খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের সোনালী হরিণের গল্প: শখ থেকে স্বপ্নের পথে

তামিম ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সোনালী হরিণের গল্প: শখ থেকে স্বপ্নের পথে

ফরিদপুর শহরতলীর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে এক অনন্য উদ্যোগের জন্ম হয়েছে, যা এখন সারা জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন মো. ফরিদ শেখ, একজন মাদ্রাসা পরিচালক, যিনি শখের বশে শুরু করা হরিণ পালনকে একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক উদ্যোগে রূপান্তর করেছেন। তার এই প্রচেষ্টা শুধু আয়ের নতুন পথই খুলেনি, বরং এতিম শিশুদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল গড়ে তুলেছে। “ফরিদাবাদ শেখ ফেলু দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানা”র পাশে অবস্থিত ফরিদ শেখের হরিণের খামার এখন ফরিদপুরের গর্ব।

শখ থেকে বাণিজ্যিক সাফল্য:

২০১৭ সালে মাত্র দেড় লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ফরিদ শেখ ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে দুটি হরিণ কিনে আনেন। শুরুটা ছিল কেবল শখ। কিন্তু আড়াই মাসের মধ্যেই হরিণ দুটি থেকে জন্ম নেয় একটি শাবক। ধীরে ধীরে তার খামারে হরিণের সংখ্যা বাড়তে থাকে। যখন হরিণের সংখ্যা ১২-এ পৌঁছায়, তিনি শৌখিন লাইসেন্সকে বাণিজ্যিক লাইসেন্সে রূপান্তর করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০টি হরিণ বিক্রি করেছেন, যার প্রতিটির দাম এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা। এই আয় সরাসরি মাদ্রাসার তহবিলে যোগ হয়, যা দিয়ে এতিম শিশুদের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়ার খরচ মেটানো হয়।

হরিণ পালন: সহজ ও লাভজনক

হরিণ পালনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প খরচ ও ন্যূনতম রোগব্যাধি। মো. ফরিদ শেখ জানান, “হরিণ তৃণভোজী প্রাণী। নেপিয়ার ঘাস, কলমি ঘাস, ছোলা, ভুসি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, লাউ দিয়েই আমি হরিণ পালন করি। প্রতিটি হরিণের পেছনে দৈনিক খরচ মাত্র ১০০-১৫০ টাকা। অন্যান্য পশুদের তুলনায় হরিণের রোগবালাই কম, তাই ওষুধ বা ভ্যাকসিনের খরচও প্রায় নেই।” এই সহজ পদ্ধতি এবং কম খরচই তার উদ্যোগকে লাভজনক করে তুলেছে।

বন অধিদপ্তরের নিয়মকানুন:

হরিণ পালনের জন্য বন অধিদপ্তর থেকে শৌখিন এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়া হয়। শৌখিন লাইসেন্সের জন্য বিভাগীয় বন অফিসে আবেদন করতে হয়। বন বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে জায়গার উপযুক্ততা যাচাই করে অনুমতি দেয়। হরিণের সংখ্যা ১১-এর বেশি হলে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রয়োজন, যার জন্য আগারগাঁও বন অফিসে আবেদন করতে হয়। এই লাইসেন্সে প্রতিটি হরিণের জন্য বছরে ১২০০ টাকা ভ্যাট দিতে হয়।

শুধু হরিণ নয়, আরও বৈচিত্র্য:

ফরিদ শেখের উদ্যোগ শুধু হরিণ পালনেই সীমাবদ্ধ নয়। তার গরু, দুম্বা এবং বিশাল মাছের খামারও রয়েছে, যেখান থেকে তিনি প্রতি বছর মোটা অঙ্কের আয় করেন। এই খামারগুলোতে ৩০ জনেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন, যা স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত খামার:

ফরিদপুরে হরিণ পালনের এমন উদ্যোগ আর কোথাও নেই। ফরিদ শেখের খামার এখন শুধু ব্যবসা নয়, একটি পর্যটন কেন্দ্রও। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই সোনালী হরিণগুলো দেখতে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হরিণদের লাফালাফি দেখে আনন্দ পায় এবং সময় পেলে তাদের খাবার দেয়, খেলে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, এই খামার মাদ্রাসার পরিচিতি বাড়িয়েছে। দর্শনার্থীরা হরিণ দেখতে এসে ছবি তুলেন, খেলেন এবং এতিম শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। এই খামার মাদ্রাসাটিকে ফরিদপুরের একটি অনন্য স্থানে পরিণত করেছে।

ফরিদ শেখের বক্তব্য:

মো. ফরিদ শেখ বলেন, “আমার শখের শুরু ছিল এই হরিণ পালন। কিন্তু এটি এখন আমার জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খামার থেকে আয় দিয়ে আমি এতিম শিশুদের শিক্ষা ও জীবিকার ব্যবস্থা করছি। আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ় ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো শখকেও সফল ব্যবসায় রূপান্তর করা সম্ভব। আমি চাই, আমার এই উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করুক।”

একটি মহৎ উদ্যোগ:

ফরিদ শেখের এই উদ্যোগ শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়, এটি একটি মানবিক মিশন। তার হরিণের খামার থেকে আয় দিয়ে তিনি “ফরিদাবাদ শেখ ফেলু দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানা” পরিচালনা করছেন, যেখানে এতিম শিশুরা শিক্ষা ও আশ্রয় পাচ্ছে। এই উদ্যোগ তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা স্বপ্ন দেখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। ফরিদপুরের এই সোনালী হরিণের খামার এখন শুধু একটি খামার নয়, এটি আশা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতীক।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ফরিদপুরে ‘লিগ্যাল লিটারেসি ওয়ার্কশপ ফর উইমেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ফরিদপুরে ‘লিগ্যাল লিটারেসি ওয়ার্কশপ ফর উইমেন’

নারীদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা, ন্যায়বিচারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং অধিকার সচেতন নাগরিক হিসেবে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুরে ‘লিগ্যাল লিটারেসি ওয়ার্কশপ ফর উইমেন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে শহরের বেলপিয়াতো চাইনিজ রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের ২৫ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় নারী অধিকার, পারিবারিক আইন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা গ্রহণের প্রক্রিয়া, বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি সেবাসমূহ এবং নাগরিক হিসেবে আইনগত দায়িত্ব ও অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি তুলে ধরে আইনি সমস্যার সমাধান, প্রতিকার পাওয়ার উপায় এবং সচেতনতার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকলে নারী ও তরুণরা নিজেদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে অন্যায়, বৈষম্য এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ সমাজ গঠনে আইনি সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এ সময় তারা পারিবারিক বিরোধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, উত্তরাধিকার আইন এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা লাভ করেন।

কর্মশালার আয়োজন করে Foundation for Women Possibilities (FWP) এবং Nondita Surokkha। নারী নেতৃত্বের বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

আয়োজকরা জানান, নারীদের আইনি জ্ঞান বৃদ্ধি, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

ভাঙ্গায় নবাগত ইউএইচএফপিওর সঙ্গে পল্লী চিকিৎসকদের মতবিনিময়, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের আশ্বাস

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নবাগত ইউএইচএফপিওর সঙ্গে পল্লী চিকিৎসকদের মতবিনিময়, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের আশ্বাস

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবযোগদানকৃত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সোহাগ শাফির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতারা। এ সময় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, পল্লী চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নবাগত ইউএইচএফপিও ডা. সোহাগ শাফি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পল্লী চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই পল্লী চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পল্লী চিকিৎসকদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এ সময় পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতারা নবাগত কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ও তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুমন মোল্লা, সহ-সভাপতি লিয়াকত শিকদার ও ওবাইদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন লস্কর ও মনিরুজ্জামান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাঁকা এবং কোষাধ্যক্ষ মো. বশির আহমেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সেবা ডেন্টাল অ্যান্ড হোমিও হল (বালিয়াচরা বাজার শাখা-৩)-এর পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, খোকন শেখ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল: ফরিদপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল: ফরিদপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওবায়দুর রহমানের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ফরিদপুর জেলা বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা এবং সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কারাদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরে বিষয়টি দলীয় সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে ওবায়দুর রহমানের প্রায় ৫ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. ওবায়দুর রহমানকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা দলীয় সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে দলীয়ভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে জেলা বিএনপির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের অনৈতিক বা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এর উৎস বা কীভাবে এটি প্রকাশ্যে এলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওবায়দুর রহমানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে জেলা বিএনপির এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।