খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০০

ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সরকি, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এসময় আরও কয়েক গ্রামের লোকজন এ সংঘর্ষে যোগ দেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০০ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এসময় বেশ কিছু বাড়ি-ঘর, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ওসির দায়িত্বে থাকা সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মারুফ হাসান বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

এই ১০ পাপের শাস্তি দুনিয়াতে না পেয়ে কারও মৃত্যু হবে না

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
এই ১০ পাপের শাস্তি দুনিয়াতে না পেয়ে কারও মৃত্যু হবে না

মানুষের জীবনে এমন কিছু পাপ ও অন্যায় রয়েছে, যেগুলোর শাস্তি কেবল পরকালের জন্য স্থগিত থাকে না; বরং দুনিয়াতেই তার প্রতিফলন দেখা যায়। কখনো তা আসে পারিবারিক অশান্তি হিসেবে, কখনো সামাজিক অপমান, আবার কখনো জীবনের বরকত ও শান্তি হারানোর মধ্য দিয়ে।

সমসাময়িক সমাজ বাস্তবতায় দেখা যায়, প্রযুক্তির বিস্তার ও ভোগবাদী জীবনের চাপে অনেকেই অজান্তে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে এসব গুরুতর পাপে জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু এর ভয়াবহতা অনুধাবন করতে না পারায় তারা দুনিয়াতেই নানা ধরনের সংকট, অস্থিরতা ও বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বাস্তবতাকে সামনে এনে জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক আলোচনায় কোরআন-হাদিসের আলোকে এমন ১০টি পাপের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলোর শাস্তি দুনিয়াতে ভোগ করানো ছাড়া আল্লাহ কাউকে মৃত্যু দেবেন না।

নিচে ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য সেই ১০টি ভয়াবহ পাপ তুলে ধরা হলো—

১. মা-বাবার অবাধ্যতা

মা-বাবার সাথে বেয়াদবি, তাদের অশ্রদ্ধা করা বা তাদের অধিকার খর্ব করা এমন এক অপরাধ, যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। হাদিস অনুযায়ী, মা-বাবার নাফরমান সন্তানের প্রায়শ্চিত্ত দুনিয়াতে ভোগ করা ছাড়া মৃত্যু হয় না। এই পাপ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো মা-বাবার কাছে সরাসরি ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের সন্তুষ্ট করা।

২. জুলুম বা অবিচার

কারো ওপর গায়ের জোর খাটানো বা মাস্তানি করা এমন এক জঘন্য পাপ, যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতে নগদ দেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো জালেমই জুলুম করে পার পায়নি। এমনকি পশুপাখিও যদি একে অন্যের ওপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিচার করবেন। মাজলুম ব্যক্তি যদি অন্য ধর্মেরও হয়, তবুও আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন এবং জালেমকে পাকড়াও করেন।

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা

রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা একটি ভয়াবহ অপরাধ। অনেক সময় মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘কাগুজে বন্ধু’দের নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও নিজের আপন ফুফু, চাচা বা ভাই-বোনের খবর রাখে না। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তার সাথে নিজের সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

৪. কথায় কথায় মিথ্যা বলা

মিথ্যা সব পাপের মূল। যারা কথায় কথায় মিথ্যা বলে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ বর্ষিত হয়। মিথ্যাবাদীদের জীবনে আল্লাহ কখনোই বরকত দান করেন না এবং দুনিয়াতেই তাদের লাঞ্ছিত হতে হয়।

৫. আমানতের খেয়ানত

কারো গচ্ছিত সম্পদ নষ্ট করা, গোপন কথা ফাঁস করা কিংবা অন্যের লেখা চুরি করা (প্লেজিয়ারিজম) আমানতের খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। যারা মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ করে, আল্লাহ তাদের দুনিয়াতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করেন।

৬. মানুষকে অপমান ও অপদস্ত করা

আজকাল বন্ধু-বান্ধব মিলে কাউকে নিয়ে ট্রল করা বা ‘রেগিং’ করাকে বিনোদনের অংশ মনে করা হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে ব্যক্তি অন্যকে অপমান করে, সে নিজেও কোনো না কোনো পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে অপমানিত হবেই—এটি আল্লাহর নিয়ম।

৭. লোকদেখানো ইবাদত

মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য বা ফেসবুকে লাইক-কমেন্ট পাওয়ার আশায় কোনো ভালো কাজ করা লৌকিকতা। যারা মানুষকে দেখানোর জন্য দান-সদকা বা ইবাদত করে, তাদের আমলের কোনো সওয়াব তো থাকেই না, উল্টো দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্ছনা অপেক্ষা করে।

৮. নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা

আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ভোগ করে যদি কেউ তার শোকর আদায় না করে কিংবা যে মানুষটি তার উপকার করেছে তার প্রতি কৃতজ্ঞ না হয়, তবে আল্লাহ সেই নেয়ামত ছিনিয়ে নেন। অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির জীবনে অভাব-অনটন ও ভয় গ্রাস করে।

৯. ব্যবসায় প্রতারণা ও ওজনে কম দেওয়া

মাপে কম দেওয়া বা ভালো মালের নিচে পচা মাল লুকিয়ে রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অপরাধ। কোনো বিক্রেতা যদি কাস্টমারের সাথে প্রতারণা করে, তবে সে রাসুলের (সা.) উম্মত হিসেবে দাবি করার যোগ্যতা হারায়। এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা পার্থিব সম্পদে বরকত পায় না এবং অশান্তিতে ভোগে।

১০. আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা

যেকোনো ধরনের পাপ বা আল্লাহর বিধানের অবাধ্যতার একটি বড় শাস্তি হলো মানসিক অশান্তি ও ডিপ্রেশন। দেখা যায়, সব ধরনের ভোগ-বিলাসের উপকরণ থাকা সত্ত্বেও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির মনে শান্তি থাকে না, যা অনেক সময় তাদের আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়।

এই ‘সিক্রেট’ অনুসরণে স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হবে না

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
এই ‘সিক্রেট’ অনুসরণে স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হবে না

দাম্পত্যজীবন মানেই কি কেবল ঠুনকো ঝগড়া আর মনোমালিন্য? নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো শান্তির মন্ত্র? বর্তমান সময়ে পারিবারিক অশান্তি ও কলহ যখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন সুখী দাম্পত্যজীবনের একটি অভিনব ও কার্যকরী ‘সিক্রেট’ বা গোপন সূত্রের কথা আলোচনা করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সম্প্রতি তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনাটি প্রকাশ হয়েছে। ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য নিচে তা তুলে ধরা হলো।

শান্তির মূল মন্ত্র স্ত্রীর অনুগত থাকা

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, দাম্পত্য জীবনের সুখের একটি বড় গোপন রহস্য হলো, যে ঘরে স্বামী তার স্ত্রীর কথা মতো চলে, সেখানে সাধারণত অশান্তি হয় না। তিনি বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, সব জায়গায় নিজের পাণ্ডিত্য বা যুক্তি প্রদর্শন চলে না। বাইরের জগতে আপনি যতই প্রভাবশালী বা বিজ্ঞ হোন না কেন, ঘরের ভেতর এসে কিছুটা ‘বোকা’ সাজাই হলো শান্তির মূল কৌশল। যদি কোনো স্বামী সব সময় নিজের জেদ বা যুক্তি দিয়ে স্ত্রীকে হারানো চেষ্টা করেন, তবে সেখানে অশান্তি অনিবার্য।

বিড়ালের মতো শান্ত স্বভাব

সংসার জীবনে শান্তি বজায় রাখতে হলে পুরুষদের ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, সারা জগত আপনি শাসন করলেও ঘরের ভেতর এসে যথাসম্ভব শান্ত ও নমনীয় থাকতে হবে, অনেকটা ‘বিড়ালের মতো মেও মেও’ করে চলার মতো। এমনকি নববিবাহিতদের প্রতি তার নসিহত হলো, স্ত্রীর কথা শোনার মানসিকতা তৈরি করা এবং অযথা তর্কে না জড়ানো। যদি স্ত্রী কোনো কারণে ঝাড়ি দেয় বা রাগ করে, তবে সেখানে পালটা যুক্তি না দেখিয়ে ধৈর্য ধরে থাকাটাই একজন আদর্শ পুরুষের গুণ।

মা ও স্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা

একজন পুরুষকে একই সাথে মা এবং স্ত্রীর অধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। অনেক সময় মাকে বোঝাতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে ঝাড়ি খেতে হয়, আবার স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে মায়ের বকুনি শুনতে হয়। এই দুই পক্ষ থেকে আসা চাপ সামলে নেওয়াই একজন সফল পুরুষের পরিচয়। শায়খ বলেন, স্ত্রীর কাছে যেমন নমনীয় থাকতে হবে, মায়ের কাছে তার চেয়েও বেশি নমনীয় থাকা আবশ্যক।

কৌশলী শাসন ও যুদ্ধবিরতি

তার মানে এই নয় যে, স্ত্রী কোনো অন্যায় করলে তা মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। তবে শাসন করার পদ্ধতি হতে হবে অত্যন্ত কৌশলী এবং গোপন। ঝগড়ার চরম মুহূর্তে তর্কে না জড়িয়ে যদি কেউ নিজেকে কিছুটা ‘বেকুব’ সাজিয়ে শান্ত রাখতে পারে, তবে দিনশেষে সেই জয়ী হয়। কারণ যুদ্ধ যখন থেমে যায় বা ‘যুদ্ধবিরতি’ চলে, তখন শান্তভাবে নিজের যুক্তিটি উপস্থাপন করলে তা স্ত্রীর কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।

আদর্শ মা-বাবা হওয়ার গুরুত্ব শান্তিময় দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি আদর্শ সন্তান গড়ে তোলাও একটি সুখী পরিবারের অংশ। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের অধিকার শুরু হয় তার জন্মের আগে থেকেই। একজন দ্বীনদার জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন করা সন্তানের প্রথম হক। এরপর অর্থবহ নাম রাখা, সুন্দর লালন-পালন এবং সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ বা সমতা বজায় রাখা মা-বাবার অন্যতম দায়িত্ব। সন্তানদের কেবল পোশাক বা খাবার দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের মধ্যে ঈমান ও নৈতিকতা গড়ে তোলাও জরুরি।

উপসংহার

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার জন্য খুব বড় কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন কিছুটা সহনশীলতা এবং ছাড় দেওয়ার মানসিকতা। ঝগড়ার সময় একটু ধৈর্য ধরা এবং স্ত্রীর আবেগ ও কথাকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই ঘরে জান্নাতি শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

 

যে ৮ কারণে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
যে ৮ কারণে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়?

বাংলাদেশে বয়স বাড়া মানেই অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়া। কপালের ত্বকে ভাঁজ, চোখের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা কিংবা গালের মসৃণতা হারিয়ে যাওয়া; এসব লক্ষণ যেন চেহারার তারুণ্যকেই কেড়ে নেয়।

অনেক সময় বয়স না বাড়লেও অল্প বয়সেই ত্বকে কুঁচকে যাওয়া শুরু হয়, যা উদ্বেগ বাড়ায় আরও বেশি। শহরের ধুলাবালি, রোদের তাপ, ব্যস্ত জীবনের মানসিক চাপ, রাত জাগা, অস্বাস্থ্যকর খাবার; সব মিলিয়ে ত্বক তার স্বাভাবিক জেল্লা হারাতে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বয়স নয়, নানা ধরনের অভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার কারণেও মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়তে পারে। তবে সুখবর হচ্ছে, কিছু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যাকে অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

এসব বিষয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধতে বিস্তারিত কারণ ও সমাধানের উপায় জানিয়েছেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি-এর মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ হোসেন খান।

চলুন তাহলে জেনে নিই, কেন চামড়া কুঁচকে যায়—

১. বয়সজনিত পরিবর্তন

ডা. সাইফ হোসেন খান বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কপাল ও মুখের চামড়া কুঁচকে যাওয়া একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন। ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামক প্রোটিন থাকে, যা ত্বককে টান টান ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিন কমে যায়, ফলে ত্বক ঢিলা হয়ে যায়।

২. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি-রে)

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত রোদে কাজ করলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয় ও ত্বকে ভাঁজ পড়ে।

৩. পানিশূন্যতা

পানি আমাদের ত্বকের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বক ম্লান হয় ও কুঁচকে যায়।

৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল

ধূমপান ও মদ্যপান শরীরের ওপর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস নামক বিশেষ ধরনের চাপ তৈরি করে। এসব অভ্যাস রক্তসঞ্চালন কমায় এবং ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। ফলে দ্রুত চামড়া কুঁচকে যায়।

৫. অতিরিক্ত চা-কফি পান

অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করে। শরীরে যখন পর্যাপ্ত অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে না, তখন ত্বকেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এই পর্যায় হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। অতিরিক্ত চা-কফি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত চা-কফি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে, যার কারণে ত্বক কুঁচকে যেতে পারে।

৬. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব

সময়মতো ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ত্বক ক্লান্ত দেখায়, সতেজ ভাব চলে যায়।

৭. পুষ্টির অভাব

ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে দরকার বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ (যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিংক ইত্যাদি)। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে ত্বক সহজেই কুঁচকে যায়।

৮. অভ্যাসগত মুখভঙ্গি

অনেকেরই বারবার কপাল কুঁচকানো বা ভ্রু কুঁচকানোর অভ্যাস থাকে। বারবার এ রকম কপাল, মুখ কুঁচকালে ত্বকে একধরনের চাপের সৃষ্টি হয়, যার কারণে স্থায়ী রেখা তৈরি হয়।

প্রতিরোধে করণীয়

ত্বকের কুঁচকে যাওয়া ঠেকাতে কিছু বিষয় নিয়মিত চর্চা করার পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ।

ত্বকের যত্ন : প্রতিদিন মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রাতে শোবার আগে ত্বক পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ত্বকের উপযোগী কিছু ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

খাদ্য ও পানীয় : প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। খাবারে প্রচুর ফল, শাকসবজি, বাদাম ও মাছ রাখুন (ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার)। ভিটামিন সি (কমলা, লেবু, পেয়ারা), ভিটামিন ই (বাদাম, সূর্যমুখী তেল), জিংকসমৃদ্ধ (ডাল, মাছ) খাবার খাওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ভাজা খাবার, তেলে ভাজা খাবার ও ফাস্টফুডের অভ্যাস কমাতে হবে।

জীবনযাপন : প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন। ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন।

চিকিৎসা ও পরামর্শ

ডা. সাইফ বলেন, ভাঁজগুলো যদি বেশি গভীর হয় বা দ্রুত বেড়ে যায়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজনে মেডিকেল গ্রেড ক্রিম, লেজার থেরাপি, মাইক্রোনিডলিং, বোটক্স/ফিলার দিতে পারেন। তবে এসব চিকিৎসা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।