খুঁজুন
, ,

চায়না দুয়ারি নিয়ে প্রতিবেদন, ফরিদপুরে সাঁড়াশি অভিযানে নামল মৎস্য বিভাগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
চায়না দুয়ারি নিয়ে প্রতিবেদন, ফরিদপুরে সাঁড়াশি অভিযানে নামল মৎস্য বিভাগ

ফরিদপুরের নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারির অবাধ ব্যবহারে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে—এমন চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসেছে মৎস্য বিভাগ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জেলার সদর, সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও আলফাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন উপজেলায় নদী-খালজুড়ে চায়না দুয়ারির বিস্তার, দেশীয় মাছের প্রজননে এর মারাত্মক প্রভাব এবং স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে মৎস্য বিভাগের দৃশ্যমান অভিযান নিয়ে প্রশ্নও তোলা হয়েছিল।

এর পরপরই আলফাডাঙ্গা, সালথা, মধুখালী ও ভাঙ্গা উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা এলাকা সংলগ্ন মধুমতি নদীতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত নূর মৌসুমী। অভিযানে প্রায় ৩৭০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

একই দিনে ভাঙ্গা উপজেলার জানদী চক বিলে অভিযান চালিয়ে ২২টি নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল জব্দ ও ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত জালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ মিটার এবং এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের কুষ্টিয়ার চক ও মালঞ্চ নদীতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ অভিযানে ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৩৫টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জব্দ করা হয়। প্রায় ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিন।

তিনি বলেন, “চায়না দুয়ারি আমাদের মৎস্যসম্পদের নীরব ঘাতক। ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, রেণুপোনা, এমনকি জলজ জীববৈচিত্র্যও এ ফাঁদের কারণে ধ্বংস হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

একই দিনে মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের গাড়িদহ নদীর চার খালের মাথায় উপজেলা মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযানে প্রায় দুই মণ ওজনের কয়েকটি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ও মাছ আটকে রাখার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মধুখালী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস বলেন, “বর্ষাকাল দেশীয় মাছের প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয়। তাই জনসচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযানও অব্যাহত থাকবে।”

এছাড়া সদর, নগরকান্দা, চরভদ্রাসন, সদরপুরেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য বিভাগ।

ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ফাঁদ অপসারণ করা হচ্ছে। দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ফরিদপুরের নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, সাম্প্রতিক এসব অভিযান ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু অভিযান নয়, চায়না দুয়ারি উৎপাদন ও সরবরাহের উৎস বন্ধ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই ফরিদপুরের নদী-খাল ও বিলে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাট ধোয়ার সময় পুকুরে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাট ধোয়ার সময় পুকুরে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় পাট ধোয়ার সময় পুকুরে পড়ে আলামিন শেখ (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকালে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের রেনিনগর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলামিন ওই গ্রামের শামসুল শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আলামিন শেখ বাড়ির পাশের পুকুরে পাট ধোয়ার কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে মাথায় থাকা পাটের বোঝা পুকুরপাড়ে নামানোর সময় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে অচেতন হয়ে যান। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আলামিন দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পানিতে পড়ে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল মোল্লাসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তি মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

সালথায় ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরের সালথায় মো. আক্কাস মাতুব্বর (৪৮) নামে এক ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও দেড় বছর আগে জোর করে তাকে দিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে ভিডিওটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্য আক্কাস। এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আক্কাসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

আক্কাস মাতুব্বর সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি একই ইউনিয়নের গৌড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি টিনের ঘরের খাটের ওপর খালি গায়ে বসে সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন জ্বালিয়ে তিনি ইয়াবা সেবন করছেন। এ সময় তার সামনে বসে থাকা অপর এক অজ্ঞাত ব্যক্তির পা দেখা যায়। ধারনা করা হচ্ছে- তিনিই ভিডিওটি ধারণ করেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আক্কাস মাতুব্বর বলেন, ভিডিওটি প্রায় দেড় বছর আগের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাশ্ববর্তী জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের হুগলাকান্দি এলাকায় তাকে কয়েকজন ব্যক্তি আটকে রেখে হয়রানি করেন। এ সময় জোরপূর্বক তার হাতে ইয়াবা দিয়ে সেবন করানো হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। তবে কারা তাকে আটকে রেখেছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নজরে আসার পর ওই ইউপি সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুরে পূবালী ব্যাংক পিএলসির হাট কৃষ্ণপুর উপ-শাখার উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। “লেনদেন হবে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কৃষ্ণপুর বাজারে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের হাট কৃষ্ণপুর উপ-শাখার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ব্যাংকের উপ-শাখা কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হাট কৃষ্ণপুর উপ-শাখার ব্যবস্থাপক মো. আল-আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির সদরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. শাহাদাত হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী আবুল কাইয়ুম হিরু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কোরমান আলী কুটি, মোকাদ্দেস ফকিরসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, গ্রাহক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিকতায় ক্যাশলেস লেনদেন সময় সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের মোবাইল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক লেনদেনে উৎসাহিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।