খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

জিমে না গিয়েই ফিট ও শক্তিশালী থাকার উপায়, জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ এএম
জিমে না গিয়েই ফিট ও শক্তিশালী থাকার উপায়, জেনে নিন

অনেকের বাসায় ডাম্বেল বা জিমের যন্ত্রপাতি নেই। কিন্তু তাই বলে শক্তি বাড়ানো অসম্ভব নয়। আসলে আপনার শরীরই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়ামের মাধ্যম। এখনো অনেকেই মনে করেন শক্তি বাড়াতে হলে ভারী ওজন তুলতেই হবে। আবার কেউ কেউ একই ধরনের বডি ওয়েট ব্যায়াম দীর্ঘদিন করে ফল না পেয়ে হতাশ হন।

বাস্তবে পেশি ওজন নয়, চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায় শক্তিশালী হয়। নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে কীভাবে সেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে হয়, তা বুঝতে পারলেই যে কোনো জায়গায় কার্যকরভাবে শক্তি বাড়ানো সম্ভব।

ওজন ছাড়াই শক্তি বাড়ানোর বিজ্ঞান

শক্তি বাড়ানোর মূল নীতি হলো পেশিকে তার অভ্যস্ত সীমার বাইরে কাজ করানো। এতে পেশি ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং আরও শক্তিশালী হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রগ্রেসিভ ওভারলোড। এটি শুধু ওজন তোলার ক্ষেত্রেই নয়, বডি ওয়েট ব্যায়ামেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

বডি ওয়েট ব্যায়ামে এই চ্যালেঞ্জ তৈরি করা যায় ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গি ব্যবহার করে, শরীরের কোণ পরিবর্তন করে, ব্যায়াম ধীরে করে বা কিছুক্ষণ ধরে রেখে। এখানে দুটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো কতক্ষণ পেশি সক্রিয় থাকে, আরেকটি হলো পেশির ক্লান্তি।

ব্যায়াম ধীরে করলে, নিচে বা ওপরে কিছুক্ষণ থামলে কিংবা একই ভঙ্গিতে ধরে রাখলে পেশির ওপর চাপ বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বাড়তি সময় ধরে চাপ পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। একইভাবে নিরাপদভাবে ক্লান্তি পর্যন্ত পৌঁছানোও পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তি বাড়ানোর সংকেত দেয়।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ভূমিকা

সঠিক শ্বাসপ্রশ্বাস শক্তি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্কোয়াট থেকে ওঠা বা পুশআপ দেওয়ার সময় যখন জোর প্রয়োগ করা হয়, তখন শ্বাস ছাড়লে শরীর বেশি স্থিতিশীল থাকে। এতে পেট ও কোমরের পেশি সক্রিয় থাকে এবং ব্যায়াম আরও কার্যকর হয়।

কীভাবে ধাপে ধাপে বডি ওয়েট ব্যায়াম বাড়াবেন

একই ব্যায়াম দীর্ঘদিন একইভাবে করলে অগ্রগতি থেমে যায়। তাই ধীরে ধীরে ব্যায়ামের কঠিন মাত্রা বাড়ানো জরুরি। নিচে শরীরের প্রধান অংশগুলোর জন্য সহজ থেকে তুলনামূলক কঠিন ব্যায়ামের ধাপ দেওয়া হলো। যেটি করতে কষ্ট হয় কিন্তু নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, সেটি বেছে নিন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন প্রতিটি ব্যায়াম আট থেকে বারো বার করুন। যেগুলো ধরে রাখতে হয়, সেগুলো বিশ থেকে ত্রিশ সেকেন্ড রাখার চেষ্টা করুন।

শরীরের নিচের অংশের ব্যায়াম

ওয়াল সিট – দেয়ালের সঙ্গে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটু ভাঁজ করে বসার মতো অবস্থায় থাকুন। গভীর শ্বাস নিতে নিতে অবস্থান ধরে রাখুন।

বডি ওয়েট স্কোয়াট – পা সামান্য ফাঁক করে দাঁড়িয়ে ধীরে নিচে বসুন এবং শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে উঠে দাঁড়ান।

স্প্লিট স্কোয়াট – এক পা পেছনে রেখে দুই হাঁটু ভাঁজ করুন। সামনে থাকা পায়ের গোড়ালিতে ভর দিয়ে আবার উঠে আসুন।

চ্যালেঞ্জ বাড়াতে চাইলে নিচে নামার সময় আরও ধীরে করুন বা নিচে কিছুক্ষণ থামুন।

শরীরের ওপরের অংশের ব্যায়াম

ইনক্লাইন পুশ আপ – টেবিল বা উঁচু কোনো স্থানে হাত রেখে শরীর সোজা করে পুশ আপ করুন।

পুশ আপ – মেঝেতে শরীর সোজা রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে পুশ আপ দিন।

ডিক্লাইন পুশ আপ – পা একটু উঁচু জায়গায় রেখে পুশ আপ করুন। এতে চাপ আরও বাড়বে।

কোর বা পেটের ব্যায়াম

ডেড বাগ – চিৎ হয়ে শুয়ে এক হাত ও বিপরীত পা ধীরে নামান, পিঠ যেন না বাঁকে।

লেগ লোয়ার – দুই পা একসঙ্গে ধীরে নামান, পেট শক্ত রেখে।

হলো বডি হোল্ড – চিৎ হয়ে শুয়ে হাত ও পা মেঝের ওপর থেকে তুলে ধরে রাখুন, পেট শক্ত রাখুন।

জিমে না গিয়েও শক্তিশালী হওয়া পুরোপুরি সম্ভব। সঠিক কৌশল, ধাপে ধাপে অগ্রগতি, সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাস এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের শরীরের ওজনই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়ামের মাধ্যম। একটু ধৈর্য আর সচেতনতা রাখলে ঘরেই গড়ে তোলা যায় শক্তিশালী ও সুস্থ শরীর।

সূত্র : সিএনএন

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর