খুঁজুন
, ,

পেঁয়াজের দামে হাহাকার, কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ ফরিদপুরের সালথার ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
পেঁয়াজের দামে হাহাকার, কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ ফরিদপুরের সালথার ইউএনও

ফরিদপুরের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা সালথার পেঁয়াজ চাষিদের দীর্ঘদিনের লোকসান, ন্যায্যমূল্য সংকট ও সংরক্ষণ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়, বাজারে মূল্য পতন, সংরক্ষণ সংকট এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

এর আগে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সালথার কয়েকজন কৃষক ক্ষোভে উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা ও পানিতে ফেলে দেন। সেই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কৃষকদের দুর্দশার বাস্তব চিত্র সামনে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সালথার অর্থনীতির একটি বড় অংশই পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে কৃষকদের জন্য কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি জানান, প্রতিবেদনের সঙ্গে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমির লিজ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয়সহ পেঁয়াজ উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বিবরণী সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সালথা উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ২২ থেকে ২৩ টাকা দরে, যেখানে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা ১৫ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে কৃষকদের প্রায় ২ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমেই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফলে উৎপাদন খরচও তুলতে না পেরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সালথার মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে শুধু তাদের জীবনমানই উন্নত হবে না, দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনও আরও বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে পেঁয়াজ চাষে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে। তাই তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে সালথার হাজার হাজার পেঁয়াজ চাষি উপকৃত হবেন।”

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের অভিযান

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান শুরু করেছে সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে দুদক কার্যালয়ের একটি চৌকস টিম হাসপাতালে এ অভিযান পরিচালনা করে।

​দুদক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না দিয়ে হয়রানি করা, দালাল চক্রের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া আউটসোর্সিং নিয়োগে অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি ওষুধ বাইরে পাচার ও বিক্রি করার মতো একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান শুরু করে।

​অভিযানকালে দুদক কর্মকর্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, প্রশাসনিক শাখা ও ফার্মেসি ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও রেজিস্টার যাচাই-বাছাই করেন।

​অন্যদিকে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাক ও কর্মকর্তারা জানান, দুদকের তদন্ত কাজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের দাপ্তরিক তথ্য দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুস্তাফিজ জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হচ্ছে।

​তিনি আরও জানান, অভিযান এখনো চলছে। তদন্ত শেষে যেসব অনিয়ম বা তথ্য পাওয়া যাবে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পর্যবেক্ষণ শেষ হলেই সামগ্রিক বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

চরভদ্রাসনে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সারাদেশের ন্যায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ভার্চ্যুয়ালি এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। দেশের অন্যান্য উপজেলার মতো চরভদ্রাসন উপজেলা থেকেও প্রতিনিধিরা সরাসরি এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

​উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিনি কনফারেন্স রুমে ভার্চ্যুয়ালি এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

​চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহীদ তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান বিন ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, চর ঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্যা, সদস্য মো. কুদ্দুস আলী ও যুবদল সভাপতি মো. মোজাফফর হোসেন জাফর। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও তথ্যসংগ্রহকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং হরিরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপের এ কাজে ১৩ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও দুইজন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য সব ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করা হবে।

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু

নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়োজিত তথ্যসংগ্রহকারীরা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন।

​পরবর্তীতে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করে তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন এ প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সভাপতিত্বে প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস সেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

​প্রেস কনফারেন্সে ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। এতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।