খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এনসিপি নেতা হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এনসিপি নেতা হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর। জুলাই বিপ্লবীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা দিতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ছাত্র ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনী সমঝোতায় গেলেও ফরিদপুর-১ আসনে শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মাঠে থাকার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন অপু ঠাকুর।

এ বিষয়ে হাসিবুর রহমান অপু বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে এবং মানুষের ভালোবাসার মূল্য দিতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এ এলাকার দীর্ঘদিনের বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হতে চাই। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে তিনটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। “এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষ্যেই আমার রাজনীতিতে আসা। জুলাই বিপ্লবের তাজা রক্তক্ষরণ ও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষেই আমি কাজ করতে চাই,” বলেন তিনি।

অপু ঠাকুর জানান, দলীয় জোট গঠনের আগেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং সে অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। প্রথমে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করলেও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন তা বৈধ ঘোষণা করে, যা বর্তমানে বহাল রয়েছে।

তিনি বলেন, “দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তবে আমার এলাকার মানুষ চায় আমি নির্বাচনে থাকি। তারা আমাকে ছাড়তে রাজি নয়। জনগণ ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে আমি নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। দল কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেবো।”

এদিকে ফরিদপুর-১ আসনে তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ফরিদপুরে একদিনে আরও ৩০ জনের হাম শনাক্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে আরও ৩০ জনের হাম শনাক্ত

ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩০ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য থেকে এসব কথা জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭২৩ জনে। এই সময়ে প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই দুটি হাসপাতালে মোট ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২২ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন ভর্তি রয়েছেন।

​অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দুই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫০ জন রোগী। এ নিয়ে জেলাটিতে মোট ৫ হাজার ৪৯৭ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক হাম আক্রান্তের তালিকায় আলফাডাঙ্গায় ২৮, বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদরে ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন নথিভুক্ত রয়েছেন।

​প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে আসা সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে ২৩ জন ফরিদপুর জেলার এবং বাকি ৭ জন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার বাসিন্দা।

ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​এছাড়া লাশ গুম করার অভিযোগে তাদের প্রত্যেককে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ভোগ করতে হবে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। তবে বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামিদের পূর্বের হাজতবাস সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরিদা বেগম পলাতক ছিলেন। বাকি তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকায় রায় শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ মে রাতে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাড়ি থেকে বের হন হাসান শেখ। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরি করতেন। রাতে আর বাড়ি না ফেরায় তিনি নিখোঁজ থাকেন।

​নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ মে নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

​তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান।

​মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু জানান, পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর আয়সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

ফরিদপুরে বাথরুমের ছাদ ধসে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাথরুমের ছাদ ধসে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন বাথরুমের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে ছাদ ধসে মো. শাওন (১৭) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের বাখুন্ডা গ্রামের মঙ্গলকোট বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাওন ওই গ্রামের রুহুল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাখুন্ডা গ্রামের কাওছার মিয়ার বাড়িতে দুই দিন আগে বাথরুমের একটি নতুন ট্যাংকি নির্মাণ করা হয়। বুধবার সকালে শাওন ট্যাংকির ভেতরে ঢুকে সেন্টারিং ও বাঁশ খোলার কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের পাকা ছাদ ধসে তার ওপর পড়ে। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন।

​পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।