খুঁজুন
, ,

কীভাবে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি?

রাকিব হাসনাত
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
কীভাবে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি?

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা এখনো দেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় একটি বিস্ময় হিসেবেই অনেকের কাছে বিবেচিত, কারণ ওই নির্বাচনের আগে এই ধারণাই বেশি প্রকাশ পাচ্ছিলো যে–– আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।

কারও কারও মতে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার দলত্যাগের কারণে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা ছিল দুর্বল, সে তুলনায় আওয়ামী লীগ তখন সাংগঠনিকভাবে শক্তিধর ছিল। এ সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে ওই নির্বাচনে যেভাবে বিএনপি পরাজিত করেছিলো, তা দেশের রাজনীতির গতিধারাই পাল্টে দিয়েছিল।

এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে কার্যত দ্বি-দলীয় রাজনীতির সূচনা হয়, পাশাপাশি ওই সংসদের মাধ্যমেই বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল।

আবার সব দলের সম্মতির ভিত্তিতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার যে ধারণা- তারও আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ হয়েছিলো ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনেই।

সেই ভোটে বিএনপির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন নেতা বলছিলেন, নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দুই নেত্রী- শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার দেওয়া ভাষণের পরপরই তারা আঁচ করতে পারছিলেন যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বিএনপির অনুকূলে আসছে।

বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন যে, ওই ভাষণ ছাড়াও নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দলটির নেতাদের বক্তৃতা বিবৃতিতে নিজেদের বড়াই বা দম্ভের বহিঃপ্রকাশ বিএনপিকে সুবিধা করে দিয়েছিল।

এছাড়া তখনকার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘আপসহীনতার ভাবমূর্তি’ই ওই নির্বাচনে দলটির বিস্ময়কর সাফল্যের মূল কারণ বলে তারা মনে করেন।

প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল। আর আওয়ামী লীগকে ৮৪টি আসন নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়েছিল।

এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে ওই নির্বাচনে।

পরে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবং তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

বিএনপি জয় আঁচ করতে পেরেছিলো?

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এটা বিশ্বাস করা অনেকটা কঠিন ছিল যে আওয়ামী লীগ হারিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে।

মূলত এর আগে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নয় বছরে দলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় সাংগঠনিক অবস্থা ছিল খুবই নড়বড়ে।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, তখন তার কাছে মনে হয়েছিলো–– বিএনপি নেতারা বরং বিশ্বাস করছিলেন যে তারা শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলেই বসতে যাচ্ছেন।

“আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক বিস্তৃত ছিল। আর জেনারেল এরশাদ তার নয় বছরে বারবার বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করেছেন। অনেক নেতাকে ভাগিয়ে নিয়েছিলেন। ফলে বিএনপি আসলে অনেক জায়গায় প্রার্থীও ঠিকমতো দিতে পারেনি সেই নির্বাচনে। এসব কারণেই সবার মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে আওয়ামী লীগই জিতবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ওই নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ১৪০টি নির্বাচনী আসনের মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন দলটির এখনকার স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি ওই নির্বাচনের পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হওয়া মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয় তারা কোনোভাবে আঁচ করতে পেরেছিলেন কি-না কিংবা নির্বাচনের ফল দলের জন্য আসলেই বিস্ময় ছিল কি-না -এমন প্রশ্নের জবাবে মি. রায় বলেছেন, তারা নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে ‘ভালো বাতাস’ পাচ্ছিলেন।

“অনেকের কাছে বিস্ময়কর ফল মনে হলেও আমরা যারা আসনভিত্তিক কাজ করছিলাম তারা কিছুটা উপলব্ধি করছিলাম যে পরিস্থিতি অনুকূল হচ্ছে। রেডিও টিভিতে দুই নেত্রীর ভাষণের পর ঢাকায় মূলত আওয়ামী লীগ উড়ে গিয়েছিল,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকে বলে থাকেন যে, সেবার নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও আট দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা বেশ সমালোচিত হয়েছিলো। বরং সেই তুলনায় বিএনপি ও সাত দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার ভাষণ প্রশংসিত হচ্ছিলো।

সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু অবশ্য বলছিলেন, তখন রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকসহ সবার ধারণা ছিল শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই জিতবে।

“মনে হচ্ছিলো আওয়ামী লীগই জিতবে। আসলে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব তখন কেউ সেভাবে আঁচ করতে পারেনি। পরে অনেক বিশ্লেষণেই বিএনপির জয়ের কারণগুলো উঠে এসেছে,” বলছিলেন তিনি।

বিএনপির জয়ের ফ্যাক্টরগুলো কী ছিল

বিশ্লেষক ও রাজনীতিক সবাই মানছেন যে, পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনই ছিল দেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যা একটি দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচনের সময় তখন ইত্তেফাকের একটি সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, “এবারের নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য এই যে -এই প্রথম এদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইতেছে এবং আশা করা চলে যে, ভোটাররা নির্ভয়ে-নিরুপদ্রবে নিজ ইচ্ছামত প্রার্থী বাছাইয়ে তাহাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করিবেন”।

আর নির্বাচনের পর দোসরা মার্চ দৈনিক সংবাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিলো, “নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বহু আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ যাবত তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে এ ধরনের অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি”।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলছেন, আসলে ঠিকমতো সুযোগ পেলে মানুষ নিজের অজান্তেও সঠিক রায় দেয় এবং ১৯৯১ সালে ঠিক তা-ই ঘটেছিলো বলে তারা মনে করেন।

“এখানে বড় ফ্যাক্টর ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলন খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকায় তৈরি হওয়া জনপ্রিয়তা আর শেখ হাসিনার দাম্ভিকতাপূর্ণ বক্তব্য,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মি. রায় জানান, নির্বাচনের চার দিন আগে ঘরোয়া এক বৈঠকে তারা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক কথা বলেছিলেন মিসেস জিয়ার সাথে, তিনি সবাইকে আরও পরিশ্রম করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এছাড়া বিশ্লেষকদের মতে, সেবার নির্বাচনী প্রচারণায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তৃতার ভাষা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছিলো। এর বিপরীতে খালেদা জিয়া মূলত ভারতবিরোধী বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

দৈনিক ইত্তেফাক তার একটি বক্তব্যের শিরোনাম করেছিলো, “বাংলাদেশকে বিদেশীদের গোলামীর চুক্তিতে আবদ্ধ করিতে না চাহিলে ধানের শীষে ভোট দিন”।

গয়েশ্বর রায় দাবি করছেন, শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর ঢাকার আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো।

এছাড়া সেসময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এমন কেউ কেউ মনে করেন, ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ কিছু দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগেরই একটি প্রভাবশালী অংশ অবস্থান নেওয়ার প্রভাবও পড়েছিলো পুরো নির্বাচনী ফলাফলে।

“আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা শুনে তখন মনে হতো যে তারা ক্ষমতায় এসে পড়েছে। এটি মানুষ ভালোভাবে নেয়নি,” বলছিলেন মি. রায়।

১৯৯১ সালের ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনার একটি আসন থেকে জিতেছিলেন নূরুল ইসলাম মনি। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

“তখন যারা মোটামুটি বয়স্ক ভোটার তাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। আবার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাকে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় করেছিলো। এছাড়া নির্বাচনে আগে শেখ হাসিনার কথাবার্তাও সমালোচিত ছিল। আমার মনে হয় বিএনপির বিস্ময়কর জয়ের কারণ এগুলোই,” বলেছেন তিনি।

শেখ হাসিনার ভাষণে কী ছিল

১৯৯১ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জনসভা করে শেষ নির্বাচনী দেওয়ার পাশাপাশি রেডিও টেলিভিশনেও ভাষণ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। দুই নেত্রীর দুটি করে ভাষণই পরদিন সংবাদপত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

শেখ হাসিনা তার ৫০ মিনিটের ভাষণের অধিকাংশ সময়জুড়েই দুই সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করেন।

ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “জেনারেল জিয়া রেডিও টিভি ভাষণে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে সেনা ছাউনিতে ফিরে যাওয়ার ওয়াদা ভঙ্গ করে প্রথমে জাগদল, এরপর ফ্রন্ট, অতপর ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি এবং সবশেষে বিএনপি গঠন করেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনদল, ফ্রন্ট, ১৮ দফা বাস্তবায়ন কমিটি ও জাতীয় পার্টি গঠন করেন”।

ওই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে পরবর্তী জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলের তুলনামূলক চিত্র বর্ণনা করে ওই দুই শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করেন।

মূলত প্রতিপক্ষকে তীব্রভাবে আক্রমণ আর স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের ভুলত্রুটি এড়িয়ে যাওয়া ছাড়াও শেখ হাসিনার বলার ভঙ্গি নিয়ে তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার ভাষণে স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এবং জেনারেল এরশাদের নয় বছরের শাসনামলের তুমুল সমালোচনার পাশাপাশি তিনি বা তার দল সরকার গঠন করলে কী কী করবেন তার কিছু সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছিলেন।

মিসেস জিয়া তার ভাষণের একাংশে আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, “সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলো মানুষ ভুলতে পারে না। এই অত্যাচার, অবিচার, অপশাসনের পটভূমিতেই জাতীয়তাবাদী দলের উত্থান”।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনার চেয়ে খালেদা জিয়ার ভাষণের টোন বা কথা বলার ভঙ্গীতে ভোটের একটি আকুতি প্রকাশ পেয়েছিল, যা তখন অনেক ভোটারকে প্রভাবিত করতে পেরেছিল বলে তারা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া, সরকার গঠন

নির্বাচনের রাতে যখন বিএনপির জয় অনেকটাই নিশ্চিত, তখন আওয়ামী লীগসহ অনেকের মধ্যেই ছিল বিস্ময়।

শেখ হাসিনা পরে নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন, যা অনেকদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা কুড়িয়েছে।

“ভোটাররা আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু চিহ্নিত অগণতান্ত্রিক শক্তি সূক্ষ্ম কারচুপি, কালো টাকা, সন্ত্রাস এবং এক অদৃশ্য শক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে ভোটের রায়ের ফল পাওয়া থেকে ভোটারদের বঞ্চিত করেছে,” শেখ হাসিনা বলেছিলেন।

নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি, যদিও তার দলের নেতাকর্মীদের চাপেই আবার পদত্যাগ থেকে বিরত থাকেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের বিপর্যয় নিয়ে তখন দলটির নেতা ড. কামাল হোসেন দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “অতি আত্মবিশ্বাস, আত্মম্ভরিতা এবং কর্মবিমুখতার কারণেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে”।

“২৭শে ফেব্রুয়ারির অনেক আগেই আমরা আমাদের বিজয় সম্পর্কে অতিমাত্রায় বিশ্বাসী হইয়া উঠি। নির্বাচনকে আমরা আনুষ্ঠানিকতা ও সময়ের ব্যাপার হিসেবে ধরিয়া নেই। আমাদের নেতাকর্মীরা নিশ্চিত বিজয়ের আগাম পর্বে মাতোয়ারা হইয়া উঠে,” মি. হোসেন তার চিঠিতে লিখেছিলেন।

ওদিকে নির্বাচনের পর ১৯ মার্চ তখনকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। একই সঙ্গে ১০ জন মন্ত্রী ও ২১ জন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে মন্ত্রিপরিষদও গঠন করা হয়। ২০শে মার্চ খালেদা জিয়া শপথ গ্রহণ করেন।

এরপর দৈনিক সংবাদ ২২শে মার্চ সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করে, “…স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদলগুলো অবাধ নির্বাচনের পথ খুলে দিয়েছে। তারই পরিণতিতে এই প্রথমবারের মতো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক বিধিমতে মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে দেশ আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়েছে”।

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন যে, “মূলত খালেদা জিয়ার ক্যারিশমা আর শেখ হাসিনার দুর্বিনীত উক্তির কারণেই বিশাল সংখ্যা সুইং ভোটারদের ভোট বিএনপি পেয়েছে, যা আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত করেছে। আর ওই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে দ্বিদলীয় রাজনীতির সূচনা হয়েছিল, যা আগে ছিল না”।

প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনের আগে সবগুলো জাতীয় নির্বাচনই ক্ষমতাসীন দল সরকারে থেকে নির্বাচন করেছে। প্রতিটি নির্বাচনেই ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছিলো।

“স্বাধীন বাংলাদেশের চারটি নির্বাচন হয়েছিলো। ওই নির্বাচনগুলোর বৈশিষ্ট্যই ছিল যে সবসময় ক্ষমতাসীন দল জয়ী হয়েছে। ক্ষমতায় বসে দল বানিয়ে তারা জিতেছিল। ৯১ সালে নতুন অভিজ্ঞতা হলো- ক্ষমতায় ছিল নির্দলীয় সরকার,” বলছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু।

তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়া হত্যাকাণ্ড হলো এবং এরপর খালেদা জিয়ার ভূমিকা বিএনপির জয়ে ভূমিকা রেখেছে।

“সেই তুলনায় আওয়ামী লীগের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ছিল জনমনে। তারা এরশাদের অধীনে নির্বাচন করেছিলো। ফলে সবাই আওয়ামী লীগকে জয়ী ভাবলেও জনমনে ভিন্ন চিন্তাই বিস্তৃত হয়েছিল তখন, যার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে নির্বাচনের ফলে,” বলছিলেন তিনি।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী ৩য় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) ক্ষেত দেখতে গিয়েছিল। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে।

​শিশুটির রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করায়। ঘটনার পরদিনই নির্যাতিতা শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

​ঘটনা তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষী গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, “একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”

ফরিদপুরের নদী-খালজুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’, নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় মাছ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের নদী-খালজুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’, নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় মাছ

ফরিদপুরের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র অবাধ ব্যবহার দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। জেলার সদর, সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা ও আলফাডাঙ্গাসহ প্রায় সব উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার এই নিষিদ্ধ ফাঁদের বিস্তার ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব চায়না দুয়ারি বসিয়ে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করা হলেও মৎস্য বিভাগের দৃশ্যমান অভিযান খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও নদীর শাখা-প্রশাখায় বাঁশ, জাল ও প্লাস্টিকের জাল দিয়ে তৈরি চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। পানির প্রবাহের মুখে এসব ফাঁদ স্থাপন করায় ছোট পোনা থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা মাছ পর্যন্ত আটকা পড়ছে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা হৃদয় মোল্যা বলেন, “এ বছর মৎস্য বিভাগকে চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালাতে দেখিনি। নদী-খালে অসংখ্য চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। এগুলো না সরালে কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।”

সালথা উপজেলার রহিম শেখ বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে জাল ফেললেই নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলার আব্দুল জলিলের ভাষ্য, “অনেক সময় প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি বসানো হয়। স্থানীয় লোকজন জানালেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নিয়মিত অভিযান হলে এভাবে কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করতে সাহস পেত না।”

বোয়ালমারী উপজেলার হায়দার মাতুব্বর বলেন, “চায়না দুয়ারি শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা পর্যন্ত ধরে ফেলে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কায়সার খাঁন বলেন, “সরকার প্রতি বছর মাছের উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু চায়না দুয়ারির মতো নিষিদ্ধ ফাঁদ বন্ধ করা না গেলে সেই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।”

আলফাডাঙ্গা উপজেলার কেরামত আলী বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে হলে শুধু অভিযান চালালেই হবে না, যারা বারবার এই ফাঁদ ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

চরভদ্রাসন উপজেলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকর্মী আবদুস সবুর কাজল বলেন, “চায়না দুয়ারি এখন ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিলের জন্য নীরব দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ ফাঁদে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, এমনকি রেণুপোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছও ধরা পড়ছে। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নয়, নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আগামী প্রজন্ম দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি শুধু বইয়ের পাতাতেই দেখতে পাবে।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি এমন একটি স্থায়ী ফাঁদ, যা পানির প্রবাহের মুখে বসানো হয়। এতে বড় মাছের পাশাপাশি রেণুপোনা, কিশোর মাছ এবং ডিমওয়ালা মা মাছও আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের ফাঁদ ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, জেল অথবা উভয় ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। তারপরও সহজে বেশি মাছ ধরার আশায় অনেকেই এই অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি নির্মূল করা সম্ভব নয়। প্রথমেই এসব চায়না দুয়ারি কোথায় তৈরি ও সরবরাহ হচ্ছে, সেই উৎস চিহ্নিত করে উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু দুয়ারি জব্দ বা ধ্বংস করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। গত পাঁচ বছরে ফরিদপুরে চায়না দুয়ারির ব্যবহার ভয়াবহভাবে বেড়েছে। দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে আরও কঠোর ও নিয়মিত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”*

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মৎস্যজীবী সংগঠন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ফাঁদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতাও গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিলে আবারও দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাইতো, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদকে রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমরা চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ফাঁদ অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সদরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবন করে এলাকাবাসীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) নামে দুই তরুণকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া এলাকার রাজার চর ওয়াজ হাওলাদার কান্দি এলাকায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আমিনুল কাজী উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের মো. আশরাফ কাজী ছেলে ও আজিজুল শেখ একই গ্রামের খলিল শেখের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) প্রায়ই মাদক সেবন করে পরিবারসহ এলাকার আশপাশের লোকজনের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল ও অপ্রীতিকর আচরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে বুধবারও তারা মাদক ক্রয় করার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশীকালে দুজনের কাছ থেকে ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।