খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

দালাল ছাড়াই ফরিদপুর পার্সপোর্ট অফিসে মিলছে সেবা, খুশি সেবা প্রত্যাশীরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৪২ অপরাহ্ণ
দালাল ছাড়াই ফরিদপুর পার্সপোর্ট অফিসে মিলছে সেবা, খুশি সেবা প্রত্যাশীরা

“অফিসের গেটের সামনে অনবরত বাজছে মাইক। যেখান থেকে বলা হচ্ছে দালালের খপ্পরে কেউ পরবেন না। আপনি দালাল ছাড়া চলে আসুন। আপনার সেবার দায়িত্ব আমাদের। দালাল থেকে সাবধান। এরপর কোন রুমে কি সেবা দেওয়া হচ্ছে মাইকে সেটাও বলা হচ্ছে অনবরত। বারবার নানা সতর্কতা ও সেবামূলক কথা ভেসে আসছে কানে। একটু সামনে আগালেই মূল গেটে ঝুলানো খোঁদাই করা লেখা চোখে মেলে। যেখানে লেখা- “আপনার মূল এনআইডি কার্ড/জন্মসনদ ও নাগরিক সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক”, এগুলো সঙ্গে আনুন। দালাল না ধরে নিজে আসুন। পরিবর্তিত আইন অনুযায়ী আপনার মূল আইডি কার্ড ও নাগরিক সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। অযথা দালালের শরণাপন্ন না হয়ে সঠিক কাগজাদি সহ সরাসরি নিজে ১০১ নং রুমে সাক্ষাৎ করুন।”

মূলগেইটসহ দেয়ালজুড়ে এরকম নানা লেখা চোখে পড়ে ও জনসাধারণকে সতর্ক করতে মাইকের সতর্কতামূলক কথাগুলো ভেসে আসছে কানে।

এতক্ষণ যে কথাগুলো বলছিলাম সেটার দেখা মিলে ফরিদপুরের আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসের সামনে গিয়ে।

এরপর গেটের ভিতরে ঢুকতেই থামিয়ে দিচ্ছে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। তারা কারণ জিজ্ঞেসা করছেন আগমনের। শুধু পার্সপোর্ট আবেদনকারী কিংবা পার্সপোর্ট সেবা প্রত্যাশী ছাড়া ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না তারা। কোন রুমে কোন সেবা দেওয়া হচ্ছে আবেদনকারীকে তা আন্তরিকতার সাথে জানিয়ে দিচ্ছেন কর্মরত আনসার সদস্যরা। যাতে কোনো দালাল কিংবা অযথা লোক ভিতরে না ঢুকতে পারেন তাই এই কঠোরতা বলে পার্সপোর্ট অফিস সূত্রে জানা যায়। গেট পার হলেই আপনাকে সেবা নিতে কাউন্টারে দাঁড়াতে হবে। সেখানেও দেখা গেল সুশৃঙ্খল। আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করছেন সবাইকে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। বদলে গেছে ফরিদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চিরচেনা দৃশ্যপট ও সেবার ধরন। সহজেই মিলছে সব সেবা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নানামুখী উদ্যোগ আর নজরদারিতে গতি পেয়েছে ডিজিটাল সেবাদান কার্যক্রম। পাসপোর্ট অফিসে আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে ফ্রিঙ্গার প্রিন্ট ও পাসপোর্ট ডেলিভারিসহ প্রতিটি স্তরে ফিরে এসেছে শৃঙ্খলা। খোলা হয়েছে হেল্প ডেস্কসহ বয়স্ক, অসুস্থ রোগীদের সেবাদানে মোবাইল এনরোলমেন্ট ইউনিট। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কর্মদিবসে গণশুনানি কার্যক্রম সেবা প্রত্যাশীদের কাছে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতাকে নিশ্চিত করায় কমেছে হয়রানি ও ভোগান্তি। মিলছে সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান। পাসপোর্টের জন্য আবেদন গ্রহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেবা গ্রহীতরা পাচ্ছেন স্বস্তি।

কয়েক জন সেবা গ্রহীতারা জানান, ‘ফরিদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নিয়ে এক সময় নানা অভিযোগ থাকলেও উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম যোগদানের পর থেকে এখন আর তেমনটি শোনা যায় না। যে কোন মূল্যে এই সেবাদান কার্যক্রমকে ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।’

ভুক্তভোগী সূত্রগুলো জানায়, ‘নানা অব্যবস্থাপনা আর অরাজকতার মডেল হিসেবেই একসময় পরিচিতি পেয়েছিল ফরিদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। দালাল চক্রের ফাঁদ ডিঙ্গিয়ে সহজে পাসপোর্ট পেতে পদে পদে হয়রানি ছিল অনেকটাই নিয়তির মতো। নির্ধারিত ফি’য়ের বাইরে দর কষাকষির বাড়তি টাকা আর ধরাধরি ছাড়া সহজে মিলতো না কোন পাসপোর্ট। অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর অসহযোগিতা সেবা প্রত্যাশীদের এই হয়রানিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছিল। প্রতিবাদ করেও মেলেনি কোন প্রতিকার। এসব নানা কারণে ফরিদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।’ এ আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম যোগদানের আগ পর্যন্ত এ অফিসের এমন সব অভিযোগ ছিল সবার মুখে মুখে।

তবে এই চিত্র এখন বদলে গেছে উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুমের যোগদানের পর। সহজেই মিলছে প্রত্যাশিত সেবা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ই-পাসপোর্ট পেতে এখন প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৩৫০ আবেদন জমা পড়ছে। অনলাইনে জমা দেয়া এসব আবেদনের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ ই-পাসপোর্ট। এর বাইরে ৩টি শর্তে এমআরপি পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে পারছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়েই মিলছে পাসপোর্ট। কোন আবেদনকারী চাইলে পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইট থেকে তার আবেদন কী অবস্থায় আছে কিংবা হালনাগাদ তথ্য জেনে নিতে পারছেন। এছাড়া এসএমএস এর মাধ্যমেও আবেদনকারীকে পাসপোর্ট সম্পর্কিত তথ্য জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ঝামেলাও নেই এখন আর।

এসব নানামুখী উদ্যোগে একদিকে গতি পেয়েছে সেবাদান কার্যক্রমে। অপরদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বেড়ে গেছে বহুগুণ। কমেছে আবেদন ও ডেলিভারির জট।

ফরিদপুরের নগরকান্দার শহিদুর রহমান (৬০) ও জেলা সদরের গঙ্গাবর্দী এলাকার মো. ওহিদুল (২০) আবেদনের পর নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট হাতে পেয়ে জানান, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তির সেবা পেয়ে খুশি তারা। উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুমের আচরণে সন্তুষ্ট। তবে অফিসের অন্যন্যা কর্মচারীদের আচরণে আরও সংযত ও আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।’

স্থানীয় শাহ্ গাজী আলম নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ‘দালালদের হয়রানি আর বাড়তি খরচ নেই। আবু নাঈম মাসুমের মতো এমন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ছাড়া এতো ভালো সেবা পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার। পাসপোর্ট অফিসের অতি চেনা এই দৃশ্য বদলে গেছে দাবি করে এই ব্যবসায়ী জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে সেবা প্রাপ্তি অনেকটা সহজ হয়েছে। কমেছে ভোগান্তি।’

এব্যাপারে ফরিদপুর আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম বলেন, ‘অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই এটি সম্ভব হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার। এ ছাড়া যে কোনো সমস্যার সমাধান না পেলে আমার দরজা খোলা থাকে সর্বদা। আমার অফিস রুমে ঢুকতে কোনো অনুমতি লাগেনা, যে কেউ যে কোনো সময় ঢুকতে পারেন। এ ছাড়া পার্সপোর্ট অফিসের যেকোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাইতো, কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সহজেই পাচ্ছে পার্সপোর্ট।’

দালালের কাছে না গিয়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে কোন সমস্যার সমাধানে আবেদনকারীকে সরাসরি এ উপ-পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, বিষ্ণুদিয়া ও ভবানীপুর তিন গ্রামের সীমানা সংলগ্ন একটি বিলের মাঝখানে বাগান থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম রঞ্জিত সরকার (৬০)। তিনি কোতোয়ালি থানার বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মৃত রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরবর্তীতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে ভবানীপুর গ্রামের এক কৃষক জমিতে কাজ করার সময় বাগানের ভেতরে একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি রঞ্জিত সরকারের বলে শনাক্ত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার পরিবারকে অবহিত করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ক্রাইম সিন ইউনিটকে অবহিত করেন। পরে ক্রাইম সিন টিমের উপস্থিতিতে মরদেহটি গাছ থেকে নামানো হয় এবং প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কোতোয়ালি থানার এসআই নূর হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ফরিদপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইচগেট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটির পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছিল। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ বাড়ছিল স্থানীয়দের। খালটি পুনঃখনন করা হলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমে ফলন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাটির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধন উপলক্ষে গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “খাল পুনঃখননের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জায় সাহা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী-মধুখালী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ এবং বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঞ্চিত জনগণ: ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঞ্চিত জনগণ: ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর অঞ্চলের উদ্যোগে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর শহরের মুসলিম মিশন প্রাঙ্গণে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমির মোহাম্মদ বদর উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। এসময় ফরিদপুরসহ আশপাশের পাঁচ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত ছিল। অনেকেই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি; সত্য কথা বলায় অনেকে হয়রানি, গ্রেপ্তার কিংবা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তারা দাবি করেন, জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও উল্লেখ করেন বক্তারা।

সম্মেলনে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বিদ্যুৎ সংকট ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, অঞ্চল প্রধান শামসুল ইসলাম আল বরাটি, জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং জেলা নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।