খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

আলফাডাঙ্গায় ক্ষেতে গিয়ে কৃষকের কান্না—রাতে তুলে নিয়ে গেল ৫০ মন পেঁয়াজ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় ক্ষেতে গিয়ে কৃষকের কান্না—রাতে তুলে নিয়ে গেল ৫০ মন পেঁয়াজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় রাতের অন্ধকারে এক কৃষকের পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে আনুমানিক ৫০ মন পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১নং বুড়াইচ ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে। ভুক্তভোগী কৃষক মো. ইনামুল হক (রুবেল) জানান, তিনি চলতি মৌসুমে শিয়ালদী ও শৈলমারী মৌজায় প্রায় ৩ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। ভালো ফলনের আশায় তিনি সার, সেচ ও পরিচর্যায় যথেষ্ট শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করেন।

তিনি বলেন, “গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো ক্ষেত পরিদর্শন করে বাড়ি ফিরে যাই। পরদিন সকালে আবার ক্ষেতে গিয়ে দেখি, ক্ষেতের বড় অংশ থেকে পাকা ও আধা-পাকা পেঁয়াজ তুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ নেই।”

তিনি আরও জানান, কিছু পেঁয়াজ ক্ষেতের মধ্যেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে চোরেরা তাড়াহুড়ো করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয়দের মতে, সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে এই চুরি সংঘটিত করেছে। কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল এভাবে লুট হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিজ পণ্য চুরির ঘটনা বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইদ্রিস শেখ (৬০), মো. রমিজ উদ্দিন (২৫) ও মো. ফারুক আহম্মেদ (৬০) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত তদন্ত করে চোরদের গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

ফরিদপুরে কাঁচাবাজারে আগুন—সবজির দামে নাভিশ্বাস, চাপে স্বল্প আয়ের মানুষ

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কাঁচাবাজারে আগুন—সবজির দামে নাভিশ্বাস, চাপে স্বল্প আয়ের মানুষ

ফরিদপুরের কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই সবজির দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় তরকারি কিনতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষজন। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকট ও পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই খুচরা বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দামই চড়া। আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়, তবে পটল ১০০ টাকা, উস্তে (করলা) ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৮০ টাকা এবং ঝিঙে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনছেন। কেউ কেউ আবার একেবারেই না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। নিম্ন আয়ের একাধিক ক্রেতা জানান, প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার ওপর সবজির এমন দাম বাড়ায় রান্নার তালিকায় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

কাঁচাবাজারের বিক্রেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, তেল সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। অনেকেই দাবি করছেন, বাজারে তদারকির অভাব থাকায় দামের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, শুধু সবজিই নয়—মাছ, মাংস, ডাল ও ভোজ্যতেলের দামও বেশ চড়া। ফলে সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং কৃষকদের উৎপাদন সহায়তা বাড়ানো হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

স্থানীয় ভোক্তারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য কেনা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠবে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এমন অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। আমরা মনে করি, বাজারে কার্যকর তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। দ্রুত প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।”

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, শীতকালীন সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক পন্য পুরনো কিংবা নতুন বাজারে আসছে, সেজন্য দাম কিছুটা বেশি রয়েছে। তবে, ১৫ দিনের মধ্যে এই দামটা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, “বাজারে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করছি। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, আমরা কাঁচা বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাম ভাইরাস নিয়ে বাবা-মায়ের করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
হাম ভাইরাস নিয়ে বাবা-মায়ের করণীয়
হাম, যা রুবেওলা নামেও পরিচিত, একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল সংক্রমণ যা মূলত শ্বাসযন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির সময় নির্গত ফোঁটার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাসটি বাতাসে বা পৃষ্ঠতলে কয়েক ঘন্টা ধরে সক্রিয় থাকতে পারে।

কেবল বাসনপত্র, পানীয় ভাগ করে নেওয়া, অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একই ঘরে থাকার ফলে সংক্রমণ হতে পারে। 

রুবেওলা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট হাম, ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চারদিন আগে থেকে চার থেকে পাঁচদিন পরে পর্যন্ত সংক্রামক।

টিকা না দেওয়া শিশুদের জন্য এই সংক্রমণ বিশেষভাবে বিপজ্জনক এবং বিশ্বের অনেক জায়গায় এটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। 

ভাইরাসটি প্রথমে নাক এবং গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে সংক্রামিত করে এবং সাধারণত সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ১৪ দিন পরে লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

এটি জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং কাশির মতো সাধারণ লক্ষণগুলোর সাথে শুরু হতে পারে, তারপরে হামের ফুসকুড়ি দেখা দেয় যা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। 

যদিও টিকাদানের ফলে বিশ্বব্যাপী হামের সংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে, তবুও কম টিকাদানের হারযুক্ত অঞ্চলে এখনও হাম দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী ১,১৪,০০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। 

সুতরাং আপনার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আক্রান্ত অবস্থায় সঠিক যত্ন নিতে বাবা-মায়ের সচেতনতা জরুরি। আপনার সন্তানের সুস্থতায় করণীয় বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

প্রতিরোধে করণীয় (টিকা ও সচেতনতা)

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুকে সময়মতো টিকা দেওয়া।

টিকা নিশ্চিত করুন: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী শিশুকে ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করুন।

মায়ের বুকের দুধ: শিশুকে পর্যাপ্ত সময় ধরে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ান, যা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

পরিচ্ছন্নতা: হামের ভাইরাস খেলনা বা টেবিলের মতো জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে, তাই ঘর ও আসবাবপত্র নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করুন।

হাম আক্রান্ত শিশুর যত্ন

হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক যত্নে শিশু দ্রুত সুস্থ হয়।

বিশ্রাম ও তরল খাবার: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়ান।
আইসোলেশন বা আলাদা রাখা: সংক্রমণ ছড়ানো রোধে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বা বাইরে পাঠাবেন না।

চিকিৎসকের পরামর্শ: জ্বর বা র‌্যাশের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বা সিরাপ খাওয়ানো জরুরি হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাস ও সতর্কতা

সহজপাচ্য খাবার: শিশুকে সহজে হজম হয় এমন খাবার দিন। অতিরিক্ত মশলাযুক্ত বা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

জটিলতা লক্ষ্য করুন: হামের ফলে কানে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা হতে পারে। বাচ্চার শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।

হাম বিকাশের ঝুঁকিতে কারা?

যদিও হাম যে কাউকে আক্রান্ত করতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি আছেন যাদের উচ্চ ঝুঁকির ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া বা গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। আপনার ঝুঁকি বেশি হতে পারে যদি- টিকা নেওয়া না হয়। যারা কখনও পাননি হাম (এমএমআর) টিকা বিশেষ করে প্রাদুর্ভাবের সময়, ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা তাদের উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

আপনি কম টিকাদানের হারযুক্ত এলাকায় যদি ভ্রমণ করেন অর্থাৎ, এমন দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন যেখানে হামের টিকাদানের কভারেজ- দুর্বল ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বেশি।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা যেমন: অবস্থার কারণে এইচআইভি/এইডস, ক্যান্সার, বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ-সংক্রমণ এবং জটিলতার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে, হামের মতো সংক্রমণকে আরও তীব্র করে তোলে এবং অন্ধত্ব বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

হামের জটিলতা- হামকে প্রায়শই শৈশবের একটি রোগ হিসেবে ধরা হয় যা নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে এটি হতে পারে গুরুতর জটিলতা বিশেষ করে ছোট বাচ্চা, প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। যদি আপনি বা আপনার শিশু নিম্নলিখিত কোনও একটি সমস্যা অনুভব করেন, অবিলম্বে চিকিৎসা স্মরণাপন্ন হবেন।

কানের ইনফেকশন: একটি সাধারণ জটিলতা, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। হামের ফলে যন্ত্রণাদায়ক মধ্যকর্ণের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, যা চিকিৎসা না করা হলে সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে।

নিউমোনিয়া: হাম উল্লেখযোগ্যভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে, যা শরীরকে নিউমোনিয়ার মতো গৌণ সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলে। প্রকৃতপক্ষে, নিউমোনিয়া হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ): একটি বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতা, মস্তিষ্কপ্রদাহ আরোগ্য লাভের কিছুক্ষণ পরেই অথবা এমনকি কয়েক মাস পরেও হতে পারে। এর ফলে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, বা গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।

শ্বাসনালীর প্রদাহ: হাম প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে স্বরযন্ত্র এবং শ্বাসনালীতে। যার ফলে স্বরভঙ্গ, শ্বাসকষ্ট এবং ক্রাউপের মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

গর্ভাবস্থার জটিলতা: হাম আক্রান্ত গর্ভবতী মহিলাদের ঝুঁকি বেশি থাকে- গর্ভপাত, অকাল প্রসব এবং কম জন্ম ও ওজনের শিশুর জন্ম হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হামের ফলে মৃত শিশুর জন্মও হতে পারে।

কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন?

শিশুদের ক্ষেত্রে, একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একজন এমবিবিএস চিকিৎসকই সঠিক বিশেষজ্ঞ। আরও গুরুতর বা জটিল ক্ষেত্রে আপনাকে একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হতে পারে।

হাম থেকে নিজেকে এবং আপনার প্রিয়জনদের রক্ষা করার জন্য সময়মত টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত টিকাদানের অংশ হিসেবে শিশুদের এমআর টিকার উভয় ডোজ গ্রহণ করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্ক যারা কখনও টিকা নেননি বা আগে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেননি তাদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত, বিশেষ করে কম টিকাদানের আওতাযুক্ত অঞ্চলে ভ্রমণ করার আগে।

হাম প্রতিরোধ কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগেই তা বন্ধ করার জন্যও অপরিহার্য।

লেখক: প্রাবন্ধিক, পি.এইচ.ডি (হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট)

প্রকৃতির বিরল ফুল ‘নাগলিঙ্গম’

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
প্রকৃতির বিরল ফুল ‘নাগলিঙ্গম’

বসন্ত প্রকৃতির প্রায় শেষ সময় এখন। তারপরও দক্ষিণ-হাওয়া দারুণ উতলা! কচি-কিশলয় আর কোকিলের কুহুতানে জেগে উঠেছে বাংলার প্রকৃতি।

নানা রঙের বর্ণছটায় প্রকৃতি যেন নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে। এমন উচ্ছল বসন্তের হাত ধরেই প্রকৃতিকূলে বসেছে ফুলদের মেলা।

বড় আকৃতির গাছের গায়ে শোভা পাচ্ছে হালকা গোলাপি-হলুদ রঙের অপূর্ব এক ফুল। গাছের তলায় গিয়ে দাঁড়ালে এক প্রকারের মৃদু সুগন্ধ হঠাৎ ধেয়ে আসে।

তখনই মন উতলা হয়—সেই সুগন্ধের রহস্য বের করার জন্য!
গাছটির শরীরজুড়ে ছড়িয়ে আছে এই মাধুর্যময় পুষ্পশোভা। রঙিন আভা ছড়ানো ফুলগুলোও বেশ বড় বড়।

এই শোভা যেমন আকৃতিতে বড়, তেমনি নয়নাভিরাম। ফুলের পরাগচক্র দেখতে অনেকটা সাপের ফণার মতো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ফণা তোলা সাপ! সেই সঙ্গে ওইসব ফুলে ফুলে মৌমাছিদের গুঞ্জন-ধ্বনি অসাধারণ অনুভূতির জন্ম দিয়ে যায়।
চোখজুড়ানো বিশেষ প্রজাতির ফুলটির নাম ‘নাগলিঙ্গম’।

ফুলের লাল পাপড়ির মধ্যেখানটি নাগ বা সাপের মতো ফণা তুলে আছে বলে উদ্ভিদসংশ্লিষ্টরা এর নামকরণ করেছেন নাগলিঙ্গম। নাগলিঙ্গম গ্রীষ্মের ফুল। ফুটতে শুরু করে বসন্তের শেষ থেকে। অনেক দিন ধরে ফোটে, প্রায় শরৎ পর্যন্ত।

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) ভেতরে প্রস্ফুটিত হয়ে রয়েছে মনমাতানো এই ফুল। ফুল ফোটার পর গাছটিতে ধরে বড় আকৃতির গোলাকার ফল। এর ফল দেখতে কামানের গোলার মতো। সে কারণেই ইংরেজিতে এর নাম ‘ক্যানন বল’। তবে ফল নয়, নাগলিঙ্গম দৃষ্টি কাড়ে তার ফুলের অসাধারণ সৌন্দর্যের কারণে।

নাগলিঙ্গমের সৌন্দর্যে অভিভূত উদ্ভিদবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা তার ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন, ‘আপনি বর্ণে, গন্ধে, বিন্যাসে অবশ্যই মুগ্ধ হবেন। এমন আশ্চর্য ভোরের একটি মনোহর অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই অনেক দিন আপনার মনে থাকবে।’

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. আব্দুল আজিজ বলেন, নাগলিঙ্গম একটি বিরল প্রজাতির বৃক্ষ। এই গাছের ইংরেজি নাম ‘Cannonball Tree’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis, যা Lecythidaceae পরিবারভুক্ত। এর আদি নিবাস আমাজন ও মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। নাগলিঙ্গম ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গুচ্ছ পাতাগুলো খুব লম্বা, সাধারণভাবে ৮-৩১ সেন্টিমিটার, কিন্তু ৫৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বায় পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এর আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়। বেশি দেখা মেলে ল্যাটিন আমেরিকায়। হিন্দু ও বৌদ্ধ উপাসনালয়গুলোতে পবিত্র বৃক্ষ মনে করে রোপণ করা হয় নাগলিঙ্গম। গাছের গুঁড়ি ফুঁড়ে বের হওয়া দড়ির মতো এক ধরনের দণ্ডের মঞ্জরিতে ফোটে। ফুলের আকার বেশ বড়। ফুলের পাপড়ি মোটা। লাল, গোলাপি ও হলুদের মিশ্রণ নাগলিঙ্গমকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। মার্চ মাসে ফুল ফোটা শুরু হয়। গাছের কাণ্ড ও ডাল থেকে ঝুলন্ত লম্বা লম্বা ডাঁটায় কয়েকটি ফুল ফোটে বছরে কয়েকবার। হালকা গোলাপি-হলুদে মিশ্র রঙের পুংকেশরের একগুচ্ছ ক্ষুদে পাপড়ি।

এর উৎপত্তি এবং ঔষধিগুণ প্রসঙ্গে ড. আজিজ বলেন, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ আল হোসেন গাছটির চারা রোপণ করেছিলেন। এই ফুলের ঔষধিগুণও রয়েছে। এর ফুল, পাতা ও বাকল থেকে তৈরি ওষুধ নানা ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বাংলার প্রকৃতি থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যেতে বসেছে এমন বিরল বৃক্ষগুলো সংরক্ষণে বৃক্ষপ্রেমী-ফুলপ্রেমীসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ড. আজিজ।

বাংলানিউজ