খুঁজুন
, ,

রাতে পায়ে টান লাগে কেন? শরীর কী সংকেত দিচ্ছে জানেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ
রাতে পায়ে টান লাগে কেন? শরীর কী সংকেত দিচ্ছে জানেন?

রাতের গভীর ঘুম ভেঙে হঠাৎ পায়ের রগে তীব্র টান, এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই আতঙ্কের। টান লাগার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় প্রচণ্ড ব্যথা ও অসহনীয় যন্ত্রণা। কখনো কখনো ব্যথার তীব্রতায় নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও কিছুক্ষণ পর নিজে থেকেই টান ছেড়ে যায়, তবে ওই সময়টুকু যেন একেবারেই অসহ্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রাতের ঘুম ভেঙে যাওয়ায় পরদিন শরীরেও তার প্রভাব পড়ে।

ঘুমের মধ্যে এমন পায়ে টান লাগার সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভোগেন। কিন্তু বেশিভাগ মানুষই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। প্রশ্ন হলো, কেন ঘুমের মধ্যেই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়? এটি কি নিছক শারীরিক ক্লান্তি, নাকি কোনো রোগের আগাম বার্তা? এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়ই বা কী?

কেন হয় ঘুমের মধ্যে পায়ে টান?

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ঘুমের মধ্যে পায়ে টান লাগার পেছনে এখনো নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ ঠিক কোন কারণে এই সমস্যা হয়, তা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনো গবেষণা চলমান। তবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু শারীরিক সমস্যা ও অবস্থার সঙ্গে এই লক্ষণটি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে টান লাগার প্রবণতা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও এই সমস্যার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ক্রনিক রোগের সঙ্গেও এই উপসর্গটির সম্পর্ক রয়েছে।

স্নায়ুর সমস্যা

প্রাথমিকভাবে একে স্নায়ুজনিত সমস্যা বলেই মনে করা হয়। পেশি ও স্নায়ুর মধ্যে স্বাভাবিক সমন্বয় ব্যাহত হলে পায়ে টান ধরতে পারে। বিশেষ করে রাতের দিকে এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া

অনেক সময় পায়ের পেশিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সঞ্চালন হয় না। ফলে পেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। এই অক্সিজেনের অভাব থেকেই হঠাৎ পায়ের রগে টান লাগতে পারে।

স্ট্রেস ও অতিরিক্ত চাপ

পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনো দিন খুব বেশি হাঁটা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা শরীরচর্চার সময় পায়ের পেশিতে বেশি চাপ পড়লে রাতে ঘুমের মধ্যে টান ধরার আশঙ্কা থাকে।

এটি কি কোনো ক্রনিক রোগের লক্ষণ?

চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের মধ্যে নিয়মিত পায়ে টান লাগা কিছু দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রোগের লক্ষণও হতে পারে।

কিডনির সমস্যা

কিডনির সমস্যা থাকলে প্রস্রাবের বেগ ও পরিমাণ কমে যেতে পারে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে অনেক সময় নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। সেই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও পায়ে টান ধরতে পারে।

ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস

রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি থাকলে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘ডায়াবেটিক নার্ভ ড্যামেজ’ বলা হয়। এর ফলেও ঘুমের মধ্যে পায়ে টান লাগার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপের কারণেও অনেক সময় ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পার্কিনসনস ডিজিজ

এটি স্নায়ুর একটি বিশেষ ও জটিল রোগ, যেখানে হাত-পা আক্রান্ত হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেও ঘুমের মধ্যে পায়ে টান লাগার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি এ ধরনের সমস্যা ঘন ঘন হতে থাকে বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র : এবিপি নিউজ

আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতৃবৃন্দ।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

​এ সময় ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আজিজ, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ শাহরিয়ার আজম ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রঞ্জুসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সাক্ষাৎকালে নেতারা ইউএনওর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। গবেষকদের মতে, শরীরে জমে থাকা চর্বির বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত শ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের দুই গবেষক ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানান, শরীরের চর্বি কমার প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন খাবার থেকে পাওয়া শক্তির চেয়ে শরীরের শক্তির চাহিদা বেশি হয়। তখন শরীর জমিয়ে রাখা চর্বি থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।

খাবারের চর্বি হজমের পর ফ্যাটি অ্যাসিডে ভেঙে যায়। শরীর প্রয়োজনীয় অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। অতিরিক্ত অংশ ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়ে চর্বি কোষে জমা থাকে।

শরীরে মূলত দুই ধরনের চর্বি জমে- ত্বকের নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট এবং শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমা ভিসেরাল ফ্যাট।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি হলে হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতের মাধ্যমে চর্বি কোষে জমে থাকা ট্রাইগ্লিসারাইড ভাঙতে শুরু করে। এরপর ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় গিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এ সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শরীর থেকে হারানো চর্বির প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়ে শ্বাসের সঙ্গে বের হয়ে যায়। বাকি প্রায় ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন শারীরিক তরলের মাধ্যমে বের হয়।

তবে এই হারগুলো আনুমানিক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। শরীরের সব ধরনের নির্গমন নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা কঠিন।

গবেষকরা আরও বলেন, দ্রুত শ্বাস নিলেই চর্বি কমে না। শ্বাস-প্রশ্বাস চর্বি ভাঙার কারণ নয়; বরং চর্বি ভাঙার পর তৈরি হওয়া পদার্থ শরীর থেকে বের হওয়ার একটি পথ।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করাই চর্বি কমানোর মূল বিষয়। খাবার নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ঘাটতি তৈরি করা যায়।

সূত্র: ইউরো নিউজ

সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

ফরিদপুরের সালথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া বিলে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিন।

​অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।

​একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জালের অশুভ প্রভাব থেকে দেশীয় প্রজাতি রক্ষায় স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।