খুঁজুন
, ,

আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিটা বাঁওড়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এবং ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অর্থায়নে পাবদা, গুলশা, টেংরা ও শিং জাতের মাছের পোনা টিটা বাঁওড়ে অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক ময়েদুজ্জামান।

এসময় বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের জলজ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নানা কারণে এসব মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। টিটা বাঁওড়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস, জামায়াতে ইসলামী আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এস. এম. হাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা এস. এম. রিদওয়ানুন্নবী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম দাউদ, উপজেলা মৎস্য অফিসের সহকারী রিফাত মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে সরকারি দামে মিলছে না সার, বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সরকারি দামে মিলছে না সার, বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ করছে। সরকারি তালিকায় নির্ধারিত রয়েছে প্রতিটি সারের দামও। কিন্তু ফরিদপুরের মাঠ ও বাজারের চিত্রে সেই হিসাব যেন মিলছে না। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মূল্যের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়েই কিনতে হচ্ছে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার।

কোথাও ডিলারের কাছে সার না থাকার কথা বলা হলেও খুচরা বাজারে একই সার মিলছে বাড়তি দামে। আবার কোথাও সরকারি মূল্যের রশিদ দেওয়া হলেও এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সারের সঙ্গে অন্য কোম্পানির পণ্য কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও করেছেন কৃষকেরা।

ফলে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা শেষ পর্যন্ত কৃষকের হাতে কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরে বরাদ্দ বিবেচনায় ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের সংকট নেই। জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির মোট ১৪৪ জন সার ডিলার রয়েছেন।

সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য অনুযায়ী, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার টাকায় বিক্রি করার কথা।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ডিএপি নিয়ে। সরকারি মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও কোথাও কোথাও এক বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

মধুখালী উপজেলার জাহাপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, কয়েক দিন আগে তিনি জাহাপুর বাজার থেকে এক বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৭৫০ টাকা এবং এক বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৪৫০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।

তিনি বলেন, “সরকারি দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় সারের সঙ্গে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনের সার নিতে গেলে এসব পণ্যও ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে সারের বাড়তি দামের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনেও খরচ বাড়ছে।”

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরের কৃষক লিয়াকত শেখ বলেন, “আমরা জমিতে ফসল ফলাই, কিন্তু সার কিনতে গেলেই বাড়তি টাকার চিন্তা করতে হয়। সরকার যে দামে সার দেওয়ার কথা বলছে, সেই দামে না পেলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফসলের দাম কম হলে তখন লোকসান সামলানো কঠিন।”

সালথা উপজেলার কৃষক মহসিন ব্যাপারী বলেন, “সার ছাড়া চাষ করা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজনের সময় বেশি দাম হলেও কিনতে বাধ্য হই। আমরা চাই সরকারি দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হোক।”

বোয়ালমারীর সাতৈর এলাকার কৃষক রুস্তুম শেখের অভিযোগ, সাতৈর বাজারের মেসার্স স্বপ্ন কৃষি ভান্ডারে সার কিনতে গেলে অনেকটা জিম্মি অবস্থায় বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

শুধু কৃষকরাই নন, কয়েকজন খুচরা সার ব্যবসায়ীও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাড়তি দামে সার কেনার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে অনেক সময় বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে সার কিনতে হয়। ফলে খুচরা পর্যায়ে সরকারি মূল্যে সার বিক্রি করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলার সার নেই বলে জানালেও একই সার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কোথাও কোথাও ডিলারের কাছ থেকে সার নেওয়ার সময় কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আবার কিছু ক্ষেত্রে সরকারি মূল্যের রশিদ দেওয়া হলেও রশিদের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। এতে ডিলারের কাছ থেকে সরকারি দামে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

ডিলারদের একটি অংশ অবশ্য এসব বাড়তি দামের দায় নিজেদের ওপর নিতে নারাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলার দাবি করেন, সার উত্তোলনের সময় সরকারি রসিদের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।

তাঁদের অভিযোগ, আঞ্চলিক সার গুদাম থেকে সার উত্তোলনের সময় বস্তাপ্রতি আলাদা অর্থ নেওয়া হলেও সেই অর্থের কোনো রশিদ বা চালান দেওয়া হয় না। পরে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে সেই বাড়তি অর্থের প্রভাব পড়ে বাজারদরে।

কয়েকজন ডিলার আরও দাবি করেন, মৌসুমে চাহিদা বেড়ে গেলে যশোরের নওয়াপাড়া থেকেও সার সংগ্রহ করতে হয়। পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচের কারণে বাইরে থেকে আনা সারের দাম বেশি পড়ে।

তবে কৃষকদের প্রশ্ন, পরিবহন বা অন্য খরচ থাকলেও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কত টাকা নেওয়ার বৈধতা রয়েছে এবং সেই বাড়তি অর্থের হিসাবই বা কোথায়?

ডিলারদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে সার বিক্রি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদপুর সার ডিলারদের সংগঠন ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মিয়া (বাবু)।

তিনি বলেন, “ফরিদপুর জেলায় বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার রয়েছে। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী ডিলাররা সব ধরনের সার সংগ্রহ করছেন। জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসিসহ মোট ১৪৪ জন সার ডিলার রয়েছেন।”

তিনি বলেন, পেঁয়াজ চাষের মৌসুমে একসঙ্গে অনেক কৃষক সার ব্যবহার করায় বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অনেক কৃষক জমির প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডিএপি ব্যবহার করেন।

তবে সার সংকট নেই দাবি করে তিনি বলেন, “আমার জানামতে বর্তমানে কোনো সারের সংকট নেই।”

ডিলারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রশিদের বাইরে টাকা নেওয়া এবং সারের সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই ধরনের বিষয়ে আমি অবগত নই।”

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর সারের গুদামের উপসহকারী পরিচালক এম এ জাকির বলেন, “আমি এই বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে পারব না। আমাদের সহকারী পরিচালক কাইয়ুম মল্লিক স্যারের নিষেধ আছে। আমি শুধু মেমো কেটে দিই এবং হিসাব ঠিকঠাক রাখি।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের বিএডিসি সার বিভাগের টেপাখোলা গুদামের সহকারী পরিচালক মো. কাইয়ুম মল্লিকের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি রাজবাড়ীতে জরুরি মিটিংয়ে থাকার কথা জানান। দুপুর গড়িয়ে বিকেলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করেন।

তখন কাইয়ুম মল্লিক বলেন, “এই বিষয়টি নিয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে উপসহকারী পরিচালক এম এ জাকির সম্ভবত মিথ্যা কথা বলেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “ফরিদপুর জেলায় কোনো প্রকার সারের সংকট নেই। নিয়মিত মাঠপর্যায়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। আমাদের একাধিক কর্মকর্তা সব সময় খবরাখবর রাখছেন। কোনো ডিলার এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে বা কোনো কৃষক অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় অবস্থান করছি। এখানেও খোঁজখবর নিতে পারেন। কোনো কৃষক কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিও দেখতে পারবেন। প্রতিটি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। ডিলারদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।”

সার কেনার সময় কৃষকদের রশিদ দেওয়া এবং তাঁদের মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কৃষি বিভাগের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিংও হচ্ছে। সার ডিলার সমিতিও সংকটের কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকের অভিযোগ, খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এবং কয়েকজন ডিলারের দেওয়া তথ্য—সব মিলিয়ে সরকারি দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগটি নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশেষ করে রশিদের বাইরে টাকা নেওয়া, সারের সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা এবং গুদাম পর্যায়েই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি বরাদ্দ থেকে শুরু করে গুদাম থেকে সার উত্তোলন, ডিলার পর্যায়ে বিতরণ এবং খুচরা বাজারে বিক্রি—প্রতিটি ধাপে প্রকৃত মূল্য ও লেনদেনের হিসাব পর্যালোচনা করা হলে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগের উৎস বেরিয়ে আসতে পারে।

কৃষকেরা বলছেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে যে সার দিচ্ছে, সেটি যদি নির্ধারিত দামে মাঠপর্যায়ের কৃষকের হাতে না পৌঁছায়, তাহলে ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কতক্ষণ ঘুমানো ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কতক্ষণ ঘুমানো ভালো?

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

তাই শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান, নিয়মিত জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্রিয়তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হলে, ঘুম থেকে ওঠার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে বা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমঘুম ভাব থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনও জরুরি।
সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

তবে ঘুমের ঘাটতি যেমন শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনি নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও ডেকে আনতে পারে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং একই সঙ্গে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকেন, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি যারা অলস জীবনযাপন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে অসংক্রামক রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তাই ঘুমের সময়ের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপনও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত ঘুমে যেসব সমস্যা হতে পারে

বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুম বিষণ্ণতার সরাসরি কারণ—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কর্মক্ষমতা কমতে পারে

অতিরিক্ত ঘুমের ফলে ঘুম থেকে ওঠার পরও অনেকের মধ্যে অলসতা, ঝিমুনি ও ক্লান্তি থাকতে পারে। এতে দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন জীবনযাপন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওজন বাড়ার আশঙ্কা

দীর্ঘ সময় ঘুমানো এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের ফলে দৈনন্দিন ক্যালরি খরচ কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হলে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে শুধু বেশি ঘুমের কারণেই ওজন বাড়ে-এমন সরল সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে

নিয়মিত দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, তাদের মধ্যে হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।

অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে

বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণাগুলোর সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের মধ্যে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হতে পারে।

তবে গবেষণাগুলো মূলত সম্পর্ক বা association দেখায়; অতিরিক্ত ঘুমই যে সরাসরি অকালমৃত্যুর কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দীর্ঘ ঘুমের পেছনে বিষণ্ণতা, স্থূলতা, হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাধি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।

সালথার সেই সোহেলের অন্ধকার ঘরে আশার আলো, নতুন ঘর দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
সালথার সেই সোহেলের অন্ধকার ঘরে আশার আলো, নতুন ঘর দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

ফরিদপুরের সালথায় অন্ধকার গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই সোহেলের জন্য অবশেষে নতুন ঘরের কাজ শুরু হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আটঘর গ্রামে নতুন ঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এর আগে সোহেলের দুর্দশার চিত্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। সরেজমিনে সোহেলের পরিবারের অবস্থা দেখে ইউএনও তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।

নতুন ঘরের কাজ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সোহেলের পরিবারে এখন বইছে আনন্দের হাওয়া।

খুশি হয়ে সোহেল বলেন, “গোয়ালঘরের মতো ছোট্ট একটি ঘরে পরিবার নিয়ে কত কষ্টে দিন কাটিয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। নিজের কোনো জমি-ঘর নেই বলে সবসময় একটা ভয় কাজ করত। এখন ইউএনও স্যার আমাদের জন্য ঘর করে দিচ্ছেন। নতুন ঘর পাওয়ার আশা কখনো করিনি। আমি ও আমার পরিবার খুব খুশি। এই সহযোগিতা আমাদের নতুন করে বাঁচার সাহস দিয়েছে।”

সোহেলের স্ত্রী বলেন, “অসুস্থ শরীর নিয়ে এই ঘরে অনেক কষ্টে থেকেছি। বৃষ্টি হলে, রাতে ঘুমানোর সময়ও চিন্তা হতো। সন্তানদের নিয়ে খুব অসহায় লাগত। নতুন ঘর হবে শুনে মনে হচ্ছে আমাদেরও একটি নিরাপদ ঠিকানা হবে। ইউএনও স্যার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “সোহেলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে ছিল। এমন একটি পরিবারের পাশে প্রশাসন দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু ঘর নয়, তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্য দোকানের ব্যবস্থা করা হলে পরিবারটি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।”

ইউএনও দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সোহেলের পরিবারের বাস্তব অবস্থা দেখে আমরা তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থাও করা হবে। পরিবারটি যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

নতুন ঘরের কাজ শুরু হওয়ায় সোহেলের পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসানের পথ তৈরি হয়েছে। অন্ধকার গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষ থেকে এবার একটি নিরাপদ ঘরে যাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারটি।