খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩

পবিত্র রমজানে পাপে জড়ালে কী ক্ষতি হয়? ইসলাম যা বলে

মাওলানা আবদুল হাকিম
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র রমজানে পাপে জড়ালে কী ক্ষতি হয়? ইসলাম যা বলে

জীবনের সব ধরনের পাপ থেকে পরিশুদ্ধতা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ রমজান। পবিত্র এ মাসে মহান রবের ইবাদত-উপাসনায় আলোকিত হয় মুমিনের জীবন। সফল তো তারাই, যারা অতীতের পাপমোচন করাতে পারে অবারিত রহমত অর্জনের এ মাসে। তবে ব্যর্থ তারা, যারা রমজান মাস পেয়েও নিজের পাপমোচন করাতে পারে না।

রোজা রেখেও পাপে জড়ানোর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। এদের ব্যাপারে স্বয়ং জিবরাইল (আ.) বদদোয়া করেছেন এবং নবী কারিম (সা.) রাহমাতুল্লিল আলামিন হয়েও ‘আমিন’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

হাদিসে বর্ণিত আছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে নববীর মিম্বারের একেকটি সিঁড়িতে পা রাখার সময় ‘আমিন আমিন আমিন’ তিনবার বলেছিলেন। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আজকে এমন একটি কাজ আপনি করলেন, যা কখনো করতে দেখিনি। এর কারণটা কী? আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, কী বিষয়ে? সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি ‘আমিন আমিন আমিন’ তিনবার বললেন। তখন নবী কারিম (সা.) বললেন, আমি যখন মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন জিবরাইল (আ.) বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেয়েও (তাদের খেদমত করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি তাকে সমর্থন করে বললাম ‘আমিন’ (হে আল্লাহ কবুল করো)। অতঃপর তিনি বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। আমি তাকে সমর্থন করে বললাম ‘আমিন’। হজরত জিবরাইল (আ.) আবারও বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যার কাছে আমার নাম আলোচিত হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পড়ল না। আমি তার বক্তব্যকে সমর্থন করে বললাম ‘আমিন’। (ইবনে হিব্বান: ৯০৮; আল-আদাবুল মুফরাদ: হাদিস ৬৪৬)

অথচ আমাদের যেন বিকার নেই। ভাবনা নেই। রমজান মাস পেয়েও লাগামহীন পাপে বিভোর অনেকে। বড় আক্ষেপের বিষয়, এ পবিত্র মাসেও ভেসে আসে গান-বাজনার আওয়াজ। কেউ কেউ প্রকাশ্যে পানাহার করে বেড়ায়। নামাজ-রোজার কথা ভুলে গিয়ে চলে খেলাধুলার প্রতিযোগিতা। অবসরতা কাটাতে কোথাও জমে ওঠে জুয়া ও আড্ডার আসর। এসব রমজানের পবিত্রতা ও মহত্ত্বকে ধ্বংস করে। কেউ দিনভর রোজা রাখে, আবার গিবত, পরনিন্দা ও মিথ্যা কথাসহ বিভিন্ন পাপ কাজেও লিপ্ত থাকে। এমন ব্যক্তির ভাগ্যে শুধু ক্ষুধাই জোটে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কত রোজাদার আছে, যাদের রোজার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত সালাত আদায়কারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না।’ (ইবনে মাজা: ১৬৯০)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও তদানুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি: ১৯০৩)

পাপের উপসর্গ নিয়ে বেড়ে উঠেছে যার জীবন, অন্যায়ের প্রবণতা মিশে আছে রক্ত কণিকায়, পবিত্র রমজান মাসেও যে ব্যক্তি পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারছে না—তার উচিত আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনায় মনোনিবেশ করা। কেননা দোয়া হলো মুমিনের হাতিয়ার। যেভাবে আল্লাহ শারীরিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ করেন, সেভাবেই তিনি আত্মার ব্যাধির প্রতিকার করেন। আল্লাহর দরবারে ঝরা অশ্রু, বৃথা যায় না কখনো। পাপের ভারে ন্যুব্জ বান্দা যখন আল্লাহকে ডাকে তখন তিনি সাড়া দেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ডাকো আমায়, সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘কে তিনি যিনি আর্তের ডাক শোনেন, যখন সে তাকে ডাকে এবং কে তার দুঃখ দূর করেন!’ (সুরা নামল: ৬২)। পাপের আঁধারে নিমজ্জিত ব্যক্তির পক্ষে রাতারাতি পাপমুক্ত হওয়া দুষ্কর, এর জন্য চাই ধৈর্য ও অবিরাম চেষ্টা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করে, আল্লাহ তার পথ খুলে দেন। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আনকাবুত: ৬৯)

পাপের আনন্দ শেষ হয়ে থেকে যায় এর অশুভ পরিণাম। ইবাদতের কষ্ট শেষ হয়ে থেকে যায় এর শুভ পরিণাম। তাই পাপের শাস্তি ও এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে চিন্তার মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়া সহজ। আখেরাতের অপেক্ষমাণ কঠিন আজাব ছাড়াও এ পৃথিবীতে পাপের নগদ শাস্তি হলো—দুঃখ, দুর্দশা, অশান্তি, অস্থিরতা ও হতাশা। এ ছাড়া পাপের কারণে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার দূরত্ব তৈরি হয়; পাপী ব্যক্তি থেকে তার রহমতের দৃষ্টি উঠে যায়। তারা বিপদাপদ ও বিপর্যয়ে আপতিত হয়, দুরারোগ্য রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং রুজিরোজগারের সংকটে জর্জরিত হয়। গুনাহ যেমনভাবে মানুষের শারীরিক কষ্ট ও শাস্তির কারণ, তেমনিভাবে তা আত্মিক রোগব্যাধিরও কারণ। কারও থেকে একটি গুনাহ সংঘটিত হলে সেটি আরেকটি গুনাহতে লিপ্ত হওয়ার কারণ হয়। হাফেজ ইবনুল কাইয়্যুম (রহ.) বলেন, গুনাহের একটি নগদ শাস্তি হলো, এর দ্বারা সে আরেকটি গুনাহের শিকার হয়। অনুরূপভাবে নেক কাজের একটি নগদ পুরস্কার হলো, একটি নেক কাজ আরেকটি নেক কাজের দিকে টেনে নেয়। (মায়ারেফুল কোরআন: ৭/৭০১)।

রমজানে অভিশাপ্ত শয়তানকে বন্দি করে রাখা হলেও প্রত্যেকের সঙ্গে ‘নফসে আম্মারা’ কিন্তু ঠিকই রয়েছে, যা মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং কুপ্রবৃত্তির প্রতি আহ্বান করে। তাই সব ধরনের গুনাহের উপকরণ থেকে দূরে থাকতে হবে, বিশেষত দৃষ্টি হেফাজত করতে হবে।

রমজান সংযমের মাস, সাধনার মাস, ত্যাগের মাস। কিন্তু আমরা রমজানের এ বার্তাকে ভুলে গিয়ে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিদের অনুসৃত পথ পরিহার করে সেহরি ও ইফতারে এতটাই ভোজনবিলাসী হয়ে উঠি—যা রমজানের সংযম, সাধনা ও ত্যাগের বার্তাকে ভুলিয়ে দেয়। ফলে আমাদের কুপ্রবৃত্তি দুর্বল না হয়ে আরও হিংস্র ও পাশবিক হয়ে ওঠে। কাম, লিপ্সা, মোহ আরও বেড়ে যায়। সুকুমারবৃত্তিগুলো বিকশিত না হয়ে আরও নিস্তেজ হয়ে যায়।

রমজানে গুনাহ থেকে বাঁচতে হলে অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে সৎ সঙ্গ গ্রহণ করতে হবে। কেননা মানুষ পাপ কাজে অসৎ সঙ্গীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই পাপ থেকে বেঁচে থাকতে সৎ ও ভালো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। মহানবী (সা.) ভালো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘তুমি মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেজগার লোকে খায়।’ (আবু দাউদ: ৪৮৩২)।

আমাদের সবার মনে সর্বদা এ চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে—প্রতিমুহূর্তে আমরা যা করছি আল্লাহতায়ালা তা দেখছেন। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখেন।’ (সুরা হুজরাত: ১৮)। আর এভাবে আল্লাহর ধ্যান দিলে জাগরূক রাখতে পারলেই পাপমুক্ত জীবনযাপন সম্ভব। তখন কেউ কারও ওপর জুলুম করবে না, একে অন্যের হক নষ্ট করবে না। আল্লাহতায়ালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করবে না এবং যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ ও পাপাচারে লিপ্ত হবে না। এরই নাম তাকওয়া। রহমতের এ বসন্তকালে আসুন আমরা খোদাভীতি অর্জন করি এবং নিজেদের পাপকর্মের জন্য খাঁটি মনে তওবা করে ভবিষ্যতেও যাবতীয় পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করে একটি পুণ্যময় রমজান কাটাই। তবেই অনিন্দ্য সুন্দর হবে আমাদের ইহকাল-পরকাল।

লেখক: ইমাম ও খতিব

 

সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবারও শাস্তি হবে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবারও শাস্তি হবে

মৃত্যু প্রাণীজীবনের অবিচ্ছেদ্য সত্য।কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না, এ সত্য থেকে কেউই পালাতে পারে না। রাব্বুল আলামিন মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমরা নিজ নিজ কাজের প্রতিফল সম্পূর্ণভাবেই কিয়ামতের দিন পাবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫, সুরা আনকাবুত : ৫৭)

অর্থাৎ ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা, শক্তিশালী-দুর্বল; সবার জন্যই মৃত্যু এক অনিবার্য গন্তব্য। আর আমরা যে দুনিয়ায় বাস করি, এটি সাময়িক। এখানে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আশা-হতাশা সবই অস্থায়ী। কিন্তু মানুষ ভুলে যায় মৃত্যুর কথা, মায়ার দুনিয়ার চাকচিক্যেই সে বেশি ডুবে থাকে।

অথচ সুরা নাহলে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।’ (আয়াত : ৬১)

মৃত্যুকে ‘আলিঙ্গনের’ পর প্রত্যেকের কাছে তার চিরস্থায়ী আবাসস্থল তুলে ধরা হয়। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, মারা যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির সামনে তার মূল বাসস্থানকে তুলে ধরা হবে। সে যদি জান্নাতি হয়, তবে জান্নাতের বাসস্থান আর যদি সে জাহান্নামী হয়, তবে জাহান্নামের বাসস্থান। পরে বলা হবে, এই তোমার স্থান। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করবেন। (তিরমিজি : ১০৭২)

প্রিয়জনের মৃত্যুতে আমরা স্বভাবজাতভাবেই কষ্ট পাই। কান্না করি। তবে মা-বাবার মৃত্যুতে সন্তানদের হৃদয় ভেঙে যায়। জীবন এক প্রকারের ছায়াহীন হয়ে পড়ে। কারণ, দুনিয়াতে সন্তানের জন্য একমাত্র মা-বাবাই নিঃস্বার্থভাবে কল্যাণ কামনা করেন। তাই দুনিয়াজুড়ে মা-বাবার প্রতি প্রতিটি সন্তানেরই আলাদা টান। আলাদা মায়া। প্রত্যেকেই চান, তার মা-বাবা যেন পরপারে ভালো থাকেন। শীতল পরশে থাকেন।

মা-বাবার মৃত্যুর কথা সামনে আসতেই অনেকে জানতে চান, ‘সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবার কবরে শাস্তি হবে? সন্তান দুনিয়াতে খারাপ কাজ করলে মা-বাবা কি এর ভাগিদার হবেন?’

চলুন, এ প্রসঙ্গে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জেনে নিই—

কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ, শিশুরা তা বুঝতে অক্ষম। তাই ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই মা-বাবাকে তাদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। শৈশব থেকেই তাদের মনে পুণ্যলাভের আকাঙ্ক্ষা এবং পাপাচারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে।

সন্তানকে কখনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাপাচারের প্রতি উৎসাহিত করা যাবে না। কারণ, পৃথিবীতে কোনো মা-বাবা সন্তানকে ইসলামে নিষিদ্ধ কাজের বিষয়ে নিষেধ না করলে এবং এর ক্ষতির দিক না বুঝালে তাদের পরকালে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলছেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গ (স্ত্রী-সন্তানদের) জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। (সুরা তাহরিম : ৬)

সন্তানের পাপাচার ও অন্যায়ের দায়ভার

কোরআনের ভাষ্যমতে মা-বাবা সন্তানদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য পদক্ষেপ না নিলে সন্তানের পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্মের দায়ভার তাদেরও বহন করতে হবে। এমনকি তারা মারা যাওয়ার পরও সন্তানের গোনাহের একটা অংশ (যে কাজে জীবিত থাকাকালে তারা নিষেধ করেননি, বরং সমর্থন জানিয়েছেন) তাদের আমলনামায় জমা হতে থাকবে।

ইবনে মাজাহের এক হাদিসে হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) জানিয়েছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ ভালো কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে সে তার নিজের সওয়াবও পাবে এবং তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, তাদের সওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না। আবার কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে তার ওপর নিজের গোনাহ বর্তাবে। এ ছাড়া তার অনুসারীদের সমপরিমাণ গোনাহের অংশীদারও হবে, কিন্তু তাতে অনুসরণকারীদের গোনাহর পরিমাণ একটুও কমানো হবে না। (ইবনে মাজাহ : ২০৩)

যেসব মা-বাবার ওপরে সন্তানের পাপের শাস্তি বর্তাবে না

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লার ভাষ্য মতে, মা-বাবা যদি সন্তানকে সঠিক ইসলামি শিক্ষা দেন, তাদের পাপাচার ও গোনাহ থেকে বিরত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এবং পৃথিবীতে কখনো সন্তানকে পাপাচারের প্রতি উৎসাহ কিংবা তার কোনো মন্দ কাজে সমর্থন না দিয়ে থাকেন; এমন অবস্থার পরও যদি সন্তান পাপাচারে লিপ্ত হয়, তাহলে তার এমন কাজের জন্য মা-বাবাকে দুনিয়ার জমিনে অথবা কবরে কোনো শাস্তি ভোগ করতে হবে না।

তিনি বলেন, সন্তান যদি মা-বাবার দেখানো পথ অনুযায়ী নেক আমল করে তাহলে মা-বাবার কবরে এর সওয়াব পৌঁছাবে। এ বিষয়ে হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল বন্ধ হয় না— ১. সদকায়ে জারিয়া। ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। ৩. এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম : ৪১১৫)

সূত্র : কালবেলা

ভুলেও সঙ্গীকে বলবেন না এই ৪ কথা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
ভুলেও সঙ্গীকে বলবেন না এই ৪ কথা

‘সম্পর্ক’ শব্দটির ভেতরে লুকিয়ে থাকে বিশ্বাস, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্মান। কোনো সম্পর্কই একদিনে গড়ে ওঠে না; সময়, যত্ন আর বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়েই সম্পর্ক ধীরে ধীরে শক্ত ভিত পায়। তবে আশ্চর্যের বিষয়, যে সম্পর্ক গড়তে বছরের পর বছর লাগে, সেটি ভেঙে যেতে পারে খুব ছোট্ট একটি ভুলের কারণে।

সম্পর্ক যতই দৃঢ় হোক না কেন, এটি ভীষণ সংবেদনশীল। অনেক সময় বিচ্ছেদ না ঘটলেও কিছু কথার কারণে সম্পর্কে নেগেটিভ প্রভাব পড়ে, যা ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করে। তাই সম্পর্ক ভালো রাখতে হলে যেমন ভালোবাসা প্রকাশ করা জরুরি, তেমনি কিছু কথা একেবারেই এড়িয়ে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জানুন, এমন ৪টি কথা যেগুলো ভুলেও সঙ্গীকে বলা উচিত নয়।

১. ‘তোমাকে জীবনসঙ্গী ভেবে ভুল করেছি’

রাগের মাথায় বলা এই একটি বাক্য সঙ্গীর মনে গভীর আঘাত দিতে পারে। ঝগড়ার সময় অনেক কিছুই বলা হয়, কিন্তু সম্পর্ক নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। পরবর্তীতে সব ঠিক হয়ে গেলেও এই কথার রেশ থেকে যায়। এতে সম্পর্কের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আপনার প্রতি সঙ্গীর বিশ্বাস নষ্ট হতে পারে।

২. সঙ্গীর আর্থিক অবস্থা নিয়ে খোঁটা দেওয়া

সব মানুষ এক রকম আর্থিক অবস্থায় থাকে না, এটাই বাস্তবতা। আপনি বেশি আয় করেন, সঙ্গী কম; এটা কখনওই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বিষয় হতে পারে না। অর্থ নিয়ে ঠাট্টা বা অপমান করলে তা সরাসরি আত্মসম্মানে আঘাত করে। এতে সঙ্গীর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আপনি কি সত্যিই এই সম্পর্কে সন্তুষ্ট? এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

৩. পরিবার বা বন্ধুদের অপমান করা

প্রত্যেক মানুষের জীবনে পরিবার ও বন্ধুদের আলাদা গুরুত্ব থাকে। তারা যেমনই হোক, তারা সঙ্গীর আপনজন। তাদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করলে আপনি নিজেই সঙ্গীর চোখে ছোট হয়ে যাবেন। এতে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরি হয় এবং মনের ভেতর জমে ওঠে ক্ষোভ।

৪. সঙ্গীর দুর্বলতা নিয়ে মজা করা

মানুষ মাত্রই কোনো না কোনো দুর্বলতা থাকে। অনেকেই ছোট ছোট বিষয় নিয়েও হীনমন্যতায় ভোগেন। সেই জায়গাগুলো নিয়ে হাসিঠাট্টা করলে তা গভীরভাবে কষ্ট দেয়। এতে সঙ্গীর আত্মবিশ্বাস কমে যায়। বরং তার দুর্বলতা বুঝে পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত আপনার দায়িত্ব। ভালোবাসা মানে শুধু আনন্দ ভাগাভাগি নয়, বরং কঠিন জায়গায় ভরসা হয়ে দাঁড়ানোও।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য বড় কোনো ত্যাগ সব সময় প্রয়োজন হয় না; বরং ছোট ছোট সচেতনতা, সংযম আর সম্মানই পারে একটি সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করতে। মনে রাখবেন, ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি কী বলা উচিত নয়; এটা জানাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

তরুণদের মাঝে বাড়ছে কোলন ক্যানসার, নিয়ন্ত্রণের ৫ উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
তরুণদের মাঝে বাড়ছে কোলন ক্যানসার, নিয়ন্ত্রণের ৫ উপায়

কোলন ক্যানসার একসময় ছিল বয়স্কদের রোগ। বয়স পঞ্চাশ পার হলেই এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেত, চিকিৎসকরাও তাই মূলত বয়স্কদের ক্ষেত্রেই কোলন ক্যানসারের আশঙ্কার কথা বলতেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চিত্রটি দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যেই বাড়ছে এ ক্যানসার। মাত্র ত্রিশ বা চল্লিশের কোঠায় পা দিতেই অনেক তরুণ এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন!

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের মধ্যে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি ১৯৫০ সালের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে নতুন করে কোলন ক্যানসার আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় ১৯ লাখ মানুষ, একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ লাখ ৩০ হাজার জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগামী দুই দশকে যদি জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন না আসে, তবে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতি বছর নতুন করে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩২ লাখে, আর মৃত্যু হতে পারে ১৬ লাখ মানুষের। তবে আশার খবর হলো, কিছু নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকি কমিয়ে আনলে কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা অনেকটাই হ্রাস করা সম্ভব।

চলুন, জেনে নিই নিয়ন্ত্রণযোগ্য সেই ঝুঁকিগুলো

১. অ্যালকোহল সেবন

মদ্যপান অন্তত সাত ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, এর মধ্যে কোলন ক্যানসারও রয়েছে। দীর্ঘদিন অ্যালকোহল খেলে ঝুঁকি ৩০ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে যে কোনো ধরনের অ্যালকোহল পান বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।

২ . ধূমপান

তামাক ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ২৫ শতাংশ ক্যানসারজনিত মৃত্যুর জন্য দায়ী। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং ও সহায়তা নেওয়া এর সমাধান।

৩. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা

অতিরিক্ত ওজন শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, এটি ক্যানসারের অন্যতম বড় ঝুঁকি। স্থূলতা শরীরে প্রদাহ, কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং রক্তনালীর গঠনে প্রভাব ফেলে যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন কমানো।

৪. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

লাল মাংস (গরু, খাসি, শুকর ইত্যাদি) ও প্রক্রিয়াজাত মাংস (হটডগ, সসেজ ইত্যাদি) দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া উচ্চ তাপে ভাজা বা গ্রিল করা মাংসও ক্ষতিকর। অন্যদিকে শাকসবজি, ফল, আঁশযুক্ত শস্য বেশি খাওয়া এবং লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করাই এ সমস্যা সমাধান করতে পারে।

৫. অলস জীবনযাপন

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা কোলন ক্যানসারের বড় কারণ। নিয়মিত ব্যায়াম করলে এ ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করা। হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সিঁড়ি ব্যবহার করাও কার্যকর।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়