খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে ভূয়া প্রত্যয়নপত্র দিলেন মেম্বার, চাকরি গেল উদ্যোক্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫, ৫:৩৪ পিএম
ফরিদপুরে ভূয়া প্রত্যয়নপত্র দিলেন মেম্বার, চাকরি গেল উদ্যোক্তার

নিয়ম বহির্ভূতভাবে জন্ম নিবন্ধন দেওয়ায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের একটি ইউনিয়ন পরিষদের আইডি স্থগিত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আর সেই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এক উদ্যোক্তাকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে অব্যহতি দিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে গত ৯ জুলাই ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়জিত ডিডিএলজি বরাবর আবেদন করেছেন উদ্যোক্তা সাইমুল ইসলাম (৩৮)। এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চরভদ্রাসন ইউনয়ন পরিষদে।

তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বৈকুন্ঠ সরকারের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক ফকিরের ছেলে। সাইমুল জানান, আমি চরভদ্রাসন ইউনিয়ন পরিষদে ২০১৯ সাল থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজে যোগ দেই। সর্বশেষ গত ২০২২ সালে পুনরায় চুক্তবদ্ধ হয়ে অদ্যবধি কাজ করতেছিলাম।

প্রতিকার চাওয়া উদ্যোক্তা সাইমুল ইসলামের আবেদন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ফেব্রয়ারী মাসে চরভদদ্রাসন উপজেলার চরভদ্রাসন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওর্য়াডের ইউপি সদস্য আলেপ মন্ডল রাকিব মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে তার ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত হাজিডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা উল্লেখ করে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে রাকিবের জন্ম নিবন্ধনের একটি আবেদন করেন উদ্যোক্তা সাইমুল ইসলাম। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি ইউপি সচিব জামায়েতুল ইসলাম গ্রহন করেন ও ইউপি চেয়ারমান আজাদ খান নিবন্ধক হিসেবে আবেদনটির অনুমোদন দেন। রাকিব মোল্লার জন্মনিবন্ধন নম্বর ২০০৪২৯৩২১১৯১৩৬৯৮২। পরবর্তীতে জানা যায়, রাকিব মোল্লা চরভদ্রাসনের বাসিন্দা নন, একই জেলার পাশের সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. কাউসার মোল্লার ছেলে।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে গত ৯ জুলাই ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়জিত ডিডিএলজি বরাবর আবেদন করেছেন উদ্যোক্তা সাইমুল ইসলাম (৩৮)।

সাইমুল ইসলাম বলেন, জন্ম নিবন্ধন দেওয়া রকিব মোল্লার প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে প্রত্যয়ন প্রদান করেন ইউপি সদস্য আলেপ মন্ডল। একপর্যায়ে এ বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগ অবগত হন এবং ইউনিয়ন পরিষদের আইডিটি স্থগিত করেন। এর প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান গত ৭ মে আমাকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। সাইমুল ১২ মে এ কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেন।

তিনি আরো বলেন, ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে আবেদন করায় আমি এ জন্ম সনদ দিয়েছি। ওই জবাব দেওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান আর কোন নোটিশ না দিয়ে গত ৩ জুলাই আমাকে উদ্যোক্তা হতে অব্যাহতি দিয়ে আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সকল প্রকার যন্ত্র ও পণ্য বুঝিয়ে দিতে বলেন।
তবে সাইমুলের দেওয়া কাগজ চুক্তিপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়োগ প্রদান বা অব্যাহতি প্রদানের এখতিয়ার রয়েছে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা জেলা প্রশাসকের।

প্রত্যয়ন পত্র দেওয়ার বিষয়ে ইউপি সদস্য আলেপ মন্ডল বলেন, তিনি রাকিবকে চেনেন না। তার (রাকিব) প্রত্যয়ন পত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছেন কিনা কিংবা ভোটার হাল নাগাদ করার সময় কিভাবে কে কে যে স্বাক্ষর করেন তা তিনি মনে করতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, সদর ইউপির উদ্যোক্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে আমি অবগত না। এমনকি বিষয়টি কেউ আমাকে জানাননি।

ইউএনও বলেন, একজন উদ্যোক্তাকে ইউএনও অথবা জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান উদ্যোক্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না।

তবে ইউএনও বক্তব্যের ভিন্নমত পোষণ করে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান বলেন, ‘‘যেহেতু সাইমুল আমার প্রতিষ্ঠানে বা আমার অধীনে কাজ করেন, কাজেই তাকে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার বা ক্ষমতা আমারও আছে।”

ইউপি সদস্যদের প্রত্যয়ন পত্র দেওয়ার অধিকার নেই উল্লেখ করে ইউপি চেয়ারমান আজাদ খান বলেন, এজন্য আমরা উদ্যোক্তাদের কাছে ইউনিয়নের আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখি। তবে অনেক সময় তারা (উদ্যেক্তারা) পয়সা খাওয়ার জন্য এ জাতীয় অন্যায় কাজ করে থাকেন যার কারণে তাদের বিপদে পড়তে হয়।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর