খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে চারলেনের কাজ শুরুর প্রেক্ষিতে ব্লকেড কর্মসূচি স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে চারলেনের কাজ শুরুর প্রেক্ষিতে ব্লকেড কর্মসূচি স্থগিত

ফরিদপুর টু ভাঙ্গা মহাসড়কের অংশে চারলেনে উন্নীতকরণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ আন্দোলনের মুখে আবার শুরু করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ জুলাই) থেকে জেলা প্রশাসন থেকে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একইসাথে তারা জানান, এ বছরের মধ্যেই চারলেনের মহাসড়ক তৈরির কাজ শুরু করা হবে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশ একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করার আন্দোলন শুরু হয়। গত ১৩ জুলাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে এ কাজ শুরুর জন্য এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা।

এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মতবিনিময় সভার আহ্বান করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভা থেকে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় জেলার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে চারলেন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো: বাকাইদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি হিসেবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব, জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি কামরুজ্জামান সিদ্দিকী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, সদস্য সচিব সোহেল রানা এবং চারলেন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির প্রতিনিধি দলের সদস্য আবরার নাদিম ইতু, কাজী রিয়াজ, ভিপি গিয়াস, শেখ আরিফ, সেলিম মিয়া, মাহমুদউল্লাহ, ওয়ালিদ হাসান প্রমুখ সভায় যোগ দেন।

সভায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, চারলেন বাস্তবায়ন কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চরম অবহেলা করছেন। এজন্য তাদের এই পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিটি মৃত্যুর দায় নিতে হবে। এ কথায় সভায় কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি কামরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, এই রুটে যানবাহন চলাচল করানোটা এখন দুঃসাধ্য ব্যাপার। জনগণের ভোগান্তির কথা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার বলেন, দীর্ঘদিন অচলাবস্থার পর চলতি বছর সেখানে সংস্কার কাজের জন্য দু’টি টেন্ডার করা হয়। কাজ শুরুর সময় অতিবৃষ্টিতে আটকে যায়। এরপর ভারি বর্ষণের ফলে সেখানে খুবই খারাপ অবস্থা সৃষ্টি হয়। আমরা পরিস্থিতি অনুধাবন করে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবো। তবে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে সেটি যথেষ্ট হবেনা বলেই আবহাওয়া ভালো হওয়ার অপেক্ষায় সময় লাগছে।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, মহাসড়কের এই অংশ চারলেনে উন্নীতকরণের কাজ আটকে যায় কিছু মামলা জটিলতায়। এ মামলাগুলো অনেক পুরনো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আমরা আবার এই কাজ শুরু করেছি। আশা করছি দ্রুতই এ কাজ শুরু করবো।

চারলেন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির সদস্য আবরার নাদিম ইতু বলেন, প্রশাসনের আন্তরিকতা বিবেচনায় এ দাবিতে ২৩ জুলাই রোড ব্লকেড কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূল হলেই মহাসড়ক চলনসই করার জন্য প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি চারলেনের জন্য জমি অধিগ্রহনের কাজ দ্রুত শেষ করবে। একাজে কোন রকম অবহেলা বা দীর্ঘসূত্রিতা মেনে নেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা যেকোন সময় রোড ব্লকেড, কার্যালয় ঘেরাও বা এ জাতীয় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

ফরিদপুরের সালথায় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিসিআইসি’র এক নিবন্ধিত ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান ও আদালত পরিচালিত হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্ত তাঁর নকুলহাটি বাজারস্থ দোকান থেকে গৌড়দিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করেন বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সার নির্ধারিত গন্তব্য গৌড়দিয়ার পরিবর্তে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের দিকে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর সড়কে দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি সারসহ আটক করা হয়।

​আটক নসিমনের চালক এরশাদ কোনো বৈধ পরিবহন রশিদ দেখাতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।

​সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

​অভিযানকালে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, কৃষকদের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে খেলা করছিল ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় অভিযুক্ত মিরাজ শেখ সুকৌশলে তাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামি মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান।

​দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।