খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ২৭৭ প্রতিমায় ব্যতিক্রমী দুর্গোৎসব, মন্দির প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৭৭ প্রতিমায় ব্যতিক্রমী দুর্গোৎসব, মন্দির প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল

একই মন্দির প্রাঙ্গণে সারি সারি সাজানো ২৭৭টি প্রতিমা। কোথাও দেবী দুর্গার নবদুর্গা রূপ, আবার কোথাও ফুটে উঠেছে মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলার উপাখ্যান। পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় আখ্যানের এমন শৈল্পিক উপস্থাপনায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার এক পূজামণ্ডপ এখন দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

​উপজেলার কুসুমদি গ্রামের শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের এ ব্যতিক্রমী শারদীয় দুর্গোৎসব দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী। ফরিদপুর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এখানে। আয়োজকদের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও ভক্তরা এ চমৎকার আয়োজন দেখতে আসছেন।

​সরেজমিনে দেখা যায়, মন্দির প্রাঙ্গণজুড়ে সারি সারি প্রতিমা সুবিন্যস্তভাবে সাজানো। প্রতিটি প্রতিমায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা পৌরাণিক আখ্যান। নির্মাণশৈলী, বৈচিত্র্যময় সাজসজ্জা আর নান্দনিক উপস্থাপনা রূপ নিয়েছে এক অনবদ্য শিল্পকর্মে। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রতিমা ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন ছবি ও ভিডিও। সব মিলিয়ে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

​মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৫ সাল থেকে এখানে নিয়মিত দুর্গোৎসব আয়োজিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিসর ও জনপ্রিয়তা দুই-ই বেড়েছে। গত বছর এখানে ২৫১টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৭টিতে।

​কাশিয়ানী থেকে আসা দর্শনার্থী দীপালী রানী বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো প্রতিমা দেখে ভীষণ ভালো লাগছে। প্রতিটি প্রতিমায় আলাদা আলাদা গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছি, সত্যিই এক দারুণ অনুভূতি।”

​মধুখালী থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী বিনয় কুমার জানান, প্রতিমাগুলোর নির্মাণশৈলী এক কথায় অসাধারণ। দূর থেকে এসেও এমন আয়োজন দেখে মন ভরে গেছে। এই আয়োজন বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি করেছে।

​আলফাডাঙ্গা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও প্রভাষক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, “এটি আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রকাশ। ২৭৭টি প্রতিমার মাধ্যমে পৌরাণিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। আমরা চাই, সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিক।”

​চলতি বছর ফরিদপুর জেলার মোট ৭৮১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এর মধ্যে ১৪৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৪৭টি মণ্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সার্বিক আয়োজনের দিক থেকে আলফাডাঙ্গার এই মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

​দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মন্দিরজুড়ে নেওয়া হয়েছে নিচ্ছদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখার পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার জানান, পূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

সদরপুরে ২ জেলের কারাদণ্ড, ১ লাখ মিটার জাল ধ্বংস

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ২ জেলের কারাদণ্ড, ১ লাখ মিটার জাল ধ্বংস

মা-ইলিশ সংরক্ষণের বিশেষ অভিযানে ফরিদপুরের সদরপুরে ২ জেলেকে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযানে জব্দ করা ১ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

​বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার চরমানাইর, নারিকেলবাড়িয়া ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিনের দিকনির্দেশনায় উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও সদরপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। এতে নেতৃত্ব দেন মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আবরার।

​আটক জেলেরা হলেন—মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার চারিপাড়া এলাকার রব মোল্লার ছেলে রমজান মোল্লা (২৫) এবং একই উপজেলার সিঙ্গাইর হাটি এলাকার আলী মৃধার কর্মকর্তার ছেলে আলাউদ্দিন (৩০)।

​প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযান চলাকালে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে মা-ইলিশ শিকারের সময় ওই দুই জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের প্রত্যেককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

​অভিযানে জব্দ করা ১ লাখ মিটার জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা, যা পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে উদ্ধার করা ১২ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

​এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, “মা-ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদ-নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার ও ইলিশ শিকারে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

​উল্লেখ্য, মা-ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

ফরিদপুরে ‘জিনের বাদশা’ সেজে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের জালে ২ প্রতারক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘জিনের বাদশা’ সেজে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের জালে ২ প্রতারক

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তাঁর পরিচিত ‘বিজয় বাবু’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দিয়ে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি টাকার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল ইসলাম।

এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক মাজিদুল হক খানের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, চক্রটি ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করে প্রতারণার পর সেগুলো ফেলে দিত। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তাদের প্রতারণার অন্যতম কৌশল।

চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল। তাদের কেউ ফোন করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত, আবার অন্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে ডোবায় ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডোবায় ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ডোবার পানিতে ডুবে শেখ আরাফাত নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।

​বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালাশী ডাঙ্গী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত আরাফাত ওই গ্রামের বাসিন্দা শেখ রাসেলের ছোট ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট ছিল। তার রাইছা (৫) ও রোজামনি (৩) নামে দুই বোন রয়েছে।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে শিশু আরাফাত তার বোনের সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পেছনের ডোবার পানিতে তাকে ভাসতে দেখা যায়।

​পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

​শিশুটির এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।