খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন—কী বার্তা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ?

অমিতাভ ভট্টশালী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ এএম
দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন—কী বার্তা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ?

ভারতের দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় গত শনিবার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দুই সাবেক মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পরে আগামী শুক্রবার ২৩শে জানুয়ারি দলটির আরও দুজন সাবেক মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। তবে দুটি অনুষ্ঠানের কোনোটিই বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠান ছিল না।

দুটি ভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছে এসব সংবাদ সম্মেলনের।

গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে হাজির ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আগামী শুক্রবারের আলোচনা সভায় আবারও মি. নওফেলের হাজির থাকার কথা আছে, সঙ্গে থাকার কথা আরেক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী আরাফাতের।

দিল্লির প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিই ছিল ২০২৪ এর পাঁচই অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। তবে দলটির অনেকে নেতাই ভারতীয় গণমাধ্যমকে নানা ভাবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন গত দেড় বছরের বেশি সময়ে।

যদিও অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, মি. হাছান মাহমুদ এবং মি. চৌধুরী কেউই আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেননি।

“বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি যে নিরপেক্ষ নয়, সেটা তুলে ধরতেই ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম। মি. মাহমুদ আর মি. চৌধুরীরা সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে আসেননি, ওই প্রতিবেদনটি যে একতরফা ভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেটার জবাব দিতেই এসেছিলেন তারা,” বলছিলেন মি. মজুমদার।

তবে এই বিষয়ে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনটি প্রথম নয়। মি. মজুমদার জানাচ্ছিলেন যে, এ নিয়ে তারা প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন জেনেভাতে। সেখানেই প্রথম বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন তারা।

ভলকার রিপোর্টের ‘জবাব’

দিল্লিতে গত শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি যে সংবাদ সম্মেলন হয়, সেটির আয়োজক ছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা আইসিএফআর নামে একটি সংগঠন ও লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছিল, তার একটি ‘রিব্যুটাল’ বা জবাবি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইসিএফআর নামে সংগঠনটি।

ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন যারা, তাদের অন্যতম হলেন লন্ডনভিত্তিক ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “এ বিষয়ে আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি করেছিলাম জেনেভাতে। আমরা চাইছিলাম দিল্লির গণমাধ্যমের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরতে। আওয়ামী লীগের যে দুজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন, তাদের নাম দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেই আমি জানি।

“এখানে যেহেতু জাতি সংঘের ব্যাপার আছে, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্বন্ধে যিনি অবগত, সেই হাছান মাহমুদ ছিলেন আর মি. নওফেল নিজে যেহেতু ব্যারিস্টার, তাই আইন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি হাজির ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। তারা কিন্তু আওয়ামী লীগ হিসাবে আসেননি,” জানাচ্ছিলেন মি. মজুমদার।

ওই সংবাদ সম্মেলনে হাজির থাকা বাংলাদেশের অন্যতম সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের প্রতিবেদন যে একপেশে ছিল নিরপেক্ষতাবিহীন ছিল, সেটা খুঁজে বার করেছে আইনজীবীদের একটি টিম। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে আমাদের সরকার পক্ষের বক্তব্যই তো ছিল না। অথচ তার ভিত্তিতে বিচার হয়ে গেল, মৃত্যুদন্ডও দেওয়া হয়ে গেল।

“এই বিষয়গুলি গণমাধ্যমের সামনে আনার দরকার ছিল। জেনেভা, ব্রাসেলস আর লন্ডনে ইতোমধ্যেই সেখানকার গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়। আমি আইনজীবী হিসাবে সেখানে হাজির ছিলাম,” বলছিলেন মি. চৌধুরী।

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে নির্বাচনের আগে তাদের দেশের মানুষের কাছে কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতেই কি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বা এই সপ্তাহে আরও একবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন তারা?

জবাবে তিনি বলেন, “এই যে নির্বাচন হতে চলেছে, এটা তো ইলেকশন নয়, সিলেকশন। তবে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ওই তথাকথিত নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।”

তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দুজন সাবেক মন্ত্রী সশরীরে ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলে যে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন আসবেই, তাও আয়োজকরা জানতেন এবং এর জন্য প্রস্তুতও ছিলেন।

ভারতের অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের গণমাধ্যমই সব থেকে উপযুক্ত, তাই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা কি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন?

আগামী শুক্রবার ২৩শে অগাস্ট দিল্লিতেই যে আরেকটি আলোচনা সভা হতে চলেছে, সেটির শীর্ষক ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ – বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে দিল্লিতে অবস্থিত ‘ফরেন করেসপেন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’। সেখানে সশরীরে হাজির থাকবেন অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেবেন আরেক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী আরাফত।

ওই আলোচনা সভার যে দুটি পোস্টার বিবিসি বাংলার হাতে এসেছে, তার একটিতে বড়ো করে শেখ হাসিনার ছবি দেওয়া আছে। এরকম শোনা যাচ্ছে যে শেখ হাসিনাও ওই আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি হাজির হতে পারেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেও শেখ হাসিনার যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

তা যদি হয়, তাহলে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট ভারতে চলে আসার পরে এই প্রথমবার তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন। যদিও ইংরেজি – বাংলা মিলিয়ে ভারতের অনেক সংবাদপত্র এবং সংবাদ পোর্টালকেই ইমেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

বিবিসিও ইমেইলেই তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

আবার ভার্চুয়াল মাধ্যমেই শেখ হাসিনা নিয়মিত তার দলের নেতা-কর্মীদের আলোচনা সভাগুলিতে যোগ দেন। কিন্তু সবই শুধু অডিও মাধ্যমে – ভিডিওতে নয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে কেন গুরুত্ব?

গত শনিবার যে সংবাদ সম্মেলন করা হয় ‘ভলকার রিপোর্ট’ নিয়ে, তা যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যদিও বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না, তবে তারা নিয়মিতই বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে। সেসব প্রচারে অবশ্য বিধি নিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন একটা সময়ে ‘ভলকার রিপোর্ট’ কে সামনে রেখে বা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কথা বলে পক্ষান্তরে রাজনৈতিক প্রচারই করছে আওয়ামী লীগ।

এটা তাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল বলে মন্তব্য করছিলেন প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট গৌতম লাহিড়ী।

ঘটনাচক্রে তাদের ক্লাবেই গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল এবং তিনি নিজেও হাজির ছিলেন ওই সংবাদ সম্মেলনে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, “গত শনিবারের ওই অনুষ্ঠানটি তো আওয়ামী লীগের নামে করা হয়নি, লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম এটার দায়িত্বে ছিল বলেই জানি। আবার সেখানে মানবাধিকারের বিষয়টা সামনে রাখা হয়েছিল। জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে ভলকার রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তার ত্রুটি বিচ্যুতিগুলি ভারতীয় গণমাধ্যমকে, বিশেষত ইংরেজি ভাষার পত্রপত্রিকাগুলির সামনে তারা তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন মন্ত্রীদের রাজনৈতিক প্রশ্নও করা হয়েছে।”

তার কথায়, “বাংলাদেশের মানুষ তো ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরাখবর প্রচুর পড়েন, তাই এদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে আমার মনে হয়।”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ একাধিক নেতাও এই একই কথা বলেছেন। তাদের কথায়, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজধানীতে এর আগে ভলকার রিপোর্ট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হলেও সেখানকার গণমাধ্যমের বাংলাদেশ নিয়ে অতটা আগ্রহ থাকবে না, যতটা আগ্রহ দেখাবে ভারতীয় গণমাধ্যম। আবার দিল্লির বদলে কলকাতায় হলে হয়ত আরও বেশি আগ্রহ দেখাত পত্রপত্রিকাগুলো।

কিন্তু গৌতম লাহিড়ী বলছিলেন যে সেদিনের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের টার্গেট সম্ভবত ছিল ভারতের জাতীয় গণমাধ্যম।

তিনি বলছিলেন যে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংবাদ সম্মেলন করতে ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটা তিনি জানেন না।

“আয়োজকরা আমাদের সরকারের অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না জানা নেই। তবে সরকার তো বাধা দেয় নি। যদি সরকার না চাইত তাহলে তো এ ধরনের অনুষ্ঠান করা যেত না। আমার মনে আছে, চার-পাঁচ বছর আগে যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল বিএনপির কোনো একটা বিষয়ে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। ফোন করে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল যে ওই আয়োজনটা না করতে দেওয়াই উচিত। পরে একটি হোটেলে তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।”

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প।

সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি যৌথ দল কিষাণহাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মো. আরিফ শেখকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ঘোষণা’ পত্রিকার প্রতিনিধি দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। আটক আরিফ শেখ গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরেক ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জহির মোল্যা ও আরিফ শেখ ফরিদপুরের একটি ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

 

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান (অপু ঠাকুর)-কে দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মো. হাসিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি দলীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে তদন্ত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অব্যাহতির ফলে মো. হাসিবুর রহমান এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক পদে বহাল থাকবেন না এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা থাকবে না।

এ বিষয়ে দলীয় একাধিক নেতা জানান, এনসিপি একটি শৃঙ্খলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দলের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই দলের অবস্থান।

ফরিদপুর জেলা এনসিপির রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়লেও কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী, দ্রুতই সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ করা হবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে।

এদিকে অব্যাহতির বিষয়ে মো. হাসিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন।

ভাঙ্গার চৌকিঘাটায় মৃত্যু ফাঁদ! ভেঙে পড়া ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫২ এএম
ভাঙ্গার চৌকিঘাটায় মৃত্যু ফাঁদ! ভেঙে পড়া ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা এলাকায় ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প পথ না থাকায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথ হলো এই ব্রিজটি। কয়েক মাস আগে ব্রিজের মাঝখানে ফাটল দেখা দিলে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আংশিক মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয়নি। সর্বশেষ গত শনিবার চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া সড়কের বিটুমিন ঢালাই কাজ চলাকালে রাস্তা সমান করার রোলার ব্রিজের ওপর উঠলে আবারও ব্রিজের মাঝখান ভেঙে যায়। এরপর থেকে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি বিশ্বাস বাড়ি ও শেখ বাড়ির মাঝখানে অত্যন্ত সরু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই পাশের জমি ভরাট হয়ে গেলেও ব্রিজটি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। ফলে ব্রিজটির কার্যকারিতা অনেকটাই হারিয়েছে। ব্রিজটি সরু হওয়ায় একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তার ওপর দুই পাশে কোনো রেলিং না থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত মাতুব্বর বলেন, “প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়েই আমাদের চলাচল। বাচ্চারা স্কুলে যায়, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এখন প্রাণ হাতে নিয়ে পার হতে হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?”

আরেক বাসিন্দা বাদল হোসেন জানান, “এখানে ব্রিজ না রেখে একটা কালভার্ট করা হলে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। বারবার মেরামত করে লাভ নেই।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ মালিক নাজমুল হাসান বলেন, “ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমি অবগত। আপাতত কোনো বরাদ্দ না থাকায় বড় কাজ করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন শেষ হলে বরাদ্দ পেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুতই আমি নিজে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করব।”

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্-আবু-জাহের বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। চৌকিঘাটা মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী সমাধান হিসেবে নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।