খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, দুই মাসের মাথায় প্রসূতির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, দুই মাসের মাথায় প্রসূতির মৃত্যু

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডল নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।

​মৃত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। এ দম্পতির ঘরে বর্তমানে প্রায় দুই মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

​নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল জানান, গত ২৯ জুন কনিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনির সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন কনিকা।

​অশান্ত মন্ডলের অভিযোগ, অপারেশনের পরদিনই তার স্ত্রীর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই কনিকাকে রাজধানীর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার পর তার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

​পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনিকার পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘ দিন ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে মারা যান তিনি।

​অশান্ত মন্ডলের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন। ওই বার্তায় লেখা ছিল, “ভুল মানুষেরই হয়… আমি ভুল করে ফেলেছি… আবারো ক্ষমা চাচ্ছি।”

​অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমরিতা হাসপাতালে গিয়ে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার বাসায় গেলে দারোয়ান জানান, চিকিৎসক বাসায় আছেন, তবে কাউকে সাক্ষাৎ না দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

​সমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহশিন শরীফ এ বিষয়ে বলেন, “আমার হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন।”

​ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সদরপুরে ২ জেলের কারাদণ্ড, ১ লাখ মিটার জাল ধ্বংস

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ২ জেলের কারাদণ্ড, ১ লাখ মিটার জাল ধ্বংস

মা-ইলিশ সংরক্ষণের বিশেষ অভিযানে ফরিদপুরের সদরপুরে ২ জেলেকে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযানে জব্দ করা ১ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

​বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার চরমানাইর, নারিকেলবাড়িয়া ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিনের দিকনির্দেশনায় উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও সদরপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। এতে নেতৃত্ব দেন মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আবরার।

​আটক জেলেরা হলেন—মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার চারিপাড়া এলাকার রব মোল্লার ছেলে রমজান মোল্লা (২৫) এবং একই উপজেলার সিঙ্গাইর হাটি এলাকার আলী মৃধার কর্মকর্তার ছেলে আলাউদ্দিন (৩০)।

​প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযান চলাকালে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে মা-ইলিশ শিকারের সময় ওই দুই জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের প্রত্যেককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

​অভিযানে জব্দ করা ১ লাখ মিটার জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা, যা পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে উদ্ধার করা ১২ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

​এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, “মা-ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদ-নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার ও ইলিশ শিকারে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

​উল্লেখ্য, মা-ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

ফরিদপুরে ‘জিনের বাদশা’ সেজে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের জালে ২ প্রতারক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘জিনের বাদশা’ সেজে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের জালে ২ প্রতারক

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তাঁর পরিচিত ‘বিজয় বাবু’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দিয়ে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি টাকার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল ইসলাম।

এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক মাজিদুল হক খানের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, চক্রটি ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করে প্রতারণার পর সেগুলো ফেলে দিত। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তাদের প্রতারণার অন্যতম কৌশল।

চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল। তাদের কেউ ফোন করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত, আবার অন্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে ডোবায় ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডোবায় ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ডোবার পানিতে ডুবে শেখ আরাফাত নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।

​বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালাশী ডাঙ্গী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত আরাফাত ওই গ্রামের বাসিন্দা শেখ রাসেলের ছোট ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট ছিল। তার রাইছা (৫) ও রোজামনি (৩) নামে দুই বোন রয়েছে।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে শিশু আরাফাত তার বোনের সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পেছনের ডোবার পানিতে তাকে ভাসতে দেখা যায়।

​পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

​শিশুটির এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।