‘শবেকদর’ ফার্সি শব্দগুচ্ছ। শব শব্দের অর্থ রাত্রি, আর কদর শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, সমাদর, খাতির, ভাগ্য, পরিমাণ এবং তাকদির নির্ধারণ করা।
আরবিতে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। আল্লাহ যে রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন, সে রাতকে বরকতময় করেছেন। সেটিই কদরের রাত বা শবেকদর। রমজান মাসের শেষ দশদিনের যে কোনো বেজোড় রাত্রে এই ‘শবেকদর’ ঘটে।
কিন্তু ঠিক কোন রাতে শবেকদর কোরআনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে কদর যে রমজান মাসে, তার নির্দেশ স্পষ্ট। সুরা বাকারায় বলা হয়েছে, কোরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে (আয়াত : ১৮৭) এবং সুরা কদরে বলা হয়েছে, কোরআন কদরের রাতে নাজিল হয়েছে (আয়াত : ১)।
নবীজি (সা.) লাইলাতুল কদর লাভের আশায় একবার রমজানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করেন। এরপর কয়েকবার ইতিকাফ করেন মাঝের দশ দিন। এরপর একসময় শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতে শুরু করেন এবং ইরশাদ করেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো। (বোখারি : ২০২০, লাতাইফুল মাআরিফ : পৃষ্ঠা ৩৫৩)
এদিকে, রোজার শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধানের পাশাপাশি নবীজি লাইলাতুল কদরের রাত চেনার কিছু আলামতও বলে দিয়েছেন। বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে কদরের রাত চেনার কিছু আলামত জেনে নিই—
১. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, …ওই রাতের আলামত বা লক্ষণ হলো, রাত শেষে সকালে যে সূর্য উদিত হবে, তা উজ্জ্বল হবে। কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোনো তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)। (মুসলিম : ১৬৭০)
২. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, লাইলাতুল কদরের রাতটি হবে প্রফুল্লময়। না গরম, না ঠাণ্ডা। সেদিন সূর্য উঠবে লালবর্ণে, তবে দুর্বল থাকবে। (ইবনু খুযাইমাহ : ২১৯২)
৩. উবাদাহ ইবনু সামাত (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, লাইলাতুল কদর শেষ দশ রজনীতে রয়েছে। যে এই রাত্রে নিজের (আমলের) হিসাব নিতে দাঁড়াবে, আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের এবং পরের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। আর এই রাত্রি আছে বেজোড় রাত্রিগুলোতে: নবম, সপ্তম, পঞ্চম, তৃতীয় এবং শেষ রাত।
নবীজি আরও বলেন, লাইলাতুল কদরের আলামত হচ্ছে, স্বচ্ছ রাত, যে রাতে চাঁদ উজ্জ্বল হবে, আবহাওয়ায় প্রশান্তি (সাকিনাহ) থাকবে। না ঠাণ্ডা, না গরম। সকাল পর্যন্ত (আকাশে) কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না। সে রাতের চাঁদের মতই সূর্য উঠবে (তীব্র) আলোকরশ্মি ছাড়া। শয়তান সেই সময় বের হয় না। (মুসনাদ আহমাদ : ২২৭৬৫)
৪. এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, লাইলাতুল কদর উজ্জ্বল একটি রাত। না গরম, না ঠাণ্ডা। সে রাতে কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না। (মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৩/১৭৯; সহিহ আল-জামিঈ, হাদিস : ৫৪৭২)
৫. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, লাইলাতুল কদর রয়েছে সপ্তম, অথবা নবম, অথবা বিংশ, যে রাতে (পৃথিবীর) নুড়ি পাথরের চেয়ে বেশি সংখ্যক ফেরেশতাগণ জমিনে নেমে আসেন। (মাজমাউল জাওয়ায়িদ, হাদিস : ৩/১৭৮; সহিহ আল-জামি, হাদিস : ৫৪৭৩)
সূত্র : কালবেলা
আপনার মতামত লিখুন
Array