খুঁজুন
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১১ চৈত্র, ১৪৩২

ভাঙ্গায় মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৬ পিএম
ভাঙ্গায় মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত

ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গার দুটি ইউনিয়ন আলগী ও হামিরদী পাশের নগরকান্দা-সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেয়ার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দুটি মহাসড়ক ও দুটি রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছে আন্দোলনকারীরা।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙ্গার দুটি ইউনিয়ন ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারী দুই-তিনজন নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন ভাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান। ইউএনও কয়েকজন নেতৃবৃন্দকে তার কার্যালয়ে আসতে বলেন। এক আন্দোলনকারী জানান, আমরা প্রথমে ইউএনওর প্রস্তাবে রাজি হইনি। কেননা আমাদের ঘারে একাধিক মামলা ঝুলছে। কাকে কোন মামলায় ঢুকিয়ে দেয় এ নিয়ে তাদের মধ্যে মধ্যে আতঙ্ক ছিল। এ ছাড়া ভাঙচুরের আগেই দ্রুত বিচার মামলা হয়েছে (১৪ সেপ্টেম্বর) , শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিককে। তাকে এখনও মুক্তি দেয়া হয়নি। আন্দোলকারীরা উপজেলায় গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না এ মর্মে তারা তাদের শঙ্কার কথা ইউএনওকে জানান। এর প্রেক্ষিতে ইউএনও আন্দোলনকারীদের শতভাগ নিশ্চয়তা দেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না।

এ আশ্বাসের পর ১৮-২০ আন্দোলকারী সন্ধ্যার পর ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে যোগ দেন ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। আলোচনার বিবরণ দিয়ে ওই সভায় উপস্থিত আন্দোলকারী হামিরদী ইউনিয়নের মাঝিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, ইউএনও আমাদের বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। হাইকোর্ট ১০ দিনের সময় দিয়ে নির্বাচন কমিশনারকে রুল জারি করেছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর এ রুলের জবাব দেয়ার কথা। ইউএনও তাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে চলে গেছে সে অবস্থায় আদালতের রায় পর্যন্ত মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান।

আন্দোলনকারীরা মামলার বিষয় তুলে ধরে ইউএনওর কাছে নিরীহ কাউকে হয়রানী না করার নিশ্চয়তা চান। পাশাপাশি তারা বলেন, তবে যারা ভাঙচুর সহিংসতায় অংশ নিয়েছে ভিডিও ফুটেজ ধরে সুনির্দিষ্টভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে তাদের কোন আপত্তি নেই। ইউএনও তাদের প্রস্তাবে সম্মত হন এবং এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দেখা করানোর প্রস্তাব দিলে আন্দোলনকারীরা সম্মত হন।

ইউএনও আন্দোলনকারীদের ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসার জন্য গোল্ডেন লাইন পরিবহনের দুটি বাস বরাদ্দ দেন। সেই বাসে চড়ে শতাধিক আন্দোলনকারী রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যাী সঙ্গে আলোচনা করেন। দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এ আলোচনা চলে।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুর জলিল ও এক সেনা কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পর এ সভার বিবরণ দিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক রবীন সোহেল বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের বলেছেন আপনাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেইনি। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী ঢুকে সহিংসতা ঘটিয়েছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। তবে এ সংহিতায় যারা জড়িত নন তাদের কোন হয়রানী করা হবে না। বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন। রায় আমাদের পক্ষে আসবে বলে আশা করছি। রায় না হওয়া পর্যন্ত আপনরা আন্দোলন স্থগিত করুন এবং নির্বিঘ্নে জীবন-যাপন করুন।

রবীন সোহেল আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা হাইকোর্টের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত চলমান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করছি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, ওই এলাকার জনগণের পালস আমি ধরতে পেরেছি। আমরা সেভাবেই নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি। আন্দোলনকারীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থোকে বিরত রাখতে। তিনি আরও বলেন, এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যারা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, ভাঙ্গা থানা ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা আদেশ কেন অবৈধ হবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট এ রুলে জবাব দেয়ার জন্য ১০ দিন সময় বেধে দেন।

আগামী সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমানসহ পাঁচজন হাইকোর্টে এ আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

অভিষেকেই বলিউডে বাজিমাত করলেন আরিফিন শুভ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:১২ এএম
অভিষেকেই বলিউডে বাজিমাত করলেন আরিফিন শুভ

ঢাকার জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্যের নজির গড়েছেন। তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’ ভারতের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে টানা দুই দিন ধরে ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। গত ১৯ মার্চ মুক্তির পরপরই সিরিজটি দর্শকদের আগ্রহ কাড়ে এবং দ্রুত ট্রেন্ডিং তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে।

পরবর্তী সময়ে ২৩ মার্চ প্রথমবার শীর্ষে জায়গা করে নেয় ‘জ্যাজ সিটি’ এবং এখনো সেই অবস্থান ধরে রেখেছে। ১০ পর্বের প্রায় আট ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এ সিরিজটি অল্প সময়েই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুধু দর্শকপ্রিয়তাই নয়, ভারতের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমেও আরিফিন শুভর অভিনয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। সিরিজটির ট্রেন্ডিং তালিকায় এর পরেই রয়েছে ‘বশীকারাণম’, ‘পেহলে প্যায়ার’, ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া ৫’ এবং ‘মাস্টার শেফ ইন্ডিয়া’।

‘জ্যাজ সিটি’র কাহিনি আবর্তিত হয়েছে জিমি রয় নামের এক জটিল চরিত্রকে ঘিরে, যেখানে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। এ সিরিজে তিনি বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি—চারটি ভাষায় অভিনয় করেছেন, যা তার অভিনয় দক্ষতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্ল্যাটফর্মটিতে বাংলা ভাষার কোনো কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। সিরিজটি পরিচালনা, গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সৌমিক সেন, যিনি এর আগে ‘জুবিলি’ সিরিজের সহস্রষ্টা হিসেবে পরিচিত। এতে আরিফিন শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন সৌরসেনী মিত্র। এ ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেকজান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘জ্যাজ সিটি’তে উঠে এসেছে সেই সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের সংগ্রাম এবং পরিবর্তনের গল্প।

আদালতে ভুয়া তথ্য, বাইরে হামলা—গণপূর্ত কর্মকর্তাদের ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
আদালতে ভুয়া তথ্য, বাইরে হামলা—গণপূর্ত কর্মকর্তাদের ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ফরিদপুর ও যশোর জুড়ে আলোচিত একাধিক অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং বাদীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. রকি হাসান এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান এবং শিরিনা পারভীন আদালতে দায়েরকৃত দুটি মামলায় (পি-৫৭১/২৩ ও পি-৯২৭/২৪) মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেন।

প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন তারা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন, যা বাদীর দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অসত্য। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রকি হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি সরকারি অভিযোগ নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম (GRS)-এ অভিযোগ দিয়েও সন্তোষজনক প্রতিকার পাননি তিনি।

এদিকে, একই বিরোধের জেরে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি যশোর শহরে বাদীর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে রিকশা থামিয়ে রকি হাসান ও তার সঙ্গীদের মারধর করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন এবং এক ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কিছু জিনিস ফেরত দেওয়া হলেও টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

ঘটনার তদন্তে যশোর সিআইডি প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে পথরোধ, মারধর, ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকির অপরাধে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযুক্ত।

বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং সমন জারি হয়েছে। ভুক্তভোগী রকি হাসান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনগত মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে শিরিনা পারভীন বলেন, রকি হাসানের করা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমাদের হয়রানি করার জন্য তিনি এ অভিযোগ করেছেন।

‘যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ফরিদপুরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
‘যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ফরিদপুরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। “দেশের নেতৃত্বে ও জনগণের শক্তিতে আমরা যক্ষ্মা নির্মূল করতে পারি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালি শেষে কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান। সভায় বক্তারা যক্ষ্মা প্রতিরোধ, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং নিয়মিত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা জানান, ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস আবিষ্কার করেন। এ আবিষ্কারের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে যক্ষ্মা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগটি নির্মূলে সবাইকে সম্পৃক্ত করা।

আলোচনা সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, যক্ষ্মা একটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। তবে রোগটি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর না হলে নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।