খুঁজুন
, ,

জিমে না গিয়েই ফিট ও শক্তিশালী থাকার উপায়, জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
জিমে না গিয়েই ফিট ও শক্তিশালী থাকার উপায়, জেনে নিন

অনেকের বাসায় ডাম্বেল বা জিমের যন্ত্রপাতি নেই। কিন্তু তাই বলে শক্তি বাড়ানো অসম্ভব নয়। আসলে আপনার শরীরই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়ামের মাধ্যম। এখনো অনেকেই মনে করেন শক্তি বাড়াতে হলে ভারী ওজন তুলতেই হবে। আবার কেউ কেউ একই ধরনের বডি ওয়েট ব্যায়াম দীর্ঘদিন করে ফল না পেয়ে হতাশ হন।

বাস্তবে পেশি ওজন নয়, চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায় শক্তিশালী হয়। নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে কীভাবে সেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে হয়, তা বুঝতে পারলেই যে কোনো জায়গায় কার্যকরভাবে শক্তি বাড়ানো সম্ভব।

ওজন ছাড়াই শক্তি বাড়ানোর বিজ্ঞান

শক্তি বাড়ানোর মূল নীতি হলো পেশিকে তার অভ্যস্ত সীমার বাইরে কাজ করানো। এতে পেশি ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং আরও শক্তিশালী হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রগ্রেসিভ ওভারলোড। এটি শুধু ওজন তোলার ক্ষেত্রেই নয়, বডি ওয়েট ব্যায়ামেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

বডি ওয়েট ব্যায়ামে এই চ্যালেঞ্জ তৈরি করা যায় ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গি ব্যবহার করে, শরীরের কোণ পরিবর্তন করে, ব্যায়াম ধীরে করে বা কিছুক্ষণ ধরে রেখে। এখানে দুটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো কতক্ষণ পেশি সক্রিয় থাকে, আরেকটি হলো পেশির ক্লান্তি।

ব্যায়াম ধীরে করলে, নিচে বা ওপরে কিছুক্ষণ থামলে কিংবা একই ভঙ্গিতে ধরে রাখলে পেশির ওপর চাপ বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বাড়তি সময় ধরে চাপ পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। একইভাবে নিরাপদভাবে ক্লান্তি পর্যন্ত পৌঁছানোও পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তি বাড়ানোর সংকেত দেয়।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ভূমিকা

সঠিক শ্বাসপ্রশ্বাস শক্তি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্কোয়াট থেকে ওঠা বা পুশআপ দেওয়ার সময় যখন জোর প্রয়োগ করা হয়, তখন শ্বাস ছাড়লে শরীর বেশি স্থিতিশীল থাকে। এতে পেট ও কোমরের পেশি সক্রিয় থাকে এবং ব্যায়াম আরও কার্যকর হয়।

কীভাবে ধাপে ধাপে বডি ওয়েট ব্যায়াম বাড়াবেন

একই ব্যায়াম দীর্ঘদিন একইভাবে করলে অগ্রগতি থেমে যায়। তাই ধীরে ধীরে ব্যায়ামের কঠিন মাত্রা বাড়ানো জরুরি। নিচে শরীরের প্রধান অংশগুলোর জন্য সহজ থেকে তুলনামূলক কঠিন ব্যায়ামের ধাপ দেওয়া হলো। যেটি করতে কষ্ট হয় কিন্তু নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, সেটি বেছে নিন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন প্রতিটি ব্যায়াম আট থেকে বারো বার করুন। যেগুলো ধরে রাখতে হয়, সেগুলো বিশ থেকে ত্রিশ সেকেন্ড রাখার চেষ্টা করুন।

শরীরের নিচের অংশের ব্যায়াম

ওয়াল সিট – দেয়ালের সঙ্গে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটু ভাঁজ করে বসার মতো অবস্থায় থাকুন। গভীর শ্বাস নিতে নিতে অবস্থান ধরে রাখুন।

বডি ওয়েট স্কোয়াট – পা সামান্য ফাঁক করে দাঁড়িয়ে ধীরে নিচে বসুন এবং শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে উঠে দাঁড়ান।

স্প্লিট স্কোয়াট – এক পা পেছনে রেখে দুই হাঁটু ভাঁজ করুন। সামনে থাকা পায়ের গোড়ালিতে ভর দিয়ে আবার উঠে আসুন।

চ্যালেঞ্জ বাড়াতে চাইলে নিচে নামার সময় আরও ধীরে করুন বা নিচে কিছুক্ষণ থামুন।

শরীরের ওপরের অংশের ব্যায়াম

ইনক্লাইন পুশ আপ – টেবিল বা উঁচু কোনো স্থানে হাত রেখে শরীর সোজা করে পুশ আপ করুন।

পুশ আপ – মেঝেতে শরীর সোজা রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে পুশ আপ দিন।

ডিক্লাইন পুশ আপ – পা একটু উঁচু জায়গায় রেখে পুশ আপ করুন। এতে চাপ আরও বাড়বে।

কোর বা পেটের ব্যায়াম

ডেড বাগ – চিৎ হয়ে শুয়ে এক হাত ও বিপরীত পা ধীরে নামান, পিঠ যেন না বাঁকে।

লেগ লোয়ার – দুই পা একসঙ্গে ধীরে নামান, পেট শক্ত রেখে।

হলো বডি হোল্ড – চিৎ হয়ে শুয়ে হাত ও পা মেঝের ওপর থেকে তুলে ধরে রাখুন, পেট শক্ত রাখুন।

জিমে না গিয়েও শক্তিশালী হওয়া পুরোপুরি সম্ভব। সঠিক কৌশল, ধাপে ধাপে অগ্রগতি, সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাস এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের শরীরের ওজনই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়ামের মাধ্যম। একটু ধৈর্য আর সচেতনতা রাখলে ঘরেই গড়ে তোলা যায় শক্তিশালী ও সুস্থ শরীর।

সূত্র : সিএনএন

বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতন উপলক্ষে বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির(একাংশ) আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বোয়ালমারী রেলস্টেশন থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে পৌরসদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। র‍্যালী শেষে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে বাঙালি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না। আর কোনোদিন যাতে জুলাইয়ের জঘন্যতম দিন না আসে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, মফিজুর কাদের খান মিল্টন, জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেন, জাসাসের সাবেক সভাপতি শাইন আনোয়ার, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব হাসান সজীব, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক যাকারিয়া মোল্লা সুমন, জুয়েল প্রমুখ।

ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনার পাশাপাশি জেলা বিএনপির উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (০৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের হাসিবুল হাসান লাভলু সড়কে অবস্থিত ‘শহীদ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সর্বপ্রথম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিএনপি এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকারীদের অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বন বিভাগ, জেলা তথ্য অফিস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নির্বাচন অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় যুব শক্তি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।

র‌্যালিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, দেলোয়ার হোসেন দিলা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান সবুজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয়ের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যাতে আর কোনো স্বৈরাচার বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।

এছাড়া ফ্যাসিবাদ পতন দিবস (৫ আগস্ট) উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের থানা রোড়ে (ফলপট্রি) এক বিশাল গন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

ফরিদপুরে রেলস্টেশন থেকে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই হারিয়ে যাওয়া তিন বছরের মো. বাপ্পি নামে এক সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন মা শারমীন আক্তার। ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি তার কোনো খোঁজ। শেষ আশ্রয় হিসেবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সন্তানকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশুটির মা।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় বুধবার (৫ আগস্ট) করা জিডি সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিশু মো. বাপ্পির (৩) গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সিংহ প্রতাপ গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর (কি পাইলাম মোড়) এলাকায় বসবাস করছিল সে।

শিশুটির মা শারমীন আক্তার বনানী জিডিতে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ফরিদপুর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে তার একমাত্র ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জিডিতে শিশুটির শারীরিক বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাপ্পির গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখম-ল গোলাকার, মাথার চুল কালো ও ছোট এবং উচ্চতা প্রায় ২ ফুট ৩ ইঞ্চি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল একটি হাফ প্যান্ট ও বেগুনি রঙের হাফহাতা গেঞ্জি। বয়স কম হওয়ায় সে নিজের নাম ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় বলতে পারে না শিশুটি।

মা শারমীন আক্তার বনানী বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য সব জায়গায় খুঁজেছি। এখনও কোনো খোঁজ পাইনি। কেউ যদি আমার ছেলেকে দেখে থাকেন বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে দয়া করে আমাকে (মোবাইল নম্বর ০১৭২৭-৪৬৬৩৫৪) বা নিকটস্থ থানায় জানাবেন।”

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, জিডি গ্রহণের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুটির সন্ধান পেতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি শিশুটির সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।