খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঠান্ডায় মাংসপেশির ব্যথা: কারণ, করণীয় ও প্রতিরোধের উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
ঠান্ডায় মাংসপেশির ব্যথা: কারণ, করণীয় ও প্রতিরোধের উপায়

অনেক মানুষ ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশিতে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করেন। এর পেছনে ঠান্ডা তাপমাত্রার প্রভাব থাকতে পারে। ঠান্ডায় শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলে মাংসপেশি শক্ত বা টানটান হয়ে যায়, যার ফলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

ঠান্ডা আবহাওয়া মাংসপেশির আঘাতের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে, আবার ব্যথা অনুভব করার ধরনকেও প্রভাবিত করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন এবং পুরোপুরি নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।

চলুন জেনে ‍নিই ঠান্ডা আবহাওয়ায় কেন মাংসপেশির ব্যথা বাড়তে পারে, কীভাবে তা কমানো যায় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়।

ঠান্ডা আবহাওয়া কি মাংসপেশির ব্যথার কারণ হতে পারে?
সম্ভবত ঠান্ডা আবহাওয়া মাংসপেশির ব্যথা বা আঘাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণা এখনো চলমান।

যাদের আগে থেকেই মাংসপেশির ব্যথা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা আবহাওয়ায় ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে কিছু দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।

উদাহরণ হিসেবে, ফাইব্রোমায়ালজিয়া নামের একটি রোগে সারা শরীরজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে মাংসপেশির ব্যথা থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগে আক্রান্ত কিছু মানুষ ঠান্ডা তাপমাত্রাকে শারীরিকভাবে কষ্টদায়ক মনে করেন, যা তাদের ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।

তবে এর মানে এই নয় যে, ঠান্ডায় মাংসপেশির ব্যথা হলেই কারও দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে। এর পেছনে আরও নানা কারণ থাকতে পারে।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় কেন মাংসপেশিতে ব্যথা হয়?
ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মাংসপেশির ব্যথার সম্পর্ক নিয়ে কয়েকটি ব্যাখ্যা রয়েছে—

মাংসপেশির টান : ঠান্ডায় মাংসপেশি ও টেন্ডন শক্ত হয়ে যায়। শরীর গরম রাখার জন্য অনেক সময় কাঁপুনি শুরু হয়, যা মাংসপেশির বারবার সংকোচন ও প্রসারণ ঘটায়। দীর্ঘ সময় ঠান্ডায় থাকলে এতে ব্যথা হতে পারে।

আঘাতের ঝুঁকি : ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশির শক্তি, নমনীয়তা ও সহনশীলতা কমে যেতে পারে। ফলে শারীরিক কাজ বা ব্যায়ামের সময় আঘাত লাগার সম্ভাবনা বাড়ে।

ব্যথা অনুভবের পরিবর্তন : ঠান্ডা তাপমাত্রা ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা বা সহনশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ুর প্রদাহও বাড়তে পারে।

জীবনযাপনের পরিবর্তন : ঠান্ডায় অনেক মানুষ কম নড়াচড়া করেন। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে মাংসপেশি শক্ত বা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশির ব্যথা কি স্বাভাবিক?
এটি কতটা সাধারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। কারণ ঠান্ডা আবহাওয়া সরাসরি ব্যথার কারণ—এমন প্রমাণ এখনো পুরোপুরি নেই।

তবে অনেক মানুষের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ঠান্ডায় মাংসপেশির ব্যথা বাড়ে। ব্যথা যদি হঠাৎ শুরু হয়, খুব তীব্র হয়, বা দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা তৈরি করে, তাহলে এটি অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশির ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
এই উপায়গুলো ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে মূল রোগ থাকলে তা সারায় না।

শরীর গরম রাখা: শরীরের মূল অংশ (বুক, পেট) উষ্ণ রাখলে মাংসপেশি শিথিল হতে সাহায্য করে।

নির্দিষ্ট স্থানে তাপ দেওয়া: ব্যথাযুক্ত স্থানে গরম সেঁক, হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিট প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

হালকা স্ট্রেচিং: আস্তে আস্তে স্ট্রেচ করলে শক্ত মাংসপেশি ঢিলা হতে পারে। তবে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ম্যাসাজ: ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং মাংসপেশি আরাম পায়। ঘরেও সহজ ম্যাসাজ করা যায়।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশির ব্যথা প্রতিরোধের উপায়
যদি ঠান্ডা আবহাওয়াই ব্যথার মূল কারণ হয়, তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজেকে উষ্ণ রাখা।

কিছু কার্যকর পরামর্শ

– ঘর যতটা সম্ভব উষ্ণ রাখা

– ঠান্ডা বাতাস ঢোকে এমন ফাঁক বন্ধ করা

– একসাথে অনেক মোটা কাপড় না পরে, ঢিলেঢালা কয়েক স্তরের কাপড় পরা

– বাইরে গেলে গরম কোট, জ্যাকেট ও বুট পরা

– ঘরে মোজা ও স্লিপার ব্যবহার করা

– টুপি, মাফলার ও গ্লাভস দিয়ে খোলা অংশ ঢেকে রাখা

– খুব ঠান্ডা বা ঝোড়ো আবহাওয়ায় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা

– পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া, যাতে শরীর শক্তি পায়

বাইরে ব্যায়াম করলে

– ব্যায়ামের আগে ভালোভাবে ওয়ার্ম-আপ করা

– ঘাম শোষণ করে এমন কাপড় পরা

– ঘাম হলে দ্রুত ভেজা কাপড় বদলানো

– পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া, কারণ ঠান্ডায় শরীর বেশি শক্তি খরচ করে

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
মাংসপেশির ব্যথা যদি নিজে নিজে না কমে, খুব তীব্র হয় বা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা দেয়। বমেন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। ঠান্ডা ছাড়াও মাংসপেশির ব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে, যা সঠিকভাবে শনাক্ত করা জরুরি।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশির ব্যথা অনেক মানুষের জন্য একটি পরিচিত সমস্যা। এর পেছনে মাংসপেশির টান, কম নড়াচড়া, ব্যথা অনুভবের পরিবর্তনসহ নানা কারণ থাকতে পারে। যদিও এটি সবসময় গুরুতর কিছু নয়, তবুও ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হলে অবহেলা করা ঠিক নয়। নিজেকে উষ্ণ রাখা, নিয়মিত হালকা নড়াচড়া করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশির ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সূত্র : Medical News Today

ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, বিষ্ণুদিয়া ও ভবানীপুর তিন গ্রামের সীমানা সংলগ্ন একটি বিলের মাঝখানে বাগান থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম রঞ্জিত সরকার (৬০)। তিনি কোতোয়ালি থানার বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মৃত রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরবর্তীতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে ভবানীপুর গ্রামের এক কৃষক জমিতে কাজ করার সময় বাগানের ভেতরে একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি রঞ্জিত সরকারের বলে শনাক্ত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার পরিবারকে অবহিত করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ক্রাইম সিন ইউনিটকে অবহিত করেন। পরে ক্রাইম সিন টিমের উপস্থিতিতে মরদেহটি গাছ থেকে নামানো হয় এবং প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কোতোয়ালি থানার এসআই নূর হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ফরিদপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইচগেট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটির পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছিল। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ বাড়ছিল স্থানীয়দের। খালটি পুনঃখনন করা হলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমে ফলন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাটির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধন উপলক্ষে গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “খাল পুনঃখননের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জায় সাহা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী-মধুখালী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ এবং বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঞ্চিত জনগণ: ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঞ্চিত জনগণ: ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর অঞ্চলের উদ্যোগে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর শহরের মুসলিম মিশন প্রাঙ্গণে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমির মোহাম্মদ বদর উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। এসময় ফরিদপুরসহ আশপাশের পাঁচ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত ছিল। অনেকেই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি; সত্য কথা বলায় অনেকে হয়রানি, গ্রেপ্তার কিংবা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তারা দাবি করেন, জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও উল্লেখ করেন বক্তারা।

সম্মেলনে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বিদ্যুৎ সংকট ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, অঞ্চল প্রধান শামসুল ইসলাম আল বরাটি, জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং জেলা নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।