খুঁজুন
, ,

তহবিলে ২০ হাজার কোটি টাকা গ্রাহকের মিলছে না কানাকড়ি!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
তহবিলে ২০ হাজার কোটি টাকা গ্রাহকের মিলছে না কানাকড়ি!
ব্যাংকের তহবিলে টাকার ঘাটতি নেই। কিন্তু ডেটা স্থানান্তরের জটিলতায় আপাতত আমানতকারীরা হাতে টাকা পাচ্ছেন না। এই চিত্র নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এরই মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা জমা হলেও একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সব গ্রাহকের তথ্য এখনো একক ডেটাবেইসে পুরোপুরি স্থানান্তর না হওয়ায় অর্থ ছাড় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে কোন গ্রাহক কত টাকা পাবেন—তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। 

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ূব মিয়া জানিয়েছেন, ডেটা ট্রান্সফারের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে। এরপর জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে সাধারণ আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চেয়ারম্যান বলেন, আইন বিভাগ ও আইটি বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে, যেন ভবিষ্যতে কোনো আইনি বা হিসাবগত জটিলতা না তৈরি হয়।

একই সঙ্গে ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত এমডি খোঁজার কাজ চলছে। শিগগিরই এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। জানুয়ারি থেকে ব্যাংকটি পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন চেয়ারম্যান।

ডেটা স্থানান্তরের পাশাপাশি ব্যাংকিং কাঠামো পুনর্গঠনের কাজও চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে থাকা পুরনো অ্যাকাউন্ট বাতিল করে নতুন করে একীভূত ব্যাংকের নামে একাধিক কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে; যেমন—সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এক্সিম, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ইউনিয়ন এ রকম। তবে আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো—নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই এবং তাঁরা পুরনো চেক ব্যবহার করেই টাকা তুলতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আমানতকারীদের টাকা পরিশোধে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানত বীমা তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের অংশের ২০ হাজার কোটি টাকা এরই মধ্যে ছাড় করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ ধাপে ধাপে মূলধন হিসেবে যুক্ত হবে।

নতুন ব্যাংকের ভিত্তি শক্ত করতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ পর্যায়ে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তা নিয়োগ, পরিচালন নীতিমালাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং গ্রাহক আস্থা পুনর্গঠন। রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে এরই মধ্যে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় চালু হয়েছে। সরকার চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদও নিয়োগ দিয়েছে, যেখানে সাবেক ও বর্তমান আমলারা রয়েছেন। ভবিষ্যতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে পর্ষদকে আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ডেটা স্থানান্তরের কাজ শেষ হলেই আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন। পুরনো সব গ্রাহককেই নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আইটি ও এইচআর কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলমান এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি টিম সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।

নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করার ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করলে সেদিন পাঁচ ব্যাংকের সব শাখায় একসঙ্গে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হতে পারে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে ধাপে ধাপে টাকা ফেরত দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘যাঁদের খুব প্রয়োজন, তাঁরা টাকা তুলবেন। তবে অপ্রয়োজনে শুধু অন্য ব্যাংকে সরানোর উদ্দেশ্যে টাকা তুললে নতুন ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হারাবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে এসব ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ এরই মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতায় নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হবে আমানতকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

সরকারি মালিকানায় ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হওয়াকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ূব মিয়া বলেন, ‘আমাদের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হলো—আমানতকারীদের টাকা নিরাপদ রাখা এবং তাঁদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। ডেটা স্থানান্তরের কাজ শেষ হলে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে; এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।’ 

সূত্র: কালের কণ্ঠ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মহাত্মা লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

​শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিশু একাডেমিতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানের আগে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।

​ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামছ আজম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ রাশিদুল আলম তুহিন, বাউল পাগলা বাবলু খান ও বাউল নিজাম সাঁই। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজিত কুমার দাস।

​আলোচনা সভায় বক্তারা লালন সাঁইয়ের জীবনাদর্শ, মানবতাবাদী দর্শন ও সাহিত্যচিন্তা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা ফরিদপুরে একটি লালন গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা ও নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

​বক্তারা বলেন, লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক ও বাউল সম্রাট। তাঁর জীবনদর্শন মানুষকে মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা দেয়। লালনের সাহিত্য ও দর্শন নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে এমন এক সমাজ গঠন করতে হবে, যেখানে মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়।

​তারা আরও বলেন, লালনের জীবন ও দর্শন নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় লালন স্মরণানুষ্ঠান ও উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বক্তারা।

​বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা চর্চার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

​আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত বাউল শিল্পীরা লালন গীতি পরিবেশন করেন।

ফরিদপুরে ভাড়া বাসা থেকে ব্র্যাক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাড়া বাসা থেকে ব্র্যাক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভাড়া বাসার একটি কক্ষ থেকে অলিভ বিশ্বাস (৩৮) নামের এক ব্র্যাক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত অলিভ বিশ্বাস মাগুরার শালিখা উপজেলার সোনাডাঙ্গা গ্রামের মিলন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জয়পাশা শাখায় ব্র্যাকের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যাপক স্বপন কুমার সাহার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলিভ বিশ্বাসের কক্ষের সঙ্গী আমরেন্দ্র মণ্ডল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়িতে যান। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ দেখতে পান। অলিভকে বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে অলিভের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তাঁরা।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে।

ত্রিশের পর যে অভ্যাস বদলে দিতে পারে জীবন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ত্রিশের পর যে অভ্যাস বদলে দিতে পারে জীবন

জীবনের ত্রিশের দশক অনেকের কাছেই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সময়। এ বয়সে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা বাড়ে, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব তৈরি হয়, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আর্থিকভাবে নিরাপদ রাখার তাগিদও অনুভূত হয়।

ব্যস্ততার চাপে অনেক সময় নিজের ভালো থাকা, ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব হারায়।
অথচ জীবনের এই পর্যায়ে গড়ে ওঠা অভ্যাসগুলো পরবর্তী বছরগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই শুধু কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই নয়, নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ত্রিশের পর কোন সাতটি অভ্যাস এড়িয়ে চললে জীবনকে আরও গোছানো ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সম্ভব, জেনে নেওয়া যাক।

সঞ্চয়ের পরিকল্পনা ছাড়াই দিন কাটানো

আয় থাকলেই যে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তা নয়। মাসের শুরুতে হাতে টাকা এলেও পরিকল্পনাহীন ব্যয়ের কারণে মাস শেষে অনেকেরই সঞ্চয়ের সুযোগ থাকে না।

অথচ হঠাৎ চিকিৎসার খরচ, চাকরির অনিশ্চয়তা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থের দরকার হতে পারে। এজন্য আয় হাতে পাওয়ার পরই সঞ্চয়ের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ আলাদা রাখার অভ্যাস করুন। কত টাকা আয় করছেন, কতটা ব্যয় হচ্ছে এবং কোথায় খরচ কমানো যায়, তার হিসাব রাখুন। শুরুতে অল্প টাকা জমালেও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।
সব দায়িত্বের মধ্যে নিজের জন্য সময় না রাখা

কর্মক্ষেত্রের চাপ, পরিবারের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত নানা কাজ সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের বিশ্রামকে অবহেলা করেন। সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে গিয়ে কখন যে নিজের জন্য সময় বের করা বন্ধ হয়ে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিশ্রাম ও অবসরকে উপেক্ষা করলে ক্লান্তি বাড়তে পারে, কমে যেতে পারে কাজের প্রতি আগ্রহও। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের পছন্দের কাজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিন। নিজের যত্ন নেওয়াকে বাড়তি কাজ না ভেবে সুস্থ জীবনযাপনের অংশ হিসেবে দেখুন।

পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের অগ্রাধিকার বদলায়। পড়াশোনা শেষে চাকরি, সংসার কিংবা অন্য শহরে চলে যাওয়ার কারণে বন্ধুদের সঙ্গে আগের মতো নিয়মিত দেখা করা সম্ভব হয় না। সময়ের সঙ্গে যোগাযোগ কমতে কমতে অনেক সম্পর্কই দূরত্বের আড়ালে হারিয়ে যায়। অথচ বন্ধুত্ব জীবনে আনন্দ ও মানসিক সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয় বন্ধুদের খোঁজ নিন। মাঝেমধ্যে ফোন করা, একসঙ্গে চা খাওয়া কিংবা ছুটির দিনে দেখা করার পরিকল্পনা করতে পারেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সব সময় দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না, আন্তরিক যোগাযোগই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

বয়সের অজুহাতে নতুন অভিজ্ঞতা থেকে দূরে থাকা

একটি নির্দিষ্ট জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ কমে যেতে পারে। কেউ মনে করেন, এখন আর নতুন করে কিছু শুরু করার সময় নেই, কেউ আবার ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় চেষ্টা করতেই চান না।

এই মানসিকতা ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ সীমিত করতে পারে। নতুন ভাষা শেখা, রান্না, ছবি আঁকা, সংগীতচর্চা কিংবা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কোনো দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজের জগৎকে আরও বিস্তৃত করা যায়। সব নতুন অভিজ্ঞতা পেশাগত সাফল্যের জন্য হতে হবে, এমনও নয়। নিজের ভালো লাগার জন্য শেখা কিংবা নতুন কিছু চেষ্টা করাও জীবনে আনন্দ যোগ করতে পারে।

প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে অযথা দেরি করা

ক্যারিয়ার পরিবর্তন, উচ্চশিক্ষা, আর্থিক পরিকল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, এসব ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করা স্বাভাবিক। সবকিছু নিখুঁত হওয়ার অপেক্ষায় সিদ্ধান্ত বারবার পিছিয়ে দিলে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সুবিধা, অসুবিধা ও ঝুঁকি বিবেচনা করুন। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ মানুষের মতামত নিন। এরপর নিজের সামর্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করুন। প্রতিটি সিদ্ধান্তের ফল আগে থেকেই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের অগ্রগতির তুলনা করা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও নতুন বাড়ি, ভালো চাকরি, বিদেশভ্রমণ কিংবা ব্যবসায়িক সাফল্যের খবর সহজেই চোখে পড়ে। এসব দেখে নিজের অর্জনকে ছোট মনে হতে পারে। বিশেষ করে একই বয়সী মানুষের সাফল্যের সঙ্গে নিজের অবস্থান মেলাতে গিয়ে অনেকেই অযথা হতাশ হয়ে পড়েন।

কিন্তু প্রত্যেকের জীবনযাত্রা, সুযোগ, পারিবারিক পরিস্থিতি ও লক্ষ্য আলাদা। বাইরে থেকে কারও জীবনের সব দিক জানা সম্ভব নয়। তাই অন্যের অগ্রগতিকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখবেন না। বরং নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং আগের অবস্থানের তুলনায় কতটা উন্নতি করতে পেরেছেন, তা মূল্যায়ন করুন। অন্যের সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নিন, কিন্তু নিজের জীবনের মূল্য নির্ধারণের মাপকাঠি হিসেবে সেটিকে ব্যবহার করবেন না।

শরীর ও মনের প্রয়োজন উপেক্ষা করা

কাজের ব্যস্ততায় অনিয়মিত খাবার, কম ঘুম কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের অভাব অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং মানসিক চাপের মধ্যেও বিরতি না নেওয়া সুস্থ জীবনযাপনের পথে বাধা হতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দিন। কাজের ফাঁকে বিরতি নিন এবং দীর্ঘদিন কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মানসিক সুস্থতার জন্যও সময় বের করা জরুরি। প্রয়োজনে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, পছন্দের কাজে যুক্ত থাকুন এবং নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকুন।

ত্রিশের দশক হতে পারে নতুনভাবে শুরুর সময়

ত্রিশ পেরিয়ে গেলেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলো শেষ হয়ে যায় না। বরং এ বয়সে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। আর্থিক পরিকল্পনা, বন্ধুত্বের যত্ন, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং সুস্থ জীবনযাপনের মতো বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিলে জীবন আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

সব অভ্যাস একসঙ্গে বদলানোর চেষ্টা না করে একটি দিয়ে শুরু করুন। নিজের প্রয়োজন বুঝে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়ন করুন। বয়সের হিসাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিদিন নিজের জীবনকে আগের চেয়ে একটু ভালো করার চেষ্টা করা।