নগরকান্দায় নতুন ব্রিজের নামকরণ প্রসঙ্গে কিছু কথা
সত্য কথা অনেক সময় তিক্ত হয়—ভীষণ তিক্ত। তারপরও সত্য বলা থেকে সরে আসা যায় না।
আমার জানা মতে, নগরকান্দার ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে সবচেয়ে বেশি লেখালেখি করেছি আমি নিজেই। আমার লেখনিতে নগরকান্দাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অসহায়ত্বের চিত্র উঠে এসেছে। এর ফলেই সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে ওঠে এবং নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য গণদাবি জোরালো হয়।
এই ধারাবাহিক লেখালেখির সময় একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের একটি অংশ সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়েদা সাজেদা চৌধুরী ও লাবু চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও লাবু চৌধুরী আমার লেখালেখি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করেননি। বরং দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে বারবার আমাকে জানানো হয়েছে—তিনি নগরকান্দায় একটি নতুন ব্রিজ অনুমোদনের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে গেছেন।
পরিশেষে নগরকান্দাবাসীর বহু প্রতীক্ষিত সেই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তব রূপ নেয়। লাবু চৌধুরী নিজেই ব্রিজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং তাঁর হাত ধরেই কাজের অগ্রগতি শুরু হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
এছাড়া যতটুকু জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় ব্রিজের কাজ এক পর্যায়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেই সংকটময় সময়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কাজটি পুনরায় গতি পায়। এই অবদানের জন্য তিনিও নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
বর্তমানে ব্রিজটির নামকরণ নিয়ে নানা আলোচনা ও দাবি উঠছে। আমার ব্যক্তিগত মত হলো—এই ব্রিজের নাম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির নামে না দেওয়াই শ্রেয়। তবে যদি রাজনৈতিক ব্যক্তির নামেই নামকরণ করতেই হয়, তাহলে সৈয়েদা সাজেদা চৌধুরীর নামে নামকরণের দাবি তোলা বৃহৎ মনের পরিচয় হবে।
সবশেষে একটি কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই—আমাকে যেন আবার ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বা নতুন করে অন্য কোনো রাজনৈতিক ট্যাগ না দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে অনেকে জামায়াতের ট্যাগও দিয়েছেন। সত্য সব সময়ই তিতো, কিন্তু যতদিন এই মাতৃভূমিতে বেঁচে থাকব, ততদিন সত্য বলেই যেতে চাই।
লেখক: শিক্ষক ও সাংবাদিক, ফরিদপুর

আপনার মতামত লিখুন
Array