর থেকে বোঝা যায় যে, নিকট ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের ওপর চালানো এ হামলার ঘটনায় হোয়াইট হাউস খুব বেশি বিচলিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। আক্রমণের এক দিন পর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও উপস্থিত ছিলেন। তাও সেই জরুরি বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল সকাল ১১টায়, যেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বস্তিতে সকালের নাশতা সেরে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। এসব কর্মকাণ্ড দেখে বোঝা যায় যে, ইরানের দুর্দশা নিয়ে মোটেই তাড়াহুড়ো করছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। বরং আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানের ওপর চালানো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে। আমি স্পষ্ট করে সাবধান করে দিতে চাই, ইরান যেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থকে লক্ষ্য করে আক্রমণ না চালায় এবং আমেরিকান কর্মীদের যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।’

অথচ ইরানের স্বার্থ ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংকোচ বোধ করেনি। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর কুদস্ ফোর্সের প্রধান কাসেম সুলায়মানির প্রাণ যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এমন দ্বিমুখী নীতি তাদের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষার দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়ে গেছে। ট্রাম্পের প্রথম দফার শাসনামলে সুলায়মানির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে সেজন্য কোনো খেসারত দিতে হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বৈদেশিক নীতির ব্যত্যয় ঘটানো এবং নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা কোনো বিরল ঘটনা নয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থি গণমাধ্যম, যারা আন্তর্জাতিক আইন মান্য করার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করে থাকে, তাদের একাংশ কাসেম সুলায়মানির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যথেষ্ট উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল। যেমন—‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কলামিস্ট এ ঘটনার পর ইতিবাচক সাড়া দিয়ে লিখেছিলেন যে, ‘যা হয়েছে ভালো হয়েছে। এই কাজের জন্য একদিন তেহরানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামে হয়তো কোনো সড়কের নামকরণ করা হবে।’

এমনটা অবশ্য ঘটেনি। ট্রাম্পের প্রতি তেহরানবাসীর মনোভাব এখনো বৈরীই রয়ে গেছে। তবে ট্রাম্প যদি তার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী প্রচারণার মূলনীতি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-এ অটল থাকতেন, তাহলে হয়তো তার প্রতি তেহরানের বিদ্বেষের মাত্রা কিছুটা লোপ পেত। আমেরিকা ফার্স্ট নীতির নাম থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থ ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য; অন্য দেশের সাধারণ জনগণের ওপর বোমাবর্ষণ করা নয়। কিন্তু ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের নীরব সমর্থন এই নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মনে হয়েছে, যেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নয়; বরং ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করতে উদ্যত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে নিজস্ব স্বার্থের ঊর্ধ্বে ইসরায়েলের নীতিগত উদ্দেশ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। যুগে যুগে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় রাজনৈতিক দলের প্রশাসন ইসরায়েলের পেছনে কোটি কোটি ডলার অর্থ খরচ করে আসছে, যার প্রায় পুরোটাই গেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অবকাঠামো তৈরিতে এবং ইসরায়েলকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করতে। অথচ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি স্বল্পমূল্যের আবাসন প্রকল্প নির্মাণ এবং সুলভ স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বিনিয়োগ করা হতো, তবে সাধারণ মার্কিন নাগরিক আরও সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত জীবনযাপন করতে সক্ষম হতো।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এমন অভিযোগ উঠছে যে, ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান নীতি নির্ধারণের ওপর ইসরায়েলের অনেক বড় প্রভাব এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু দিনশেষে সত্যিটা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী প্রধান প্রধান খাত ইসরায়েলের আঞ্চলিক নৃশংসতার সুবাদে বিপুল পরিমাণ মুনাফা লুটে নিচ্ছে। যেমন—যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রশিল্প পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি ইরানের ওপর ইসরায়েলের আক্রমণের প্রতি অসমর্থন জানাবে না। কারণ এই আক্রমণ তাদের জন্য উন্মোচন করে দিচ্ছে ব্যবসার নতুন দ্বার।

হামলার ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘ইসরায়েল ও তার মিত্র শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে এই হামলার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, নিশ্চয়ই এ অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তেল আবিবকে সম্পূর্ণ সহায়তা দিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি। তবে যে মূল্যই তাদের দিতে হোক না কেন, এর ভেতর থেকে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ঠিকই ফায়দা আদায় করে নেবে বলে ধরে নেওয়া যায়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘর্ষগুলোতে দিনশেষে আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর পরাশক্তিগুলো নিজেদের লভ্যাংশটা যথাযথই বুঝে নেয়।

লেখক: আমেরিকান সাংবাদিক, কলামিস্ট ও লেখক। নিবন্ধটি আলজাজিরার মতামত বিভাগ থেকে অনুবাদ করেছেন অ্যালেক্স শেখ

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা