খুঁজুন
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংকের পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে ফরিদপুরের মধুখালীতে মানববন্ধন

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকের পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে ফরিদপুরের মধুখালীতে মানববন্ধন

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে ফরিদপুরের মধুখালীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। 

রোববার (২৪ মে) বিকাল ৩ টার দিকে মধুখালী বাজারস্থ চার রাস্তার মোড়ে  ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবসায়ী ইমরান খাঁন এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ব্যাংকের গ্রাহক আশাপুর আলীম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক জিলান ফকির , প্রবীণ গ্রাহক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো.কামালউদ্দিন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক মাওলানা রেজাউল করিম,  ব্যাংকের গ্রাহক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম , শিক্ষক খলিলুর রহমান, ব্যবসায়ী লিয়াকত বিশ্বাস, ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জোর দাবি জানান।

 

ঈদ সামনে রেখে ফরিদপুরে জমজমাট অস্থায়ী খাসি-ছাগলের হাট

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
ঈদ সামনে রেখে ফরিদপুরে জমজমাট অস্থায়ী খাসি-ছাগলের হাট

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ফরিদপুর পৌর এলাকার বিসর্জন ঘাটে বসেছে অস্থায়ী খাসি ও ছাগলের জমজমাট হাট।

রোববার (২৪ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ হাটে দিনভর চলে ব্যাপক বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাট এলাকা। ঈদকে ঘিরে কোরবানির পশু কেনাবেচায় যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সেখানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকেই একে একে খাসি, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে হাটে আসতে থাকেন বিক্রেতারা। দুপুরের পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করলে জমে ওঠে দরদাম ও কেনাবেচা। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে ছিল উপচেপড়া ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে পশু কিনতে এসেছেন, আবার কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে একাধিক পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

হাটে ফরিদপুর শহর ছাড়াও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, মধুখালী ও রাজবাড়ী জেলার কিছু এলাকা থেকেও বিক্রেতারা পশু নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরাও তাদের পালিত খাসি ও ছাগল নিয়ে অংশ নেন এ হাটে।

বিক্রেতারা জানান, অন্যান্য বড় পশুর হাটের তুলনায় এখানে হাসিল তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে পশু নিয়ে আসতে পারছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো থাকায় চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভয় কম। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষই সন্তুষ্ট।

হাটে বিভিন্ন জাত ও আকারের খাসি, ছাগল ও ভেড়া বিক্রি হতে দেখা গেছে। ছোট আকারের খাসির দাম শুরু হয়েছে ৮ হাজার টাকা থেকে। মাঝারি আকারের খাসি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ও উন্নত জাতের খাসির দাম উঠেছে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ভেড়ার দাম ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করতে দেখা গেছে। অনেক ক্রেতা দরদাম করে পছন্দের পশু কিনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখানে পশুর দাম মোটামুটি সহনীয়। তাছাড়া পরিবেশ ভালো হওয়ায় পরিবার নিয়ে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে পশু দেখা যাচ্ছে।”

আরেক বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, “সকাল থেকেই ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। আশা করছি আগামী হাটে আরও বেশি ক্রেতা আসবে।”

হাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদীন চৌধুরী জানান, ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এ অস্থায়ী হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিজস্ব ভলান্টিয়ার টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া পুরো হাট এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে আরও একটি বড় হাট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আরও বেশি পশু আসবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

স্থানীয়রা মনে করছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই জমে উঠবে ফরিদপুরের এসব অস্থায়ী পশুর হাট। এতে একদিকে যেমন খামারিরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদপুরে আইনজীবীদের মানববন্ধন, দ্রুত বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদপুরে আইনজীবীদের মানববন্ধন, দ্রুত বিচারের দাবি

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশু হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাধারণ আইনজীবীরা। এ সময় তারা নারী ও শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে ফরিদপুর শহরের স্বাধীনতা চত্বরে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যসহ বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মেহেরুন্নেসা স্বপ্না। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত হোসেন খান বুলু।

এসময় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান হাফিজ, মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী, অ্যাডভোকেট লতা আক্তার, অ্যাডভোকেট সোহানুর রহমান সোহেল ও অ্যাডভোকেট ফারজানা প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার মতো বর্বর ঘটনাগুলো সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে। এসব অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে গেলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এসময় “নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার চাই”, “ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে” এবং “নিরাপদ সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হোন” — এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্বাধীনতা চত্বর।

ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫ জনের মিলেছে পরিচয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫ জনের মিলেছে পরিচয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন এবং তাদের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়।

রবিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা এলাকায় বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেন (৫৮), তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন (৬২), আলমগীরের স্ত্রী খুশি বেগম (৪৫), জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৫০) এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক কাউছার হোসেন (২২)। কাউছার মাদারীপুর সদর এলাকার শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনই অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।