খুঁজুন
, ,

মন ভালো রাখতে বিজ্ঞানসম্মত ৯ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
মন ভালো রাখতে বিজ্ঞানসম্মত ৯ উপায়

প্রতিটি দিন শুরু মানেই নতুন করে ভাবার সুযোগ। আগের দিনের দুশ্চিন্তা, চাপ আর হতাশা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকে সবারই। কিন্তু শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই যে মন ভালো থাকবে, তা নয়। ভালো খবর হলো, বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে কিছু বাস্তব ও কার্যকর উপায়, যেগুলো অনুসরণ করলে মানসিক সুস্থতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।

রাগকে কাজে লাগানো থেকে শুরু করে গান গাওয়া বা ছোট্ট ঘুম—এমনই ৯টি বিজ্ঞানসম্মত উপায় তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে আরও ভালো অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো।

নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা বন্ধ করুন
অনেকেই মনে করেন সবকিছু নিখুঁতভাবে করা ভালো গুণ। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত পারফেকশনিস্ট হওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, নিখুঁত হওয়ার চাপ থেকে হতাশা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

পারফেকশনিস্ট মানুষ নিজের জন্য অবাস্তব মানদণ্ড ঠিক করে এবং তা পূরণ না হলে নিজেকেই দোষ দেয়। এর ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। ভুল করলে নিজেকে ছোট না করে বরং বোঝার চেষ্টা করুন যে ভুল মানুষমাত্রই করে। পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে ভুল করাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়।

বন্ধুত্ব আরও শক্ত করুন
ভালো বন্ধুত্ব শুধু মন ভালো রাখে না, শরীরকেও সুস্থ রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো বন্ধু থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং আয়ু বাড়ে।

তবে শুধু বন্ধু থাকা নয়, আপনি কেমন বন্ধু, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারও সুখের খবরে আন্তরিক আনন্দ প্রকাশ করুন, তার সাফল্য উদযাপন করুন। এতে সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং দুজনেরই মন ভালো থাকে।

সামাজিক কোনো শখ শুরু করুন
নতুন শখ শুরু করার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। ছবি আঁকা, গান শেখা, নাটক, খেলাধুলা বা কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া—এসব কাজ মানসিক চাপ কমায়।

দলগত খেলাধুলা বা গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি বিশেষভাবে উপকারী। একসঙ্গে কাজ করার ফলে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয় এবং একাকিত্ব কমে।

রাগকে ভালো কাজে লাগান
রাগ সাধারণত নেতিবাচক মনে হলেও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি শক্তিতে পরিণত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাগ চেপে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

বরং রাগ এলে তা কাজে লাগান—দৌড়ানো, ব্যায়াম, খেলাধুলা বা সৃজনশীল কাজে। তবে রাগ যেন কারও ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে একটু সময় নিন।

কৃতজ্ঞতার তালিকা লিখুন
প্রতিদিন তিনটি ভালো ঘটনার কথা লিখে রাখার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যে দারুণ প্রভাব ফেলে— এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

দিনের শেষে ছোট হলেও ভালো তিনটি বিষয় লিখুন এবং ভাবুন—কেন সেগুলো আপনাকে ভালো লাগিয়েছে। এতে ধীরে ধীরে মন ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নিতে শেখে।

ফোনকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করুন
আমাদের অনেকেরই দিনে অগণিতবার ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস আছে। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার মনোযোগ ও ঘুমের ক্ষতি করতে পারে।

তবে ফোনের ভালো ব্যবহারও আছে। নোট নেওয়া, কাজের তালিকা তৈরি করা বা রিমাইন্ডার সেট করা মস্তিষ্কের চাপ কমায়। নোটিফিকেশন একসঙ্গে পাওয়ার সেটিং ব্যবহার করলে মনোযোগ নষ্ট কম হয়। চাইলে কিছু সময় ফোন অন্য ঘরে রেখে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শীতের অন্ধকার দিনগুলোকে গ্রহণ করুন
শীতে দিনের আলো কমে যাওয়ায় অনেকের মন খারাপ থাকে। তবে গবেষণা বলছে, শীতের ভালো দিকগুলো দেখার চেষ্টা করলে মন ভালো থাকে।

শীতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘরোয়া সময়, প্রিয় সিনেমা; এসব উপভোগ করার মানসিকতা গড়ে তুলুন। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই শীতে একে অন্যের কাছাকাছি থাকতে চায়।

মন ভালো করতে গান গান
একাই হোক বা দল বেঁধে গান গাওয়া মানসিক চাপ কমায়। গান গাওয়ার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে কাজ করে, যা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।

গান গাওয়া হৃদযন্ত্র ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ব্যথাও কমাতে পারে। এটি এক ধরনের হালকা ব্যায়ামও বটে। তাই বাথরুমে হোক বা রান্নাঘরে—মন চাইলে গান গাইতেই পারেন।

অল্প সময়ের ঘুম নিন
অনেক দেশে দুপুরে অল্প ঘুম নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫-১৫ মিনিটের ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ করে এবং কাজের দক্ষতা বাড়ায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে—২০ মিনিটের বেশি ঘুমালে মাথা ভার লাগতে পারে। সবচেয়ে ভালো সময় দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে।

ভালো থাকার জন্য বড় কোনো পরিবর্তন দরকার হয় না। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসই পারে আমাদের মন ও শরীর সুস্থ রাখতে। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া, কৃতজ্ঞতা চর্চা করা কিংবা একটু গান গাওয়া—এসব সহজ কাজই ২০২৬ সালকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। মনে রাখবেন, ভালো থাকা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি একটি প্রয়োজন। আজ থেকেই ছোট একটি পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন।

সূত্র : BBC

 

ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফরিদপুরে অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং অনুমোদন (লাইসেন্স) ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল এবং কোথাও কোথাও গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও মানদণ্ড লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, রোগীদের বেডে প্রয়োজনীয় মনিটরের অভাব, ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ত্রুটি দেখতে পান কর্মকর্তারা।

এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমসহ পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ওই অস্ত্রোপচারে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন,“যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন ও সহকারী অধ্যাপক। তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা তাঁর উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তের আলোকে তাঁর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
সালথায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মিরাজ শেখ (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মিরাজ ওই গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের জমিতে ধৌত করা পাটের গাইট মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিল মিরাজ। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বজ্রপাতে মিরাজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে বা উন্মুক্ত স্থানে কাজ করার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে ৯টা ছুঁইছুঁই। বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি। ফরিদপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মিটমিট করে জ্বলছে ডিম লাইটের ক্ষীণ আলো। দূরে কোথাও ট্রেনের হুইসেল মিলিয়ে যায় রাতের নিস্তব্ধতায়। একটি কুকুর ধীরে ধীরে পাশ ঘেঁষে চলে যায়। চারপাশে মানুষের আনাগোনা কমে এসেছে, অথচ একজন মানুষ তখনও জেগে আছে—না, চোখে নয়; জীবনের কঠিন বাস্তবতায়।

প্ল্যাটফর্মের এক কোণে মাটিতে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। গায়ে একটি পুরোনো শাড়ি। মাথার নিচে ছোট্ট কাপড়ের বালিশ। পাশে একটি পোটলা—হয়তো এটাই তার সমস্ত সম্বল। একজোড়া পুরোনো স্যান্ডেল, একটি লাঠি, আর একটি প্লাস্টিকের গামলায় রাখা পানির বোতল ও কিছু সামান্য জিনিসপত্র। মনে হয়, এই অল্প কয়েকটি জিনিসই তার পুরো পৃথিবী।

বয়স হয়তো ষাট পেরিয়েছে। মুখে সময়ের নির্মম আঁচড়, শরীরে ক্লান্তির ছাপ। সারাদিন তিনি কী খেয়েছেন, আদৌ খেতে পেরেছেন কি না—সেই খবর রাখার মানুষ হয়তো আর কেউ নেই। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ, অপেক্ষায় নেই কোনো আপনজন। দিনের শেষে তার ঠিকানা এই রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, আর আকাশটাই যেন তার একমাত্র ছাদ।

হয়তো একদিন তারও ছিল একটি সংসার। ছিল সন্তানের মুখ, ছিল হাসি-আনন্দে ভরা উঠোন। সময়ের নির্মম স্রোতে হারিয়ে গেছে সব। আজ তিনি সমাজের হাজারো ব্যস্ত মানুষের চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য এক মানুষ। শত শত যাত্রী তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু খুব কম মানুষই থেমে জানতে চায়—“মা, আপনি কেমন আছেন?”

সভ্যতার অগ্রগতির গল্প আমরা প্রতিদিন বলি। উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করি। অথচ একটি অসহায় বৃদ্ধা যখন রেলস্টেশনের খোলা প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টির রাতে ঘুমিয়ে থাকেন, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের উন্নয়নের আলো কি তার কাছে পৌঁছেছে?

হয়তো এই বৃদ্ধা কোনো খবরের শিরোনাম হবেন না। কিন্তু তার নীরব ঘুম, তার পাশে পড়ে থাকা লাঠি আর ছোট্ট পোটলাটি আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতীক। মানবিকতার পরীক্ষা বড় বড় মঞ্চে নয়, এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই।

হয়তো একটি উষ্ণ খাবার, একটি শুকনো কম্বল, একটু চিকিৎসা কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়—এসবই বদলে দিতে পারে তার আগামী সকাল। কারণ, প্রতিটি মানুষেরই সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, আমাদের সবার।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর