খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

“তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়—”
গ্রামবাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, জীবনসংগ্রাম আর চিরচেনা আবহকে যিনি সাহিত্যে অমর করে তুলেছিলেন, সেই পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ফরিদপুরে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে ফরিদপুর শহরতলীর কুমার নদীর তীরে অম্বিকাপুরে কবির সমাধিস্থল ঘিরে ছিল উৎসবমুখর ও শ্রদ্ধাবিহ্বল পরিবেশ। জেলা প্রশাসন, জসীমউদ্দীন ফাউন্ডেশন, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় এই কালজয়ী কবিকে।

ফুলেল শ্রদ্ধা, মিলাদ ও আলোচনা সভা:

সকাল সাড়ে ১০টায় কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর জসীমউদ্দীন ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর প্রেসক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে কবির আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে কবির জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা।

বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি ও বক্তব্য:

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর এম এ সামাদ, ফরিদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলনসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, পল্লী কবি জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে গ্রামবাংলার প্রাণকে ভাষা দিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান ও গল্পে ফুটে উঠেছে কৃষক, জেলে, রাখাল, মাঝি ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম। তিনি কেবল কবি নন, তিনি গ্রামবাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল।

জেলা প্রশাসক বলেন, “জসীমউদ্দীনের সাহিত্য আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। নতুন প্রজন্মকে তাঁর সাহিত্য পড়ার সুযোগ করে দিতে হলে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তাঁকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

জন্ম ও শিক্ষাজীবন:

পল্লী কবি জসীমউদ্দীন জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে, নানার বাড়িতে। তাঁর পিতার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা, যিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মায়ের নাম আমিনা খাতুন, যিনি রাঙাছুট নামেও পরিচিত ছিলেন।

শৈশব থেকেই গ্রামীণ পরিবেশ, লোকসংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপন কবির মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরে ফরিদপুর জেলা স্কুলে (বর্তমানে ফরিদপুর জিলা স্কুল) পড়াশোনা করেন। ১৯২১ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ে ভর্তি হন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯২৯ সালে বিএ এবং ১৯৩১ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনে বাংলা লোকসাহিত্য ও পল্লীজীবন নিয়ে গবেষণার প্রবণতা পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর ছাপ ফেলেছে।

দাম্পত্য জীবন ও পরিবার:

জসীমউদ্দীন ১৯৩৯ সালে মমতাজ বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সংসারে তিন পুত্র সন্তান—ড. জামাল আনোয়ার, খুরশিদ আনোয়ার ও আনোয়ার হাসু। পারিবারিক জীবনে কবি ছিলেন সাদাসিধে ও গ্রামঘেঁষা মানুষ।

সাহিত্যকর্ম ও অবদান:

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের সাহিত্যকর্ম মূলত গ্রামবাংলার মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাঁর লেখায় প্রেম, বিরহ, দারিদ্র্য, সংগ্রাম ও মানবিক বোধ একাকার হয়ে গেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে—
নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর, মাঠের রাখাল, জেলে নৌকা প্রভৃতি।

‘নকশী কাঁথার মাঠ’ ও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ বাংলা সাহিত্যে গ্রামবাংলার করুণ প্রেমকাহিনির অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। তাঁর অনেক কবিতা ও গান পরবর্তীতে লোকসংগীতের অংশ হয়ে যায়, যা আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার:

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের অবসান ঘটে ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তাঁকে ফরিদপুর শহরতলীর অম্বিকাপুরে সমাধিস্থ করা হয়।
আজও তাঁর সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। গবেষকরা মনে করেন, জসীমউদ্দীন না থাকলে গ্রামবাংলার মানুষের জীবন ও অনুভূতির এমন নিখুঁত সাহিত্যিক দলিল হয়তো আমরা পেতাম না।

নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান:

জন্মবার্ষিকীর আলোচনায় বক্তারা নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান—জসীমউদ্দীনের সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে গ্রামবাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে জানার ও ধারণ করার জন্য।

দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও গভীর আবেগে স্মরণ করা হয় পল্লী কবি জসীমউদ্দীনকে—যিনি গ্রামবাংলার মানুষের হৃদয়ের কবি হয়ে আজও অমর।

ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ২০ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০।

বুধবার (১০ জুন) গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত গভীর রাতে মধুখালী উপজেলার বেল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ মনির হোসেন ওরফে রুবেল (২৬) ও আমির হোসেন (২৪) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের থেকে উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর আগে সোমবার (৮ জুন) দিবাগত গভীর রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে আরো সাড়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল (২৭) ও রাশেদুল ইসলাম (২৬) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার উত্তর মিলনপুর এলাকায় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার চারজনই একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুর, মাগুরা ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বিভিন্ন মহাসড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযানের কারণে বড় বড় চালান জব্দ হচ্ছে।

র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এটি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। মাদক নির্মূলে র‌্যাব জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের বুধবার (১০ জুন) আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানা।

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় দেন।

এর আগে বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

মামলাটিতে বাদীপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর আসামিরা সাফাই সাক্ষ্য দেন।

মামলাটিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনও শেষ হয়।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়।

তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাদের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এ মামলায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতে নাসির ও তামিমা অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষ।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ মামলাটির বিচার চলবে বলে আদেশ দেন। এরপর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।