খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

রাতে পায়ে টান লাগে কেন? শরীর কী সংকেত দিচ্ছে জানেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৭ এএম
রাতে পায়ে টান লাগে কেন? শরীর কী সংকেত দিচ্ছে জানেন?

রাতের গভীর ঘুম ভেঙে হঠাৎ পায়ের রগে তীব্র টান, এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই আতঙ্কের। টান লাগার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় প্রচণ্ড ব্যথা ও অসহনীয় যন্ত্রণা। কখনো কখনো ব্যথার তীব্রতায় নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও কিছুক্ষণ পর নিজে থেকেই টান ছেড়ে যায়, তবে ওই সময়টুকু যেন একেবারেই অসহ্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রাতের ঘুম ভেঙে যাওয়ায় পরদিন শরীরেও তার প্রভাব পড়ে।

ঘুমের মধ্যে এমন পায়ে টান লাগার সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভোগেন। কিন্তু বেশিভাগ মানুষই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। প্রশ্ন হলো, কেন ঘুমের মধ্যেই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়? এটি কি নিছক শারীরিক ক্লান্তি, নাকি কোনো রোগের আগাম বার্তা? এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়ই বা কী?

কেন হয় ঘুমের মধ্যে পায়ে টান?

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ঘুমের মধ্যে পায়ে টান লাগার পেছনে এখনো নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ ঠিক কোন কারণে এই সমস্যা হয়, তা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনো গবেষণা চলমান। তবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু শারীরিক সমস্যা ও অবস্থার সঙ্গে এই লক্ষণটি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে টান লাগার প্রবণতা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও এই সমস্যার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ক্রনিক রোগের সঙ্গেও এই উপসর্গটির সম্পর্ক রয়েছে।

স্নায়ুর সমস্যা

প্রাথমিকভাবে একে স্নায়ুজনিত সমস্যা বলেই মনে করা হয়। পেশি ও স্নায়ুর মধ্যে স্বাভাবিক সমন্বয় ব্যাহত হলে পায়ে টান ধরতে পারে। বিশেষ করে রাতের দিকে এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া

অনেক সময় পায়ের পেশিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সঞ্চালন হয় না। ফলে পেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। এই অক্সিজেনের অভাব থেকেই হঠাৎ পায়ের রগে টান লাগতে পারে।

স্ট্রেস ও অতিরিক্ত চাপ

পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনো দিন খুব বেশি হাঁটা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা শরীরচর্চার সময় পায়ের পেশিতে বেশি চাপ পড়লে রাতে ঘুমের মধ্যে টান ধরার আশঙ্কা থাকে।

এটি কি কোনো ক্রনিক রোগের লক্ষণ?

চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের মধ্যে নিয়মিত পায়ে টান লাগা কিছু দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রোগের লক্ষণও হতে পারে।

কিডনির সমস্যা

কিডনির সমস্যা থাকলে প্রস্রাবের বেগ ও পরিমাণ কমে যেতে পারে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে অনেক সময় নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। সেই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও পায়ে টান ধরতে পারে।

ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস

রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি থাকলে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘ডায়াবেটিক নার্ভ ড্যামেজ’ বলা হয়। এর ফলেও ঘুমের মধ্যে পায়ে টান লাগার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপের কারণেও অনেক সময় ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পার্কিনসনস ডিজিজ

এটি স্নায়ুর একটি বিশেষ ও জটিল রোগ, যেখানে হাত-পা আক্রান্ত হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেও ঘুমের মধ্যে পায়ে টান লাগার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি এ ধরনের সমস্যা ঘন ঘন হতে থাকে বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র : এবিপি নিউজ

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।